এ মুহূর্তের সংবাদ

করিডোরে বাধা রোহিঙ্গা সংকট

আন্তর্জাতিক এবং স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার নানা প্রসঙ্গ নিয়ে ‘সুপ্রভাত’-এর সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন রাজনীতি ও সামরিক বিশ্লেষক মেজর (অব.) মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম। এতে উঠে এসেছে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ, গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ, মিয়ানমারের সঙ্গে গ্যাস পাইপলাইন সংযোগ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, মিয়ানমার-বাংলাদেশ-চায়না করিডোর নির্মানের ক্ষেত্রে সমস্যা এবং সম্ভাবনার বিশ্লেষনমূলক মতামত।


সুপ্রভাত : আজকের আলোচনাট দুইটা ফেজে ভাগ করছি। একটা হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল কানেক্টিভিটি। আরেকটা হচ্ছে আমাদের চট্টগ্রামকে বেইজড করে লোকাল কানেক্টিভিটি। তো যেহেতু আমরা এখন বলছি হাব হবো, সেটা তো আর বাংলাদেশ কেন্দ্রিক হলে হবে না। আমাদের আশেপাশের দেশগুলো নিয়ে এটাকে ডিজাইন করতে হবে। আরেকটা হচ্ছে, ইন্ডিয়া, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড চৌদ্দশ কিলোমিটার যে হাইওয়ে সেটা আমাদের চিকেন নেক-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সুযোগ আছে যুক্ত হওয়ার। এটা ইন্ডিয়া একবার আহ্বানও করছিল।

---------

মেজর এমদাদ : আমার সাথে একটি বড় দেশের রাষ্ট্রদূত কিছুদিন আগেও আলাপ প্রসঙ্গে বলছিলেন যে, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এই সমস্ত দেশকে একত্র করলেও বাংলাদেশের কনজাম্পশন, পাওয়ার অফ কনজাম্পশন অর্থাৎ ভোক্তার যে শক্তি সেটা বাংলাদেশে বেশি। তার মানে হচ্ছে বাংলাদেশে বাণিজ্যের শক্তিও অনেক বেশি। সেটা চট্টগ্রামকে ভিত্তি করে হয়। এবং এর পাশাপাশি একটা জিনিস আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, চট্টগ্রামের সেই সুযোগগুলো আমরা কাজে লাগিয়েছি কিনা। এখানে একটা জিনিস না বললেই নয়। চট্টগ্রামের কিন্তু আমূল পরিবর্তনের দু’টা সুযোগ আমরা হারিয়েছি।
আমি দু’টা জিনিসই এখন বলব। কারণ তাহলে মানুষ জানবে কীভাবে আমরা সুযোগ হারিয়েছি।

এক হচ্ছে, চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর যখন এক ধরনের চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, বাইরের বহির্নোঙ্গরে এসে একটা মাদার ভ্যাসেল যখন দিনের পর দিন বসে থাকতে হয়, তারা অফলোড করতে পারে না। আবার ছোট ছোট জাহাজগুলো গিয়ে সেখান থেকে আনলোড করে আনে। এখানে যে ট্রানজেকশনের বা ট্রান্সফর্মেশনের যে বিল হয়, এটাও কিন্তু আমাদের ওপরে একটা বড়সড় প্রেসার বা চাপ সৃষ্টি করছিল, নষ্ট হচ্ছিল, চুরি হচ্ছিল বা মাঝপথে জাহাজডুবি হচ্ছিল। আবার দীর্ঘদিন অপেক্ষা করার জন্য একেকটা মাদার ভ্যাসেলে প্রায় বিশ হাজার ডলার করে তাদেরকে দিনপ্রতি একটা ভাড়া গুনতে হয়। তো সেগুলোর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য তখন ডিপ সি-পোর্ট করার কথা চলে আসলো সামনে। এখানে এটা হলো অভ্যন্তরীণ। বাইরের এক্সটার্নালি একটা জিনিস এর ভিতরে ঘটে যায়। সেটা হচ্ছে চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অর্থাৎ আমেরিকার যে অর্থনীতি বা যে ট্রেডওয়ার যেটা বা বাণিজ্যিকযুদ্ধ সেটা কিন্তু দৃশ্যমান না হলেও আমরা যারা এটাকে একটুও ওয়াকেবহাল আছি তারা জানি তাদের মধ্যে ট্রেডওয়ার চলছে। তো সেখানে মালাক্কা দিয়ে চীনের এটা ছিল ফোর্থ অর থার্ড লার্জেস্ট সাপ্লাই রুট এবং আমেরিকা সেখানে সাউথ চায়না সি-তে এসে এক ধরনের ব্লকেড করলো, হার্ডেল সৃষ্টি করলো চীনের জন্য। চীন তখন পথ খোঁজা শুরু করলো, অল্টারনেটিভ পথ কোথায় যাওয়া যায়। তারা ভেরি স্মার্টলি দে কাম টু আস। এবং সোনাদিয়াকে ডিপ সি-পোর্ট করার জন্য বাংলাদেশের সাথে তারা অনেক দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পরে আমরা কাছাকাছি চলে আসছিলাম এবং বর্তমানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তখন ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। উনি আমাদের সাথে একটা এমওইউ সিগনেচার হয়েছিল যে, সোনাদিয়াতে গভীর সমুদ্রবন্দর হবে। কারণ সোনাদিয়াতে যে ড্রাফট আছে সেটা অনেক গভীর। সেটা প্রায় ষোলো থেকে আঠারো মিটার পর্যন্ত। আর সেখানে একেবারেই অবলীলাক্রমে মাদার ভ্যাসেলগুলো এসে ভিড়তে পারবে।

চীনের সেখানে সবচাইতে বড় স্বার্থ যেটা ছিল দে ওয়ান্ট টু শিপ দেয়ার দ্যাট ইজ ইমপোর্ট অর এক্সপোর্ট। যেটা ওয়ে ছিল, যেটার ওপর তো হার্ডেল হচ্ছিল সাউথ চায়না সি-তে। সেখানে আমেরিকা অন্যান্য দেশগুলোকে নিয়ে ইভেন কি কোয়াড গঠন করে সেখানে অর্থনৈতিক নানা ধরনের বাধার সৃষ্টি করে যাচ্ছিল। তারা তখন একটা আন ইন্টারাপটেড একটা পথ খুঁজে বেড়াচ্ছিল। সেটার সুযোগটা সৃষ্টি হয়েছিল আমাদের সোনাদিয়াকে কেন্দ্র করে। আমাদের সাথে একটা এমওইউ হয়েছিল। দুর্ভাগ্য হচ্ছে, ভূ-রাজনীতির নানা কারণে, নানা চাপে বাংলাদেশ বা চীন সেখানে সেটাকে বাস্তবায়িত করতে পারেনি। সোনাদিয়াতে ডিপ সি- পোর্টটা হয় নাই। আমরা মাতারবাড়িতে চলে আসলাম।

এশিয়ান হাইওয়ে যখন হচ্ছে তখন দেয়ার ইজ আ ক্লজ ইন এশিয়ান হাইওয়ে। এর যে লেইড ডাউন পলিসি আছে সেখানে হচ্ছে ইফ দেয়ার ইজ ইন অ্যানি কান্ট্রি ইফ দেয়ার ইজ আ সি পোর্ট দ্যাট পোর্ট ক্যানোট বি অ্যাভয়ডেড ক্যানোট বি বাইপাস ফ্রম দ্য এশিয়ান হাইওয়ে। কিন্তু দেখা গেল কি চট্টগ্রাম বন্দরকে বাইপাস করে এইটা তামাবিল দিয়ে পার হয়ে কানেক্টিভিটি ভারতে ঢুকে যাচ্ছিল এবং সেখানে আমাদের এখান থেকে যে হারে সেটার ওপরে কথা বলার কথা ছিল, তা বলা হয়নি। আমাদের এখানে সেইগুলি জাতীয়ভাবে প্রতিফলিত হয়নি। এটা কোন আঞ্চলিকতা না, এটা আঞ্চলিকতার কথা না। এটা হচ্ছে, চট্টগ্রাম যদি হাব হয়, তাহলে সেখানে হবে কি? এই জিনিসগুলোকে আমরা জোরালোভাবে সামনে নিয়ে আসতে পারি নাই। চট্টগ্রাম বন্দর কিন্তু সেখান থেকে পিছিয়ে পড়ে যাচ্ছিল। বাট চায়না জিওপলিটিক্যালি তারা যখন এখানে করতে পারে নাই, চায়না কী করল? চায়না ওয়াজ সার্চিং ফর এনাদার, কানেক্টিভিটি তাদের জন্য আরেকটা আরেক ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা তারা চাইল। দে গট ইট, দে ওয়্যার অফার্ড বাই মিয়ানমার। বার্মাতে চকপিউতে তারা ডিপ সি-পোর্ট করে তুলেছে। সেখানে সুবিধা কি হল? চায়নার বৃহত্তম অর্থনীতি যেখানে এই সোনাদিয়া দিয়ে চলাফেরা করার কথা ছিল সেটা এখন চকপিউতে চলে গেছে। ফ্রম চকপিউ ওভার দ্য বে অফ বেঙ্গল দে আর রিচিং নাউ ইন্ডিয়ান ওশান। যেটা সোনাদিয়াতে হওয়ার কথা ছিল সেটা থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।

আরেকটা জিনিস আমি তখন মিয়ানমারে ছিলাম। এটাও দুর্ভাগ্য চট্টগ্রামের জন্য। আমি চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে তখন আমার একটা জিনিস মনে হয়েছিল যে আমাদের বাংলাদেশে তখন ব্যাক ইন ২০০১ বা ২০০০ আমার এখনো মনে আছে বিচিত্রা পত্রিকায় বাংলাদেশের ম্যাপ দিয়ে নিচে গ্যাসের উপরে ভাসছে বাংলাদেশ। মানে পুরা বাংলাদেশেই গ্যাসের উপর ভাসছে। তারপরও সেখানে একটা বিষয় যা হচ্ছিল সেটা হচ্ছে ইন্ডিয়া ওয়ান্টস টু গেট দ্য গ্যাস পাইপলাইন ওভার বাংলাদেশ ফ্রম মিয়ানমার। মিয়ানমারের এই গ্যাস ফিল্ড সেখানে আলোচনার এক পর্যায়ে আমি তখন একটা জিনিস বললাম, একটা ক্লজ আমরা এখানে যোগ করতে পারি। সেটা হচ্ছে যে, ইফ বাংলাদেশ নিড অর রিকয়্যার গ্যাস দেন ফ্রম দ্য সেইম পাইপলাইন বাংলাদেশ অলসো উয়িল হ্যাভ দ্য গ্যাস লাইন। এটা ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তারা বলছে না এটা তো একেবারে ডেডিকেটেড পাইপলাইন হবে। আমি অনেক দেনদরবার করার পরে সেটা শেষ পর্যন্ত মিয়ানমার যখন বলল যে, তোমাদের অসুবিধা কী? গ্যাস তো আমাদের। আমরা দিব তোমাদের যেটা রিকয়্যারমেন্ট যেটা চুক্তি অনুযায়ী সেই গ্যাস তোমরা পাবা। এর বাইরে সারপ্লাস থাকলে সেটা বাংলাদেশ পাবে। কিন্তু সাবসিকোয়েন্টলি সেই সময়ে এখানে ঢাকা থেকে বলা হল যে এই গ্যাস পাইপলাইন বারো শ কোটি রূপি তখন এই চট্টগ্রামের উপর দিয়ে চলে যাওয়ার কথা এখান থেকে গ্যাস লাইন।

আজকে বাংলাদেশের গ্যাসের অবস্থা দেখেন। চট্টগ্রামের শিল্পায়নের কথা, গ্যাসের অবস্থা দেখেন। আজকে যদি এখানে সেই প্রভিশনটা থাকতো আজকে বাংলাদেশের শিল্প অর্থাৎ চট্টগ্রাম অঞ্চলে শিল্প কারখানা মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ত এখানে ওই সস্তা গ্যাস দিয়ে শিল্প গড়ে তোলার জন্য, ইন্ডাষ্ট্রি গড়ে তোলার জন্য। নতুন নতুন কর্মসংস্থান হতো, উৎপাদন ব্যবস্থা হতো। দেশের অর্থনীতির মধ্যে এখানে এক ধরনের ভাইব্রেনসি ফেস করতে পারত। সেটার থেকেও আমরা বঞ্চিত হয়েছি। সাবসিকোয়েন্টলি আমরা গ্যাস পাইপলাইনটা আনতে পারি নাই। শেষ পর্যন্ত এটা ম্যাটেরিয়ালাইজড হলো না। একইভাবে এই সুযোগগুলো আমরা একটার পর একটা হারিয়ে আসছি।

যে চট্টগ্রামকে আজকে বলা হচ্ছে হাব করার জন্য। আমার যে রোড এই যে চার লাইনের উপর তো ম্যাক্সিমাম বাজারই। সারা পথই বাজার, রাস্তার উপরে। তো রাস্তার উপরে বাজার দিয়ে কি করে একটা ন্যাশানাল হাইওয়ে হতে পারে ? আমি পরশুদিন আসছি ঢাকা থেকে। এয়ারপোর্ট থেকে একটা বিলবোর্ড দেখে আমার খুব অবাক লাগলো। ওখানে লেখা আছে ‘ওয়েলকাম টু পোর্ট ক্যাপিটাল’। আমি পোর্ট সিটি শুনছি। তো এখন পোর্ট ক্যাপিটাল এটা কি আমার কোনমতেই মাথায় আসে নাই। একটা দেশের দুইটা ক্যাপিটাল হবে? এটাকে বলা হয় কমার্সিয়াল সিটি। এভাবে পোর্ট ক্যাপিটাল এই পৃথিবীতে কোথাও আছে কিনা জানি না আমি। এটা কারা বসিয়েছে, কে বসিয়েছে এটাও জানি না। আমাদের পোর্ট ক্যাপিটাল দরকার নাই। আমার দরকার হলো একটা বাণিজ্যিক রাজধানী। যেখানে বাণিজ্যটা হবে। মানুষের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এমপ্লয়মেন্ট জেনারেট হবে। দেশের অর্থনীতি ভাইব্র্যান্ট হবে। দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরবে। সারা দেশের মানুষ সেটার থেকে লাভবান হবে। শিল্প কারখানা গড়ে ওঠা, সারা দেশের অর্থনীতি ভাইব্র্যান্ট হওয়া মানে সারা দেশে সরকারের সক্ষমতা বেড়ে যাওয়া। সরকারের সক্ষমতা বাড়া মানে কি? সেখানে চিকিৎসা বলেন, শিক্ষা বলেন, যোগাযোগ বলেন সবগুলোর উপরে এক ধরনের প্রভাব পড়বে। সেই প্রভাবটাই পড়ুক। সেটাই হলো আমাদের কামনা।

এখন আসেন বহির্বিশ্বের সাথে যেটা এক্সট্রা ইন্টারনালি এখানে আরও কিছু আছে। যেমন আমাদের কথা ছিল একসময় আমরা এখান দিয়ে ভুটান হয়ে, নেপালের সাথে, নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আসবে। সেখানে আমাদের কানেক্টিভিটি হবে। সেটা আমরা পিছিয়ে গেছি। আকিয়াব থেকে বের হয়ে মংডু হয়ে বা দুইটা টানেল আছে। এটা সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার এর সময়ে ব্রিটিশরা করেছে। সেখান দিয়ে গিয়ে ভূতিরং হয়ে ভূতিরং থেকে মিনবু, ম্রাও। ম্রাওতে আমাদের বলা হয় যে সেখানে বাংলা সাহিত্যের আদি ফুল ফুটেছে। আলাউল এবং দৌলত কাজী তারা বাংলা সাহিত্যের ফুল ফুটিয়েছেন সেখানে। কী এমন এক মোহে তারা সেই নদী, বিপদ সংকুল সব পাহাড় দিয়ে সেই সময়ে গিয়ে বাংলা সাহিত্যের ফুল ফুটিয়েছেন ম্রাওতে। আমাদের আজকে পঁচান্ন বছর হয়ে গেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার। আমরা বাংলা সাহিত্যের একটা উৎসব করতে পারি নাই ম্রাওতে গিয়ে। এমনই সম্পর্ক প্রতিবেশীর সাথে। আরাকানকে ইয়োমা বলে ইংরেজিতে। মানে হচ্ছে বার্মিজ শব্দ পার্বত্য অঞ্চল। ওই পার্বত্য অঞ্চল পাড়ি দিয়ে নামলেই ওখানে একটা বাইপাস আছে। এটা ইরাবতী নদীর উপর দিযে সোজা মান্দালের ওপরে গিয়ে ম্যামিও থেকে গিয়ে চিনের বর্ডারে এসে পড়ে। আর একটা হচ্ছে বাইপাস হয়ে আপনি যদি ডানদিকে চলে যান ওইটা ম্যাগওয়ে হয়ে, রেঙ্গুন হয়ে ওবারদা রেঙ্গুন থাইল্যান্ডের থ্রি প্যাগোডা পাস এ ঢুকে যাবেন। থ্রি প্যাগোডা পাস থেকে আপনি সোজা যেতে যেতে একেবারে লাওস, ক্যাম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর পর্যন্ত ইউ ক্যান কানেক্ট। চট্টগ্রামকে ভিত্তি করে যদি আজকে সামনের দিকে আগাতে হয় এই আরাকান রোড দিয়েই এটা চলে যাওয়া যায়।

এখন আসেন বাংলাদেশ, মিয়ানমার, চীন অর্থনৈতিক করিডোর। আমি যদি ওখানে থাকতাম আমি বলতাম যে এটা কালকে সকাল থেকে চালু করা যাক। ওই যোগাযোগ ব্যবস্থা কালকে সকাল থেকে। কেন? আপনি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সোজা গিয়ে চকপিউতে আপনার যা আছে নিয়ে যান। ওদিক থেকে ওখানে আসুক। আপনি ওটা দিয়ে ওখানে তো এক্সিসটিং মিয়ানমার, চায়না ইকনমিক করিডোর আছেই। ইভেন মিয়ানমারও যদি এগ্রি করে আমি তাহলে চকপিউতে গিয়ে লিঙ্ক হয়ে আমি চলে যেতে পারছি সেইম করিডোর দিয়ে।

এখানে অর্থনীতির থেকেও পলিটিকস  প্রাধান্য পেয়ে গেছে আমাদের দেশে। এবং ইন দ্য নেইম অফ দ্য সোভারেনিটি অথচ আপনি ইউরোপে যান, আপনি সাউথ-ইস্ট এশিয়াতে যান, সেন্ট্রাল এশিয়াতে যান, ইভেন কি চায়নাতে যান ক্রিসক্রস এদিকে বার্মার সাথে এগুলি হচ্ছে। বাট আমরা যেকোনোভাবে হোক আমাদের ইমশনালি হোক বা আমাদের অন্য কারণে হোক আমরা এগুলিকে পলিটিসাইজ করে ফেলেছি। আমাদের অর্থনীতি আমাদের জীবনযাত্রার মানকে উন্নত করার থেকে আমরা বেশি করে আমাদের রাজনীতিকে প্রাধান্য দিয়েছি। তো যাই হোক এটা যখন হয় নাই নাউ দে হ্যাভ আনাদার প্ল্যান। এটাকে আমি একবার বলেছিলাম যে এটাকে আমাদেরকে আমার যে স্ট্রাটেজিক ইন্টারেস্ট, ইমপর্টেন্স আছে সেটাকে মার্জিনালাইজ করার একটা উদ্যোগ ভারত নিতে চাচ্ছে সেটা হচ্ছে কলকাতা দেন আকিয়াব থ্রু দ্য বে অফ বেঙ্গল আকিয়াব টু তারা ওভার দ্য কালাদান রিভার দে আর রিচিং টু দ্যা পালাতোয়া, চীন স্টেটে, বার্মার চীন স্টেটের রাজধানী প্ল্যাটোয়া । পালেতওয়া থেকে তারা আইজলে চলে যাবে। মিজোরামের রাজধানী আইজল হয়ে তারা তাদের ন্যাশনাল হাইওয়েতে চলে যাবে। দিস ইজ দেয়ার কানেক্টিভিটি। এখন আরেকটা কানেক্টিভিটি যেটা তারা করছিল, যেটা চাচ্ছিলো, যেটা আমাদের জন্য একবারে ডিজাসটার। যেটা আমি বললাম, সেটা চট্টগ্রাম বন্দরকে বাইপাস করে তারা তামাবিল দিয়ে ঢুকে ওদিকে ত্রিপুরায় ঢুকে যাবে। সেখানে গিয়ে তারা মান্ডালাতে উঠবে। ওখানে কাল্লু তাম্মু বলে একটা রোড আছে। দ্যাট রোড হ্যাজ কনস্ট্রাকটেড বাই দ্যা ইন্ডিয়ান মিলিটারি কর্পস। ওটা করেছে তারা। ওইটা গিয়ে মিশেছে আপনার মান্দালেতে। এখন আমাদেরকে যদি ওই রোড দিয়ে বার্মার সাথে কানেক্টিভিটি এসটাবলিশ করতে হয় ইট ইজ টোটালি ইমপসিবল অ্যান্ড নট অ্যাট অল ভায়েবল ইকনোমিক্যালি। আমরা চট্টগ্রামকে বাইপাস করতে গিয়ে এই কান্ডটা হয়েছে।

তবে সংক্ষেপে একটি কথা বলি, রোহিঙ্গা সমস্যা যতক্ষণ পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত মিায়ানমার-বাংলাদেশ-চায়না করিডোর নিয়ে সংকটের ছায়া কিন্তু থাকবেই। রোহিঙ্গা সমস্যা যতক্ষণ পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত মিায়ানমারবাংলাদেশ-চায়না করিডোর নিয়ে সংকটের ছায়া কিন্তু থাকবেই। অর্থাৎ করিডোরে বাধা রোহিঙ্গা সংকট। এ কারণে থাকবে কারণ সেখানে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যদি দ্বিতীয়, তৃতীয় পক্ষ এসে সেখানে যদি তাদেরকে ব্যবহার করতে চায় এবং সেটার সম্ভাবনা আছে। কারণ আমি এটা কেন বলছি সেটা হচ্ছে কফি আনন যে রিপোর্ট আছে, কফি আনন কমিশন রিপোর্টের মধ্যে স্পষ্ট করে বলা আছে যে, ইফ ইট ইজ নট অ্যাড্রেস ইমিডিয়েটলি, ইমিডিয়েটলি তো হয় নাই, নয় বছর হচ্ছে, দেন ইট ইজ গোয়িং টু নট অনলি বাংলাদেশ অ্যান্ড মিয়ানমার রিলেশনশিপ, ইট ইজ গোয়িং টু এনগালভ দ্য হোল সাউথ-ইস্ট এশিয়া রিজিয়ন। এই পুরা রিজিওনকে কিন্তু এর মধ্যে জড়িয়ে ফেলবে। তো সেখানে যেখানে এটা ভূ-রাজনৈতিক কারো জন্য সংকট কারো জন্য সুযোগ। তো এখানে এই মিায়ানমারের রোহিঙ্গাদের আমাদের এখানে পার করিয়ে দিয়ে এই সমস্যা সৃষ্টি করে এখানে ভূ-রাজনৈতিক কিছু কিছু বড় পক্ষ আবার সুযোগও নিচ্ছে। এখন আমাদের কিছু এখানে অ্যাড্রেস করার আবার ভুল আছে। সেটা হচ্ছে যেমন চীন। চীন কখনো এটাকে মাল্টিলেটারেলি অ্যাড্রেস হোক এটা কখনো চাইবে না। কারণ তার সীমান্তের কাছে গিয়ে সে এত বড় একটা অর্থনৈতিক শক্তি বা সামরিক শক্তি দিয়ে এখন দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি। হয়তো যেকোনো সময় এক নাম্বার শক্তি হয়েও যেতে পারে। এর ভিতরে চীন কখনো চাইবে না যার সাথে তার গভীর সমুদ্র বন্দরের সম্পর্ক, যার থেকে তার গ্যাস নেয়ার সম্পর্ক, যার থেকে সবচাইতে বড় পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এই যে ইরাবতী নদীর উপর দিয়ে সেখান থেকে জলবিদ্যুৎ যাচ্ছে, অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ তার ওখানে যাচ্ছে, সেখানে আপনার কখনো চাইবে না যে এটা মল্টিলেটারেল হোক।


সাক্ষাৎকার গ্রহণ: কামরুল হাসান বাদল ও নিজাম সিদ্দিকী