ঝোলানো তারের ভার থেকে নগরকে উদ্ধার করা হোক

নগরজুড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে জড়িয়ে থাকা তারের জঞ্জাল সরাতে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। এই জঞ্জালের কারণে আর্থিং, শর্ট সার্কিট হয়ে প্রায় সময় ঘটছে দুর্ঘটনা। ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট ক্যাবল অপারেটরদের তারের ভারে বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো হয়ে পড়েছে বিপজ্জনক । সেসব খুঁটিতে কাজ করতে গিয়েও দুর্ঘটনা ঘটছে। তাছাড়া এসব তারের জঞ্জালে নগরের সৌন্দর্যহানি তো হচ্ছেই।

চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিতরণ) দক্ষিণাঞ্চলের পক্ষে জানানো হয়, বিদ্যুতের খুঁটিতে ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট ক্যাবল অপারেটরদের তার টাঙিয়ে এ জঞ্জাল সৃষ্টি করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদেরকে তারগুলো সরিয়ে নিতে বলা হলেও তারা তা মানছে না।

চট্টগ্রামের সব বিদ্যুৎ লাইন মাটির নিচ দিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৩৫৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনও হয়নি।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, অগ্নি দুর্ঘটনার ৭৫ শতাংশই বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় নানা সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। নগরে অগ্নিকাণ্ডের বেশিরভাগই বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে ঘটেছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ৬০ বর্গমাইলের নগরে পিডিবির ৩ হাজার কিলোমিটার বিদ্যুৎ সংযোগ আছে। বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রোধে ঝুলে থাকা এসব তার সরানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন আদালত। পরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) সব তারই মাটির নিচে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ কয়েকবার এ বিষয়ে তাগিদও দিয়েছেন।

একই প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম সুপ্রভাতকে বলেন, ‘বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে ঝুলে থাকা তারগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই আমরা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার ও ডিশ ব্যবসায়ীদের তারগুলো সরানোর বিষয়ে কথা বলেছি। তারা বেশ আন্তরিকতার সঙ্গে তারগুলো সরিয়ে নিবে বলে আশ্বাসও দিয়েছে।’

শেষ পর্যন্ত একটি ভালো কিছুর জন্য আমরা অপেক্ষা করতে পারি। কারণ এতদিন পরে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে এ সমস্যা দূরীকরণে তারা একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করেছে। আইএসপিএবি-এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় সচিব বলেন, ‘আমরা সব সার্ভিস প্রোভাইডারদের তাদের তারগুলো গুছিয়ে নিতে বলেছি। তবে শুরুতে আমরা বারেক বিল্ডিং মোড় থেকে শেখ মুজিব রোড হয়ে দেওয়ান হাট পর্যন্ত একটা পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করেছি। এটি সফলভাবে করতে পারলে পুরো নগরে আর তারের জঞ্জাল থাকবে না। আমরা সবগুলো সংযোগকে এমনভাবে একটা লাইনে আনবো, যেন বৈদ্যুতিক তারের মতো তারগুলো শক্তভাবে বাঁধা থাকবে। এছাড়া জটলা পাকানো কোনো তার থাকবে না।’

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে বিদ্যুৎ বা কোনো ধরনের সার্ভিসের তার ঝুলতে দেখা যায় না। কিন্তু বাংলাদেশ বড় ব্যতিক্রম। এখানে বিদ্যুতের তার ছাড়াও বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের তার ঝুলে থাকে মাথার ওপর তাতে শহরের সৌন্দর্যহানী হয়। বিশ্ব চলে যাচ্ছে তারহীন যোগাযোগের যুগে আর আমরা পড়ে আছি এখনও পুরনো ও পরিত্যক্ত পদ্ধতিতে। এই অবস্থার পরিবর্তন দরকার। যে করেই হোক এত এত ঝোলানো তারের ভার থেকে নগরকে উদ্ধার করা হোক।