এ মুহূর্তের সংবাদ

ঋণখেলাপি আমজাদের প্রার্থিতা অবৈধ : নির্বাচনে কোনো বাধা নেই

বিএসবিআরএ নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক »

বাংলাদেশ শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী ব্যবসায়ী নেতা আমজাদ হোসেন চৌধুরীর প্রার্থিতা অবৈধই বহাল রেখেছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।

একই সঙ্গে নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় বিএসবিআরএ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সব আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে।

সোমবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ, যার সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব, শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদনে ‘ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় গত ৩০ এপ্রিল আমজাদ হোসেন চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড। পরে তিনি নির্বাচন আপিল বোর্ডে আবেদন করলে ৬ মে শুনানি শেষে সেই আবেদনও নামঞ্জুর করা হয়।

এরপর নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড ও আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন আমজাদ হোসেন। হাইকোর্ট তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার আদেশ দেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড।

গত ৩ জুন শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন এবং ৮ জুন পর্যন্ত নির্বাচনী কার্যক্রমও স্থগিত রেখে বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন। সোমবার চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত আমজাদের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন এবং নির্বাচন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

বিএসবিআরএর প্রশাসক ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের সচিব (উপসচিব) আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহে দুল ইসলাম বলেন, “আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত রেখে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন। ফলে নির্বাচন অনুষ্ঠানে এখন আর কোনো বাধা নেই। সিআইবি তালিকায় ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি হিসেবে নাম থাকায় নির্বাচনী নীতিমালা অনুযায়ী তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছিল। আদালত সেই সিদ্ধান্তই বহাল রেখেছেন।”

সংগঠন সূত্র জানায়, গত বছরের ২৫ অক্টোবর বিএসবিআরএর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ১১টি পদের বিপরীতে ১১ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিলেও নির্বাচন বোর্ডের সদস্যরা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারার অভিযোগ তুলে ১৫ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন। ফলে সে সময় নির্বাচন আর অনুষ্ঠিত হয়নি।

পরবর্তীতে সংগঠনের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আমজাদ হোসেন চৌধুরীকে অপসারণ করে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিএসবিআরএর প্রশাসক হিসেবে আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহে দুল ইসলামকে নিয়োগ দেয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ১ মার্চ নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড ও নির্বাচন আপিল বোর্ড গঠন করেন এবং ২ মার্চ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।

তফসিল অনুযায়ী ৯ এপ্রিল প্রাথমিক ও ১৬ এপ্রিল চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। ২৩ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল। যাচাই-বাছাই শেষে ৩০ এপ্রিল যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। পরে আপিল প্রক্রিয়া শেষে ২২ মে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা এবং ২৫ মে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়।

এদিকে সভাপতি ও সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে একজন করে প্রার্থী থাকায় তাদের ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। আপিল বিভাগের সর্বশেষ আদেশের ফলে বিএসবিআরএর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়েছে।