হাওয়াগাছ
দ্বীপ সরকার
রোদ্দুর আর হাওয়া নিয়ে আমার সংশয়
রোদ্দুর কী? হাওয়া কী?
কোন ইন্দ্রিয়তে এদের হাঁটাচলা
আমার পিতা বলেছিলেন,
গ্রীষ্মের দুপুরে একদিন
কালো পিচের ওপরে পা রেখো
আমি বললাম
আর হাওয়া?
পিতা মুখ গোমড়া করে বললেন,
পৃথিবীতে হাওয়া বলে
কিছু নেই-সবই নিঃশ্বাস
এই ভেবে একদিন নদীতে যাই
দেখি নদীর নিঃশ্বাসগুলো টুকরো টুকরো হয়ে
ওপড়ের দিকে উড়ে যাচ্ছে
বিজ্ঞানীরা একে বাষ্প বলে চালিয়ে দেয়
তারপর, এক পুরনো বটবৃক্ষের কাছে যাই,
আমার নাকের ভেতর দিয়ে সুরসুরি উড়ে যাচ্ছে
বিজ্ঞানীরা তাকে অক্সিজেন বলে চালিয়ে দেয়
আমি তাকে নাম দিলাম হাওয়াগাছ
এভারেস্ট পাড়ায়—পর্বতশৃঙ্গে, আমি উড়ছি
নিঃশ্বাসের সাঁকো দিয়ে দৌড়োচ্ছে সমস্ত বেঁচে থাকা
এভারেস্টকে বললাম, একটু হাওয়া বেচো না হয়?
এভারেস্ট মাথা নাড়িয়ে বললো
আমরা নিঃশ্বাস বেচি, হাওয়া নয়
দেবদূত কবিতারা
শ্যামল বণিক অঞ্জন
মাঝে মাঝে কবিতারাও যেন দেবদূত হয়ে আসে;
গভীর রাতে ছায়ার মতো ভাবুক কবির ষ্টাডি রুমে।
আলো আঁধারীর সুনশান নীরব আলিঙ্গনে জড়ায়;
করে হিপনোটাইজ !
জাগতিক ভুলে হতাশাগ্রস্থ কবি বুঁদ হয় কবিতায়,
প্রশমিত হয় সকল যন্ত্রণা,
নিবিড় সঙ্গমে স্বর্গসুখ বিলিয়ে যায় পরম যত্নে কবিতারা।
নির্জন রাতে আঁধারের বুক চিঁড়ে ফুটে ওঠে আলোর রেখা,
যেন এক ভিন্ন গ্রহের রাজাধীরাজ হয়ে-
কবিবর হাতে তুলে নেয় রাজদণ্ড সহাস্যে!
অনবরত রচিত হয় কালজয়ী মহাকাব্য
আহা! তৃপ্তির স্বাদ কেবল কবির অন্তরাত্মায়!
ভালোবাসা উন্মুক্ত
মুহাম্মদ রফিক ইসলাম
বুকের মলাট খুলে দিয়েছি
তুমি হৃদয় ছুঁয়ে দেখো
আমার না-বলা কথাগুলো তীব্র আকুতি নিয়ে
গলায় গেঁথে গেছে কাঁটার মতো
তোমার গ্রীন সিগন্যাল পেলে সাইরেন বাজাবো
ছেড়ে যাব জড়তার স্টেশন
যেখানে কোন দ্বিধা-সংকোচ নেই
‘ভালোবাসি’ বলায়…





















































