শৈল-সৈকত ও দেশগ্রাম

পটিয়ায় সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে যান চলাচল বন্ধ

বিকাশ চৌধুরী, পটিয়া >>

চট্টগ্রামের পটিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে গিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাধ্য হয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে পারাপার হচ্ছেন।

---------

উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের ঈশ্বরখাইন-আলামপুর সংযোগ সড়কের কৃষ্ণখালী খালের ওপর নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে সেতুটির কয়েকটি পিলারের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় সেতুটি খালে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ৬ মার্চ চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের তৎকালীন বিএনপির সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল ২০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেতুটির দক্ষিণ পাশে ধলঘাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড এবং উত্তর পাশে ৮ নম্বর ওয়ার্ড অবস্থিত। ধলঘাট ইউনিয়ন ছাড়াও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন।

খালের জোয়ার-ভাটার স্রোতে সেতুর দক্ষিণ পাড়ের সংযোগ সড়কের মাটি ধসে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে চলাচল করতে গিয়ে স্থানীয়দের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি বিপজ্জনক অবস্থায় থাকলেও সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

ধলঘাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুরুল আবছার বলেন, যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

পটিয়া উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথ বলেন, বিষয়টি তিনি ইতোমধ্যে জেনেছেন। ঈশ্বরখাইন-আলামপুর সেতুটি নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেতু সংলগ্ন এক কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণেরও প্রস্তাব রয়েছে।

এদিকে জনদুর্ভোগ লাঘব ও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে দ্রুত ভাঙন রোধ এবং সংযোগ সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।