এ মুহূর্তের সংবাদ

দুই সহোদরের ডুপ্লেক্স বাড়িসহ ৫৭ শতক জমি জব্দের আদেশ

ওয়ান ব্যাংকের খেলাপি মামলা

মইনুল আলম (সায়মন) ও রাশেদুল আলম মামুন

নিজস্ব প্রতিবেদক »

ঋণ খেলাপি মামলায় চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান প্রাইম এন্টারপ্রাইজের মালিকানাধীন ডুপ্লেক্স বাড়িসহ ৫৭ শতক জমি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। পাওনাদার প্রতিষ্ঠান ওয়ান ব্যাংকের দায়ের করা মামলায় চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত-৩ এর বিচারক সেঁজুতি জান্নাত গত ১১ মে এ আদেশ দেন।

ব্যাংক সূত্র জানায়, ব্যাংকটির আগ্রাবাদ শাখার দায়ের করা মামলায় খেলাপি প্রতিষ্ঠান প্রাইম এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার মইনুল আলম (সায়মন) নগরীর সল্টগোলা ক্রসিং এলাকার ডুপ্লেক্স বাড়িটি ‘অ্যাটাচমেন্ট বিফোর জাজমেন্ট’ হিসেবে জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩৭ শতক জমির ওপর নির্মিত বাড়িটির পাশাপাশি আশপাশের আরও ২০ শতক জমিও এটাচমেন্টের আওতায় আনা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, জমিসহ সম্পত্তিগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবসার জন্য ওয়ান ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখা থেকে ঋণ নেয় প্রাইম এন্টারপ্রাইজ। শুরুতে কিছু কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করা হলেও পরবর্তীতে ঋণ পরিশোধ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিনেও ঋণ আদায় না হওয়ায় ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মো. মইনুল আলম সায়মনের বিরুদ্ধে অর্থঋণ মামলা দায়ের করে ব্যাংকটি।

মামলায় মইনুল আলম ছাড়াও তার স্ত্রী নুর এ তাসনিয়া, মা শামসুন নাহার বেগম এবং সহোদর রাশেদুল আলম মামুনকে বিবাদী করা হয়েছে। মামলার সময় ব্যাংকের দাবি ছিল ৪৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা। তবে সুদ-আসলে বর্তমানে পাওনার পরিমাণ প্রায় ৭২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের লিগ্যাল ডিপার্টমেন্টের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি বিক্রি, হস্তান্তর কিংবা মালিকানা পরিবর্তন করা যাবে না। একই সঙ্গে বাড়ি ও জমিতে পাওনাদার ব্যাংকের সাইনবোর্ড স্থাপনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মইনুল আলম ও তার সহোদর রাশেদুল আলম মামুনের কাছে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৫৬ কোটি টাকার ঋণ পাওনা রয়েছে। ওয়ান ব্যাংক ছাড়া অন্যান্য পাওনদার হলো- আইপিডিসি ৪৮ কোটি ৬৭ লাখ, মিডল্যান্ড ব্যাংক ২৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্স ৭ কোটি টাকা।

এর আগে ২০২৩ সালের ৪ মে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের দায়ের করা প্রতারণা মামলায় রাশেদুল আলম মামুনকে গ্রেপ্তার করে বন্দর থানা পুলিশ।

ওই মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রাশেদুল আলম মামুন ও তার ভাই মইনুল আলম সায়মন বাংলাদেশ ফাইন্যান্স থেকে ৫ কোটি টাকার হোম লোন নিয়ে ঢাকার গুলশানে একটি ফ্ল্যাট কেনেন। পরে ঋণের অর্থ পরিশোধ না করে ফ্ল্যাটটি গোপনে অন্যত্র হস্তান্তরের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা দায়ের করলে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে ওই মামলায় রাশেদুল আলম মামুন গ্রেপ্তার হন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাশেদুল আলম মামুনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে খেলাপি ও প্রতারণার অভিযোগে শতাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণের অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার এবং জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন।