নিজস্ব প্রতিবেদক »
চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানাধীন চাক্তাই এলাকায় এক ব্যক্তির জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে বাকলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন জমির মালিক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (৫০)। অভিযোগের পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তার।
অভিযুক্তরা হলেন মোহাম্মদ রুবেল (৩৮), মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম ওরফে জেকি (২৮) এবং মোহাম্মদ নুরুল আলম ওরফে কালো মুন্সি।
অভিযোগে রফিকুল ইসলাম বলেন, বাকলিয়া মৌজার আরএস ও বিএস রেকর্ডভুক্ত মোট ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ জমির বৈধ মালিক তিনি। খরিদসূত্রে জমিটি কিনে গত ২৫ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন।
তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা জমিটিকে নিজেদের দাবি করে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। গত জুন মাসের এক রাতে ১৫ থেকে ২০ জনকে নিয়ে তারা দেশীয় অস্ত্রসহ জমিতে প্রবেশ করে। পরে সেখানে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়।
তিনি জানান, পরদিন সন্ধ্যায় নির্মাণকাজে বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা অস্ত্র নিয়ে তার দিকে তেড়ে আসে। প্রাণভয়ে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। এরপর থেকে তাকে ও তার পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রফিকুল ইসলামের ভাষ্য, থানায় অভিযোগ করার পরও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে শহীদুল ইসলাম ওরফে জেকি ওই জমিতে নির্মিত টিনশেড ঘর ব্যবহার করে মাদকসেবনসহ নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। জেকি বাহিনীর ভয়ে জমির কেয়ারটেকারও আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানান তিনি।
জমির কেয়ারটেকার মো. আকবর বলেন, রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে জমিটির মালিক। সেখানে ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়া হতো। সম্প্রতি বন্যার পানিতে কাঁচাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভাড়াটিয়ারা চলে যান। এরপর থেকেই জমিটি দখলের চেষ্টা শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ সেকান্দার আলম বলেন, ২০০১ সাল থেকে রফিকুল ইসলাম জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি জেকি বাহিনী জোরপূর্বক জমিটি দখলের চেষ্টা করছে। তাদের নানা কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসীও অতিষ্ঠ বলে দাবি করেন তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে প্রতিবেদকের সামনেও শহীদুল ইসলাম ওরফে জেকি জমি দখলের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, “তিন দিনের মধ্যে র্যাব, পুলিশ, আর্মি—যেই আসুক, পুরো জায়গা আমরা দখল করে ফেলব। এখানে কেউ আমাদের ঠেকাতে পারবে না।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের সাড়া মেলেনি।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্তদের থানায় আসতে বলা হয়েছে। তারা এখনো আসেনি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের বিরুদ্ধে আগেও মাদক-সংক্রান্ত মামলা রয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। জমির মালিক রফিকুল ইসলাম দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং তার জমির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


















































