দুরন্ত দিন
আলমগীর কবির
রোদ ঝলমল রোদ ঝলমল কী দুরন্ত দিন
আকাশে নেই ছিটেফোঁটা মেঘের কোনো চিন।
মেঘের দেখা নেই বলে কি আকাশের মুখ ভার?
মাঠ নদী বন কখন পাবে বৃষ্টি উপহার!
চাষীর মুখের হাসি এখন হয়ে গেছে ম্লান,
ধান নিয়ে আর গান আসে না বিচলিত প্রাণ!
মাঠ চৌচির বৃষ্টি কোথায় কই পালালো মেঘ?
হঠাৎ করে বাড়তে থাকে দস্যি হাওয়ার বেগ।
বিকেল বেলা আকাশ কোণে কালো মেঘের সাজ,
বন্ধ হলো লুকোচুরি রোদের কারুকাজ।
দস্যি ঘোড়ার মতো নাচে কালবৈশাখী ঝড়,
ঢেউয়ের মতো দুলতে থাকে বাবুই পাখির ঘর।
বাঁচতে হলে সুখে
ইলিয়াস পাটোয়ারী
আতা গাছ বা তোতাপাখি
নেই সেই আগের মতো,
গাছ কেটে রোজ করছে সাবাড়
পারছে যেজন যতো।
সবাই যেন ভুলেই গেছে
এই ধরনীর বুকে,
বৃক্ষ রোপণ চাই করা চাই
বাঁচতে হলে সুখে।
একটা যদি গাছ কাটে কেউ
তিনটা সাথে সাথে,
লাগিয়ে দিলে বায়ু দূষণ
আসবে কমে তাতে।
ভরে যাবে সবুজে দেশ
বাঁধবে পাখি বাসা,
পূরণ হবে সুস্থ দেহে
বেঁচে থাকার আশা।
মনের মাঝে সুখের স্বপন
শচীন্দ্র নাথ গাইন
সেই মেয়েটার কষ্টে কাটে কেউ রাখে না খোঁজ
শাকান্নের কোনোরকম খাবার জোটে রোজ।
মাছ-মাংস কোর্মা-পোলাও ওইসবে নেই ঝোঁক
দামি খাদ্য দেখলে সেদিক ফিরায় না দুই চোখ।
জমিজিরাত খুব বেশি নেই ভাগে-বর্গায় চাষ
নিত্য অভাব ধরলে ঘিরে ওঠে নাভিশ্বাস।
বাবার সাথে ক্ষেতে খাটতে নেই তো অভিমান
কাস্তে হাতে নিড়াতে যায়, যায় কাটতে ধান।
টিনের ফুটো চালে পড়ে কলকলিয়ে জল
দেয় ভিজিয়ে কাঁথা-বালিশ বৃষ্টি অবিরল।
ক্লাসের পড়া শেষ করতে সময় মেলে কম
বাড়ির কাজে খুব খাটুনি আটকে আসে দম।
মনের মাঝে তবু বোনে সুখ-স্বপ্নের জাল
হয়তো অভাব বিদায় নেবে থাকবে না এ হাল।
স্বর্ণালি দিন আসবে কাছে দুঃখ হবে দূর
বুকের মাঝে বাজবে সেদিন মধুর বীণার সুর।
ঘুমিয়ে যখন দ্বিতল বাড়ি
সুমনা দাশ শান্তা
ঘুমিয়ে যখন দ্বিতল বাড়ি
তুমিই কেবল জেগে থাকো
ছোট-বড় সব ছাড়িয়ে
মাথাখানি উর্দ্ধে রাখো।
তুমি কি ভাই সবার বড়
গোঁফঅলা সেই পাড়ার ছেলে
আলতো হেসে বন্ধুবেশে
দাড়াও এসে বিপদ এলে।
আমার কাছে বন্ধু তুমি
খামখেয়ালি প্রতিদিনে
তোমার আমার গল্প মিলে
অলস দুপুর সন্ধ্যে চিনে।
ঘুম ভেঙে রোজ তোমায় বলি
বন্ধু তুমি কেমন আছো?
আসুক যতো ঝড়ঝাপ্টা
গায়ে হাওয়া লাগিয়ে বাঁচো।
পাখি খায় খোকন চায়
কাজল নিশি
ও পাখি ভাই রোজই তো খাও
গাছের পাকা আম,
আমের শেষে খাও যে আবার
মিঠে পাকা জাম।
তোমার খাওয়া দেখতে থাকি
আমি প্রতিদিন,
আমের রস আর জামের রসে
মুখ করো রঙিন!
তোমার মতো থাকলে ডানা
গাছের ডালে বসে,
আমার মুখও হতো রঙিন
পাকা আমের রসে।
তুমি কি খুব দুষ্ট পাখি?
একাই একাই খাও!
গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছি
একটু তো ভাই চাও।
চলো সবাই গাছ লাগাই
সুব্রত চৌধুরী
ক্লান্ত শরীর দেয় জুড়িয়ে বন্ধু আমার শীতল ছায়ায়
ঝড়ে ঝঞ্ঝায় রক্ষা করে মায়ের মতো স্নেহ মায়ায়।
লুকোচুরি গাছের আড়ে ঝোপে ঝাড়ে পথের ধারে
দোলনা চড়ি গাছের শাখে সইয়ের সাথে নদীর পাড়ে।
বন্ধু আমার নেয় যে শুষে বাতাসের ওই বিষের কার্বন
ফুলে ফলে দেয় ভরিয়ে সবার যতো পুজো পার্বন ।
পরিবেশের ভারসাম্যটা বজায় রাখে বন্ধু গাছে
অক্সিজেনের অভাব হলে প্রাণীকুলে কেমনে বাঁচে?
তোমার আমার প্রিয় পাখি বাসা বাঁধে গাছের বুকে
পাখির ছানার কিচিরমিচির বেঁচে থাকার স্বপ্ন সুখে।
গাছের ক্ষতি করবো না কেউ তাদেরও তো জীবন আছে
গাছের বুকে মারলে কুড়াল পক্ষীকুলের ক্ষতি পাছে।
গাছের শেকড় পথ্য জোগায় রোগে শোকে উঠি সেরে
এসব ভেবে গাছের চারা দাও না তাদের উঠতে বেড়ে ।
আমরা যারা বন্ধু গাছের গাছকে যারা ভালোবাসি
একটি করে গাছ লাগাবো সবার মুখে ফুটবে হাসি।





















































