নিজস্ব প্রতিনিধি, চন্দনাইশ >>
একসময় দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল চট্টগ্রাম–দোহাজারী রেলপথ। সময়ের সঙ্গে রেল যোগাযোগ কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারিত হলেও চন্দনাইশের কাঞ্চননগর, খাঁনহাট ও হাশিমপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্টেশনে নিয়মিত যাত্রীবাহী ট্রেনের যাত্রাবিরতি নেই। ফলে রেললাইনের পাশে বসবাস করেও কাঙ্ক্ষিত রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম–দোহাজারী রুটে পুনরায় নিয়মিত লোকাল ট্রেন চালুর দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেল যোগাযোগ চালুর পর দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের মধ্যে রেলসেবা নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে কাঞ্চননগর, খাঁনহাট ও হাশিমপুরসহ কয়েকটি স্টেশনে নিয়মিত ট্রেন না থামায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না। চট্টগ্রাম শহর ও আশপাশের এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের এখনো প্রধানত সড়কপথের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত একটি নিয়মিত লোকাল ট্রেন চালু করা হলে চন্দনাইশসহ আশপাশের এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপকৃত হবেন। কম খরচে ও তুলনামূলক কম সময়ে চট্টগ্রাম শহরে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হলে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি সড়কপথে যাত্রী ও যানবাহনের চাপও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।
শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির ক্ষেত্রেও রেল যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। চন্দনাইশের কাঞ্চনাবাদ, ছৈয়দাবাদ ও ধোপাছড়ি এলাকায় লেবু, পেয়ারা, শাকসবজিসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। এসব কৃষিপণ্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।
স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মতে, রেলপথে কৃষিপণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় দুটোই কমবে। এতে কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাজার ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও গতি আসবে।
এ বিষয়ে রেলওয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের দোহাজারী স্টেশন মাস্টার ইকবাল হোসেন চৌধুরী জানান, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। কাঞ্চননগর, খাঁনহাট ও হাশিমপুর স্টেশনকেন্দ্রিক যাত্রী চাহিদার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। যাত্রী চাহিদা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
খাঁনহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি নেতা আরিফুর রহমান মারুফ বলেন, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথকে শুধু পর্যটনকেন্দ্রিক যোগাযোগব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করলে চলবে না। রেলপথের দুই পাশে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। আন্তঃনগর ট্রেনের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে লোকাল ট্রেন চালু করা হলে রেলসেবার সুফল আরও বিস্তৃত হবে।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি চন্দনাইশের কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাদের মতে, রেললাইন ও স্টেশন অবকাঠামো থাকার পরও সেখানে নিয়মিত ট্রেন না থামলে স্থানীয় জনগণ রেল যোগাযোগের কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবেন।
এ অবস্থায় কাঞ্চননগর, খাঁনহাট ও হাশিমপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে নিয়মিত যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি চট্টগ্রাম–দোহাজারী রুটে লোকাল ট্রেন পুনরায় চালুর দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।



















































