নিজস্ব প্রতিবেদক »
হাইকোর্টের নির্দেশে আবারও স্থগিত চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচন ষষ্ঠ দফায় পেছালো ভোট, বাড়ল অনিশ্চয়তা নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম আগামী ২৩ মে অনুষ্ঠিতব্য চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) দ্বিবার্ষিক নির্বাচন ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে নির্বাচন বোর্ড ঘোষিত তফসিল ও চলমান নির্বাচনী কার্যক্রমের ওপরও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে বহু প্রতীক্ষিত চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচন আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আবদুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালত রুল নিশির পাশাপাশি অ্যাড-ইন্টারিম স্টে অর্ডার জারি করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের মেসার্স মসমার্কের স্বত্বাধিকারী এস এম নুরুল হক এবং মেসার্স ডায়মন্ড ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আজিজুল হক যৌথভাবে রিট পিটিশন দায়ের করেন (রিট নম্বর- ৬৮৭৬/২০২৬)।
রিটে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের (ডিটিও) মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রশাসক, নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং নির্বাচনী আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়।
রিট আবেদনে বলা হয়, এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনালের ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিলের সালিশি আদেশ এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ৫ মে ২০২৬ সালের রায় ও নির্দেশনা বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা কার্যকর করেনি। অভিযোগ করা হয়, এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে গত ১৮ মে নির্বাচন বোর্ড নতুন তফসিল ঘোষণা করে। পরে ওই তফসিল ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত নির্বাচনী কার্যক্রমের ওপর ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দেন।
রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আশফাকুর রহমান। তিনি বলেন, “হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে আগামী ২৩ মে চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন আয়োজনের আর কোনো আইনি সুযোগ নেই। এখন পর্যন্ত সরকার বা অন্য কোনো পক্ষ এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেনি।” তিনি আরও জানান, আদালতের আদেশের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। কপি হাতে পেলেই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
এদিকে রিট আবেদনকারী এস এম নুরুল হক বলেন, ব্যবসায়ীরা একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চান। কিন্তু আগের কাঠামো বহাল রেখে মাত্র তিন দিনের নোটিশে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল, যা কার্যত একটি প্রহসনের নির্বাচন আয়োজনের শামিল। তিনি দাবি করেন, এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনাল আগের ত্রুটিপূর্ণ কমিটি বাতিল করে ২০২৫ সালের নতুন বিধিমালা অনুযায়ী সরাসরি ভোটারদের অংশগ্রহণে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশনা অনুসরণ না করায় তারা আদালতের শরণাপন্ন হন। এর ফলে চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন ষষ্ঠ দফায় পিছিয়ে গেল।
বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে নতুন করে আলোচনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ। এরপর সমঝোতার ভিত্তিতে সিলেকশনের মাধ্যমে বারবার কমিটি গঠন হলেও আর ভোট হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কয়েক দফায় চেম্বারের প্রশাসক পরিবর্তন হয়। এর মধ্যেই কয়েকবার নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হলেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের রিট আবেদনের কারণে নির্বাচন পিছিয়ে যায়। এবারের নির্বাচনে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। একটি ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম, যার নেতৃত্বে রয়েছেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আমিরুল হক। অন্যটি সমমনা পরিষদ, যার নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম নুরুল হক।


















































