সুপ্রভাত ডেস্ক »
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৩৬ ফ্লাইটে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়া ছানোয়ারা বেগমের (৫৫) মরদেহ ওমানে রেখে একাই চট্টগ্রামে ফিরতে হয়েছে তার ছেলে এরশাদকে। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে মায়ের মরদেহ সঙ্গে নিয়ে দেশে ফিরতে পারেননি তিনি। বর্তমানে ছানোয়ারা বেগমের মরদেহ ওমানে রয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে মরদেহটি দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
ছানোয়ারা বেগম চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বিল্লিয়ার পাড়ার বাসিন্দা। তার স্বামীর নাম নুরুল আমিন।
গত ২৫ জুলাই ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ছানোয়ারা বেগম সৌদি আরব যান। ওমরাহ শেষে কয়েক মাস দুই ছেলের কাছে থাকার কথা ছিল তার। তার দুই ছেলে শাহেদ ও এরশাদ সৌদি আরবে থাকেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৩৬ ফ্লাইটটি জেদ্দা থেকে গতকাল মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। উড্ডয়নের পর ছানোয়ারা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়লে জরুরি চিকিৎসার জন্য ফ্লাইটটি মাস্কাট বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়। ওই বিমানবন্দরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ছানোয়ারা বেগমকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
কিন্তু মাস্কাট বিমানবন্দরে মরদেহটি নামানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও ওমানের স্থানীয় আইন ও বিধি অনুযায়ী রয়্যাল ওমান পুলিশের অনুমতি প্রয়োজন ছিল। অনুমতি না পাওয়ায় দীর্ঘ সময় মরদেহটি উড়োজাহাজের ভেতরেই ছিল। এ কারণে ফ্লাইটটির পরবর্তী যাত্রাও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
পরে রয়্যাল ওমান পুলিশের অনুমতি পাওয়ার পর মরদেহটি উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফ্লাইটটি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, সৌদি আরবে যাওয়ার পর ছানোয়ারা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর আগে থেকেই তিনি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। সৌদি আরবে তার চিকিৎসাও করা হয়। পরে তিনি ওমরাহ পালনের চেষ্টা করেন। তবে অসুস্থতার কারণে তিনি সম্ভবত ওমরাহ সম্পন্ন করতে পারেননি।
তিনি আরও বলেন, আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে এরশাদকে মায়ের মরদেহ রেখেই চট্টগ্রামে ফিরতে হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে পড়েছে। ছানোয়ারার স্বামী নুরুল আমিনও এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, বুধবার দুপুর ২টা ৪৬ মিনিটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। মরদেহটি বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে চট্টগ্রামে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।


















































