সেই প্রিয় নজরুল
বাসুদেব খাস্তগীর
পায়ে দলে ভয়ভীতি
এনেছেন প্রেমপ্রীতি
লেখনীর ঝড়ে
আমাদের নজরুল
সুবাসিত এক ফুল
বাঙালির ঘরে।
শোষকের যাঁতাকল
ভেঙেছেন অবিরল
দ্বিধাহীন মনে
চেতনায় নজরুল
আলোকিত এক ফুল
ফোটে ক্ষণে ক্ষণে।
সকলের প্রিয় হয়ে
বাঁধা আর সব জয়ে
আছে দেখি মিশে
লেখা তাঁর অবিরত
হয় যেন পরিণত
শোষকের বিষে।
সেই প্রিয় নজরুল
বাগিচার বুলবুল
জাগ্রত রবি
শান্তির ছায়া নীড়
তিনি হন বাঙালির
বিদ্রোহী কবি।
কবি নজরুল
অপু বড়ুয়া
কেউ বলে বিদ্রোহী
কেউ বলে বুলবুল
গান আর কবিতার
প্রিয় কবি নজরুল।
ছোটদের প্রিয় কবি
বড়োদের প্রিয় কবি
ছড়া আর কবিতায়
এঁকেছেন কতো ছবি।
ভোর হলো দোর খোল
লিচু চোর, ঝিঙেফুল-
কতো কিছু লিখেছেন
প্রিয় কবি নজরুল।
ঝাঁকড়াচুলো বিপ্লবী নজরুল
শাহীন খান
একটি কবি রবির মতো আলো
সেই কবিটা ভীষণ রকম ভালো
ডাগর ডাগর তাহার দুটো আঁখি
জনম ধরে বুকের ভেতর রাখি।
একটি কবি মায়ার বাঁধন ছবি
লেখেন তিনি গান কবিতা সবই
বিদ্রোহী সুর ছড়ান বাঁশির সুরে
আমরা ভাসি সুখের সমুদ্দুরে।
একটি কবি দোয়েল ও বুলবুল
সেই কবিই গোলাপ বকুল ফুল
মায়ের স্নেহ বোনের কানের দুল
ঝাঁকড়াচুলো বিপ্লবী নজরুল।
প্রাণপ্রিয় নজরুল
কাজল নিশি
গান কবিতা ছড়ার লেখক
প্রাণপ্রিয় নজরুল,
যার লেখাতে ভাঙে মনের
হাজার রকম ভুল।
নজরুল তুমি থাকবে ঠিকই
সব মানুষের মনে,
তোমার আসন পাতা আছে
মনের সিংহাসনে।
প্রিয় কবি হয়ে অছো
আজীবনই তাই,
প্রাণের মানুষ গানের মানুষ
তাইতো ভুলি নাই।
ধান শালিকের মাঠ
উৎপলকান্তি বড়ুয়া
এই কবিতা নতুন ভোরে পাখির কন্ঠে গান
ঘাসের বুকে কাঁপা হাওয়ার সজীব আহ্বান!
এই কবিতার জন্যে কবির নির্ঘুম রাত জাগা
অতঃপর আর যারপর নেই অশেষ ভালোলাগা।
এই কবিতা ছন্দে চলে মিলকে করে সাথী
মধুর কন্ঠে ভর করে নাম কুড়ায় রাতারাতি।
এই কবিতার শব্দ-শরীর নিপুণ ধাঁচের তুলি
সবুজ পাতার দুরন্ত ঝাড় মৌটুসী বুলবুলি!
এই কবিতা জোয়ার ভাটা উছল স্রোতের ধারা
তাকধুম তাক পয়লা বৈশাখ বোলে পাগলপারা।
এই কবিতা চাষার গোলায় ফোটা খুশির ফুল
জোয়ান যুগল তাগড়া ষাঁড়ের লড়াই হুলুস্থুল!
এই কবিতা কৃষ্ণচূড়া পলাশ শিমুল লাল
ভাষার নদে আশার তরী অপূর্ব দিনকাল!
এই কবিতা একতারা বাউল ধান শালিকের মাঠ
নতুন সুরে নতুন দিনের অতুল কথার পাঠ।
স্বপ্ন দেখি
কেশব জিপসী
জেগে জেগে স্বপ্ন দেখি আমি হবো পাখি,
লাগিয়ে ডানা উড়বো ভেসে
আলোর গুঁড়ো মাখি।
ছুটে যাবো রাঙামাটির সবুজ গভীর বনে,
চাকমা শিশুর বন্ধু হয়ে
খেলবো আপন মনে।
যাবো উড়ে সমুদ্র টিপ সেন্ট মার্টিন চরে,
দেখবো ওরা কেমন ছোটে
মন মাতানো ঝরে।
আমি যাবো পাহাড়পুরে
এক নিমেষে উড়ে,
আমার দেশের সব অজানা
দেখবো ঘুরে ঘুরে।
স্বপ্ন দেখি জেগে জেগে, মুক্ত আমি রবো,
দেখতে স্বদেশ লাগিয়ে ডানা
আকাশচারী হবো।
শরতে
আব্দুস সালাম
গাছে গাছে পাকা তাল
মৌমাছি বেসামাল
সুমধুর ঘ্রাণে
কূলে কূলে সাদা কাশ
সাদা মেঘ নীলাকাশ
দোলা দেয় প্রাণে।
মাঠে মাঠে ভেজা পাট
আমনে ভরা মাঠ
শিশির ঝরে ঘাসে
ডালে ডালে জলপাই
বাতাসে দোল খায়
শেফালীরা হাসে।
গাঁয়ে গাঁয়ে শরতে
কাননের পরতে
সবুজের কারুকাজ
থেমে থেমে আলো জ্বলে
আঁধারে খেলা চলে
জোনাকির আজ।
হিমালয়ের কোল জুড়ে
লিটন কুমার চৌধুরী
হিমালয়ের কোল জুড়ে আজ নামল কালো ছায়া,
প্রকৃতির এই রূপ দেখে মন হারায় সকল মায়া।
হঠাৎ করে ধস নেমে যায় পাহাড় ভেঙেচুরে,
সব কিছু আজ যায় যে ভেসে অনেক দূরে দূরে।
উথাল পাথাল জলের স্রোতে ভাসল কত ঘর,
আপন মানুষ এক নিমিষেই হয়ে গেল পর।
বন্যা এসে ভাসিয়ে নিল জনপদ ও গ্রাম,
কান্না রোলে ভারী হলো আকাশ বাড়ি-ধাম।
ভূমিকম্পের আঘাত হেনে কাঁপল রে বুকখানি,
দুর্দিনের এই কোপানলে কে বা কারে টানি!
চর্তুদিকে দেখি শুধু বিলাপ-কান্না রোল,
চোখের সামনে খালি হল হাজার মায়ের কোল ।
ভাঙল সেতু, তলিয়ে গেল রাস্তাঘাটে সব
ভেঙেচুরে মিশে গেল সুখের অনুভব।
তাদের জন্য আর্তি জানাই সৃষ্টিকর্তার কাছে
সহায় যেন হয়ে থাকেন তাদের পাছে পাছে ।
শরৎ আসে বাংলাদেশে
মজনু মিয়া
কী অপরূপ শোভা নিয়ে
দুচোখ জুড়ায় স্বপ্ন দিয়ে
শরৎ ঋতু আসে
আমার বাংলাদেশে,
দেখবি যদি আয় রে ছুটে
গ্রাম্য পরিবেশে।
রাতের আকাশ নীলের ওপর
সাদা মেঘের ভেলা
দেখলে যেন মনে হবে
সাদা ঘোড়ার খেলা।
আমার ভীষণ ভালো লাগে
আমার বাংলাদেশে,
শরৎ ঋতু শোভা ছড়ায়
দেখি ভালোবেসে।
শরৎ মানে
শাহীন সুলতানা
শরৎ মানে কাশের সারি
হিম কুয়াশার শুভ্র শাড়ি
শিউলি ফোটার দিন,
শরৎ মানে মিহিন বাতাস
দুধ-সাদা মেঘ নীলচে আকাশ
ভালোবাসার ঋণ।
শরৎ মানে দিঘির জলে
শাপলা ফোটে দলে দলে
লাল শালুকের বিল,
শরৎ মানে তুলতুলে মেঘ
দখিন বায়ুর উথাল আবেগ
আকাশ ভরা নীল।
শরৎ মানে আলোর ঝিলিক
জোছনা ঝরা রূপের ইলিক
শিশির ভেজা ভোর,
শরৎ মানে মায়ার চাদর
খোকার মুখে মায়ের আদর
শিউলি রাঙা দোর।
শরৎ মানে পাখির মেলা
আকাশ জুড়ে রঙের খেলা
দোয়েল পাখির গান,
শরৎ মানে শ্যামল শোভা
রূপে-গুণে মনোলোভা
আকুল করা প্রাণ।






















































