টুনটুনি
মোঃ সৈয়দুল ইসলাম
ছোট পাখি টুনটুনি
ঝোপেঝাড়ে থাকে,
ডালে ডালে লাফিয়ে
নেচে নেচে ডাকে।
স্বভাবে চঞ্চল
থাকে না যে স্থির,
মাটির খুব কাছাকাছি
খুঁজে লয় নীড়।
সুনিপুণ বাসা বাঁধে
ধারালো ঠোঁটে,
মানুষের মতো করে
দক্ষতা ফোটে।
কীটভোজী পাখি
ঐ ছোট টুনটুনি,
সকালে উঠে রোজ
তারই ডাক শুনি।
ছয়টি ঋতুর রানি
শাহীন খান
শরৎ হলো, পাখির কূজন, নদীর কূলে কাশ
ঝিরিঝিরি বয় রে হাওয়া, দোলে পাতা-বাঁশ।
মেঘমালা সব দূরে ছোটে, রাতে ওঠে চাঁদ
ভাবুক মনের ভীষণ জাগে, কবি হওয়ার সাধ।
হাঁসরা খেলে পুকুর খালে, ডুব সাঁতারের খেলা
বকের সারি পাখনা মেলে, ওড়ে সারাবেলা।
ডাহুক ডাকে, থেকে থেকে, জালে ওঠে মাছ
শিউলি ফোটে বাগান জুড়ে, সজীব সকল গাছ।
জলকে চলে গাঁয়ের বধূ, মাথায় গোঁজে ফুল
ভ্রমর মাতে গুঞ্জরণে, আহা কী আকুল!
ফড়িং লাফায় ঘাসে ঘাসে ঠিক থাকে না তাল
দৌড়ি ছোটে মাঠের দিকে, ছাগল ভেড়ার পাল।
গাছে পাকে মিষ্টি যে তাল খেতে লাগে দারুণ
দূরে বাজায় মধুর বাঁশি, রাখাল ছেলে হারুন।
পানকৌড়ি সব করছে খেলা, নিঝুম নিরালায়
দামাল ছেলে ভেলায় চড়ে, বিলের ধারে যায়।
শাপলা তুলে, শাপলা বেচে, গরীব গাঁয়ের লোক
এক নিমেষে যায়রে ঘুচে যত্ত আছে শোক।
সব মিলিয়ে, শরৎ ঋতু, ছয়টি ঋতুর রানি
ভীষণ সে যে মনোলোভা, আমরা সবাই জানি।
বৃষ্টি ভেজা দিনে
শেখ সোহেল রেজা
খুকুমণি নুপুর পায়ে
বৃষ্টি ভেজা দিনে,
নাচছে দেখো তাধিন তাধিন
খুশি কত মনে।
খুকুমণির নাচ দেখে
নাচে খাঁচার পাখি,
ময়না, টিয়া, শালিক গুলো
করছে ডাকাডাকি।
রিমঝিম বৃষ্টি পড়ে
শব্দ চালের টিনে,
খুকুমণি ভেজায় খুশি
বৃষ্টি ভেজা দিনে।
শ্রাবণ দিনের মেঘ
এম আব্দুল হালীম বাচ্চু
শ্রাবণের ওই আকাশ যেন
নীল রঙের এক বাড়ি
সাগর নদী যায় পেরিয়ে
সাদা মেঘের গাড়ি।
কালো মেঘের কেশরাশি
রূপালি তার হাসি
বৃষ্টি নামে ঝমঝমা ঝম
বাজে মেঘের বাঁশি।
আকাশ কোলের রংধনুটা
সাতরঙা এক মালা
বজ্র যেন ঢাকের বাদ্য
মেটায় মনের জ্বালা।
শ্রাবণের এই মেঘলা দিনে
নাচে গাছের পাতা
গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি এলে
ভেজায় খোকা মাথা!
মানুষ সেরা
মাসুম মোরশেদ
বিষ্টি ভেজা দুটি পাখি
করছে আমায় ডাকাডাকি
বলে, ‘ছাতা নিয়ে আয়,
সর্দিকাশি লাগতে পারে
বাঁচা বুঝি দায়!’
এগিয়ে দিই দুটি ছাতা
ছাতা পেয়ে দিল আতা
বলে, ‘মজা করে খাও,
স্বর্গীয় স্বাদ পাবে এতে,
এবার ঘরে যাও।’
ঘরে ফিরে আতা খেয়ে
চেয়ে থাকি জানলা দিয়ে
বলি, ‘তোদের সাথে নাও,
আমি না হয় পাখি হব
জলে ভিজে কথা কব
উড়তে আমায় দাও।’
বলে তারা, ‘তা হবে না
এমন কথা আর কবে না
সবার জন্য মানুষ হও,
জগৎজোড়া খ্যাতি হবে
অন্যকিছু নও।’
শিউলি ফুলের আশ
আশরাফ মাহতাব
তিড়িং বিড়িং
নাচে ফড়িং
ঘাসবনে।
খোকা-খুকু নাচে দেখো
কাশবনে।
শাপলার মেলায়
ভেসে বেড়ায়
হাঁসগণে।
রাতে জ্বলে জোনাক পোকা
বাঁশবনে।
ঝরে শিশির
জাগে শিউলির
আশ মনে।
মালা গেঁথে পরবে কেউ
খাস-মনে।
মেঘের বিরহ
রফিকুল ইসলাম
টাপুর টুপুর বৃষ্টি ঝরে
কদম ডালে ডালে,
মাঠটা শুধু চেয়ে আছে
কালো মেঘের পালে।
বিলের জল একলা জাগে
শালুক ফোটে না,
মেঘ কেন যে নামে না আর
ডাহুক ডাকে না।
নদী বসে পথ চেয়ে রয়
সাগর অনেক দূরে,
জলবিনে যে নৌকা কাঁদে
ভাটির গানের সুরে।
কচুপাতায় জল টলমল
মেঘের আদর পেয়ে
জল গড়ালে পাতা কাঁদে
মেঘের পানে চেয়ে।






















































