নিজস্ব প্রতিবেদক >>
চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে বহুল আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং ৭ দশমিক ৬৫ ক্যালিবারের দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম, বিপিএম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৩ জুন চট্টগ্রাম মহানগরের পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে সীতাকুণ্ড থানার শীতলপুর এলাকায় শাহ আমিন উল্লাহ ফিলিং স্টেশনের সামনে স্থাপিত বিশেষ চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. দিদার আলম (৩০) ও মো. আফসার মিয়া (৩০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশের তথ্যমতে, দিদার আলমের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন থানায় মোট ১০টি মামলা এবং আফসার মিয়ার বিরুদ্ধে একই ধরনের অপরাধে ৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত একাধিক আলোচিত অপরাধেও তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাত ২টা ৪০ মিনিটে রাউজান উপজেলার পূর্ব রাউজান (জুরুলকুল) এলাকার একটি বসতঘরের পেছনে সেফটি ট্যাংকের পাশে মাটির নিচে পুঁতে রাখা সাদা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং ৭ দশমিক ৬৫ ক্যালিবারের দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম বলেন, “চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান, প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান এবং পেশাদার আভিযানিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”



















































