বিজনেস

চট্টগ্রামের বন্ধ শিল্পকারখানা চালু হলে ১০ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

চট্টগ্রামের বন্ধ শিল্পকারখানা চালু হলে ১০ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

সুপ্রভাত ডেস্ক >>

---------

চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্ধ বা বন্ধের উপক্রম প্রায় ২০০টি শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা গেলে প্রায় ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। এসব কারখানায় বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ কর্মী বেকার এবং প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা খেলাপি ও অবাণিজ্যিক ঋণ জমে রয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংক, চট্টগ্রাম অফিসে ‘এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য: চট্টগ্রাম অঞ্চলের সম্ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোঃ মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএ-এর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম অফিসের নির্বাহী পরিচালক মোঃ হানিফ মিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. মোঃ কবির আহাম্মদ ও প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

সভায় উপস্থাপিত কনসেপ্ট পেপারে বলা হয়, চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রায় ২০০টি শিল্পকারখানা বন্ধ রয়েছে বা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এসব কারখানা পুনরায় চালু করা গেলে প্রায় ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে।

তবে জ্বালানি সংকট, দীর্ঘমেয়াদি পুঁজির অভাব ও দক্ষ অপারেটরের ঘাটতি শিল্পকারখানা চালুর ক্ষেত্রে বড় বাধা। পাশাপাশি অলস জমির বিকল্প ব্যবহার ও আইনি জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো সম্ভব বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

সভায় জানানো হয়, দেশের মোট রপ্তানির ১৮ শতাংশ, আমদানির ২১ শতাংশ, রেমিট্যান্সের ২৮ শতাংশ, মোট আমানতের ১৯ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং মোট ঋণের ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে আসে।

আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এসএমই ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো, ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ (OVOP) নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন, ব্লু-ইকোনমি, সামুদ্রিক সম্পদ, তথ্যপ্রযুক্তি ও ম্যানমেড ফাইবার খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দেওয়ার নির্দেশনা দেন গভর্নর।

এ ছাড়া প্রবাসী শ্রমিকদের দক্ষ করে বিদেশে পাঠানো, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের কার্যক্রম জোরদার, বাংলা কিউআর-এর বিস্তার এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

গভর্নর বলেন, ব্যাংকিং খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। ব্যাংকের অনিয়মের বিষয়ে সর্বোচ্চ শাস্তির সুপারিশ করে পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডেপুটি গভর্নর ড. মোঃ কবির আহাম্মদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি চাপে থাকবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আঞ্চলিক সেন্ট্রাল ব্যাংকিং কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি আর্থিক ও আয় বৈষম্য কমানো, সম্পদের সুষম বণ্টন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

সভা শেষে গভর্নর কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন, সাধারণ মানুষকে উন্নত ব্যাংকিং সেবা দেওয়া এবং বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।