নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঁশখালী >>
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলে ‘খরচা-পানির’ টাকা দাবির অভিযোগ ওঠার পর বাঁশখালীর রামদাস হাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমন কবির মৃধাকে ক্লোজ করা হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের নির্দেশে তাকে চট্টগ্রাম পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, বাঁশখালীর এক ক্ষুদ্র খামারি নুরুল আলমের করা চুরি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলে এসআই সুমন কবির মৃধা তার কাছ থেকে কয়েক দফায় টাকা নিয়েছেন। পরে আরও টাকা দাবি করার অভিযোগ করেন ওই খামারি।
নুরুল আলম জানান, বাঁশখালীর চন্দ্রপুর গ্রামের বরপুরা এলাকায় তার জামশেদ এক্সপ্রেস ডেইরি অ্যান্ড এগ্রো ফার্মে চুরির ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পান এসআই সুমন কবির মৃধা।
তার অভিযোগ, মামলার তদন্তের শুরু থেকেই বিভিন্ন খরচের কথা বলে তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। প্রথমে নাশতার বিল বাবদ ১ হাজার ২০০ টাকা এবং পরে গাড়িভাড়ার কথা বলে আরও ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। এরপর গত ২৬ আগস্ট খামারে সরেজমিন তদন্তে গিয়ে মামলার প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আরও ৫ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তিনি ৩ হাজার টাকা দিয়েছেন বলেও জানান।
নুরুল আলম বলেন, “আমি একজন ছোট খামারি। নিজের কষ্টের টাকায় খামার করেছি। চুরির ঘটনায় ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে মামলা করেছি। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার জন্যও যদি টাকা দিতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? আমি অন্যায় করিনি, তারপরও টাকা দিতে হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, টাকা দেওয়ার পরও বিষয়টি সমাধান হয়নি। এমনকি গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর এসআই তাকে ফোন করে প্রতিবেদককে বিষয়টি ‘সমাধান হয়ে গেছে’ বলতে অনুরোধ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই সুমন কবির মৃধা বলেন, “মামলার রিপোর্ট দিতে কিছু খরচ থাকে। এটা কেউ দেয়, কেউ দেয় না। আমি জোর করে চাইনি।” তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
এদিকে অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে এসআই সুমন কবির মৃধাকে ক্লোজ করে চট্টগ্রাম পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, “ওসির নাম ব্যবহার করে কেউ টাকা নিলে সেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি কখনো এসবকে প্রশ্রয় দিই না। কারও পারফরম্যান্স খারাপ হলে, সে চাকরিতেও টিকে থাকতে পারবে না। বিষয়টি আমি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান বলেন, “অভিযোগটি আমরা আমলে নিয়েছি। এসপি স্যার তাকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত হবে। যেহেতু তাকে ক্লোজ করা হয়েছে, তদন্ত অবশ্যই হবে। তদন্তের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, এসআই সুমন কবির মৃধার বিরুদ্ধে এর আগেও সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে।
এসআই সুমন কবির মৃধার ক্লোজড হওয়ার মধ্য দিয়ে অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখন তদন্তেই নির্ধারিত হবে অভিযোগের সত্যতা এবং পরবর্তী ব্যবস্থা।



















































