ফিচার এলাটিং বেলাটিং

মাছ ও ব্যাঙের বন্ধুত্ব

আনোয়ারুল ইসলাম »

সবুজে ঘেরা সুন্দর একটি লাল পানির পুকুর। পুকুরটি ছিল পীরগাছার ইটাকুমারি জমিদার বাড়ির পাশেই। সেখানে ছিল শাপলা ফুল, কচুরিপানা আর ছোট-বড় অনেক মাছ। সেই পুকুরেই থাকত এক দুষ্টু ব্যাঙ। ব্যাঙটি সারাদিন লাফালাফি করত, গান গাইত আর পুকুরের ধারে বসে রোদেলা সূর্য দেখত।
একদিন সে পানির দিকে তাকিয়ে দেখল, একটি ছোট্ট মাছ পানিতে দ্রুত সাঁতার কাটছে।
ব্যাঙ মাছকে বলল, ‘মাছ ভাই, তুমি আমার বন্ধু হবে?’
মাছ বলল, ‘বন্ধু হব, তবে একটা শর্ত আছে ভাই।’
ব্যাঙ অবাক হয়ে বলল, ‘কী শর্ত তোমার?’
মাছ বলল, ‘তুমি আমাকে লাফ শেখাবে আর আমি তোমাকে সাঁতার শেখাব।’
ব্যাঙ খুব খুশি হয়ে বলল, ‘আচ্ছা, ঠিক আছে। দু’জনেরই তো উপকার হবে।’
পরের দিন ব্যাঙ সাঁতার শিখবে। খুব আগ্রহে পানির কাছে গেল।
মাছ বলল, ‘ঠিক আছে, এবার তুমি পানির নিচে ডুব দাও।’
ব্যাঙ সাহস করে পানিতে ডুব দিল।
এক সেকেন্ড —
দুই সেকেন্ড —
তারপরেই সে চিৎকার করে উঠল, ‘বাঁচাও! বাঁচাও! বাঁচাও! আমার নাকের ভেতর পানি ঢুকেছে।’
মাছ হেসে বলল, ‘এই তো কেবল সাঁতার শেখা শুরু।’
ব্যাঙ পানি থেকে উঠে এসে হাঁপাতে লাগল।
এবার মাছের লাফ শেখার পালা।
মাছ বলল, ‘দেখো, এবার আমি লাফ দেব।’
সে জোরে সাঁতার কেটে ওপরে উঠল। কিন্তু লাফ দেওয়ার বদলে ছলাৎ করে আবার পানিতে পড়ে গেল।
ব্যাঙ বলল, ‘এটা তো লাফ নয়, এটা পুকুরে পিঠ ধোয়া।’
ব্যাঙ ও মাছের কথোপকথনে পুকুরের কচ্ছপ, কাঁকড়া আর শামুক সবাই হাসতে লাগল।
পুকুরের এক বুদ্ধিমান কাঁকড়া এসে বলল, ‘তোমরা কেন একে অপরের মতো হতে চাও? তোমরা তো আলাদা বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন জীব, তাই তোমাদের কাজ, চালচলন ও চলাফেরা ভিন্ন।’
ব্যাঙ রেগে বলল, ‘মানে ?’
কাঁকড়া নরম সুরে বলল, ‘ব্যাঙ লাফে সেরা আর মাছ সাঁতারে সেরা। তাই তোমরা একে অপরকে সাহায্য করো, কিন্তু নিজের গুণটা কখনো ভুলে যেও না।’
একদিন হঠাৎ পুকুরের ওপর বক পাখি উড়ে এলো।
বক পাখিকে দেখে মাছ ভয় পেয়ে গেল।
ব্যাঙ দ্রুত লাফিয়ে উঠে জোরে জোরে ডাকতে লাগল, ‘ঘ্যাঙর ঘ্যাং! ঘ্যাঙর ঘ্যাং!’
ব্যাঙের ডাক শুনে বক পাখি ভয় পেয়ে উড়ে গেল।
মাছ বলল, ‘বন্ধু, তুমি না থাকলে আমি আজ বাঁচতাম না। বক খেয়ে ফেলত।’
ব্যাঙ হেসে বলল, ‘বন্ধু মানে তো একে অপরকে বাঁচানো। বিপদে-আপদে সাহায্য করা।’
তারপর থেকে সবাই বলত – ব্যাঙ আর মাছ হলো পুকুরের মধ্যে সবচেয়ে মজার বন্ধু।
তারা প্রতিদিন মজার গল্প করত, হাসত আর নতুন নতুন দুষ্টুমি করত। পুকুরের সবাই তা চুপে চুপে দেখে এবং তাদের বন্ধুত্বের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো নিজেদের মধ্যে বিস্তারে উদগ্রীব হয়ে ওঠে।