শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
টপ নিউজ

নতুন পে স্কেলের গেজেট আগামী সপ্তাহে

ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রভাত ডেস্ক »

বহুল কাঙ্ক্ষিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অনুমোদিত ‘জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬’-এর গেজেট আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করা হতে পারে। নবম জাতীয় পে স্কেল গত সোমবার অনুমোদন করে সরকার। সেখানে বলা হয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশাবলি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

---------

যদিও ওইদিন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেছিলেন, চলতি সপ্তাহে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসাপেক্ষ এসআরও (বিধিবদ্ধ সরকারি আদেশ) জারি হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে আইনি ও প্রশাসনিক ধাপগুলো দ্রুত সম্পাদন হচ্ছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর রেজুলেশন তৈরি করে এটা বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসবে, পরে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। সবশেষে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন শেষে গেজেট আকারে জারি করা হবে। পরে এ বর্ধিত বেতন আগামী দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

অনুমোদিত জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বেতনস্কেলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা। তাদের সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা, অর্থাৎ ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন করা হয়েছে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা, যেখানে বাড়ছে ১০০ শতাংশ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পে স্কেল নিয়ে কাজ করা এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার দেশকে বলেন, আমরা গতকালই (বুধবার) বিজি প্রেসে পাঠিয়েছি। এখন সেখান থেকে এটা যাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ে, তারপর ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে আইন মন্ত্রণালয়ে, তারপর আনুষ্ঠানিকভাবে এসআরও নম্বর পেয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

তবে যত দ্রুত সম্ভব পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হবে বলেও মন্তব্য করেন এ সরকারি কর্মকর্তা। তিনি বলেন, গেজেট প্রকাশের ক্ষেত্রে আমরা কোনো বিলম্ব করতে চাই না। শুধুই প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে গিয়ে যতটুকু সময় লাগছে। আশা করছি, আগামী সপ্তাহে হয়ে যাবে।

সম্প্রতি ঘোষিত নতুন পে স্কেল নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর ঘোষিত এ পে স্কেল সরকারি কর্মচারীদের জন্য যেন স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।

নজরুল ইসলাম বলেন, গত ১১ বছরের প্রচণ্ড মূল্যস্ফীতির চাপ সহ্য করার পর সরকারি কর্মচারীদের জন্য এটি একটি ‘বিশাল প্রাপ্তি’ এবং ‘স্বস্তির নিশ্বাস’। বিশেষ করে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০ হাজার টাকা হওয়াকে তিনি যৌক্তিক বলে মনে করেন। তিনি বলেন, একজন হাজতির দৈনিক খাবার খরচের সঙ্গে তুলনা করলেও একজন কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধিতে এ পরিবর্তনের গুরুত্ব স্পষ্ট।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ক্যাডার অফিসাররা পাঁচ থেকে সাত বছর পূর্ণ হলেই উপসচিব বা তার উপরের পদে পদোন্নতি পান। এমনকি পদ না থাকলেও ‘সুপারনিউমারি পদ’ সৃষ্টি করে তাদের সুযোগ দেওয়া হয়। বিপরীতে নিচের স্তরের কর্মচারীরা পাঁচ-সাত বছরের ফিডার পদ পূর্ণ করার পরও ১৪ থেকে ২০ বছর ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত থাকেন।

তিনি দাবি করে বলেন, সুপারনিউমারি পদ সৃষ্টি করে ক্যাডার অফিসারদের মতো নিচের স্তরের কর্মচারীদের জন্য পদ না থাকলেও পদোন্নতির ব্যবস্থা করা দরকার।

তিনি বলেন, কর্মচারীরা নতুন পে স্কেল পেয়ে খুশি হয়েছেন। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান সরকারের এ কর্মচারী।

যেভাবে মিলবে বর্ধিত বেতন

সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন পে স্কেলে একবারে পুরো বর্ধিত বেতন হাতে পাচ্ছেন না। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে বেসিকের বাড়তি অংশের ৫০ শতাংশ প্রথম ধাপে, ২৫ শতাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ তৃতীয় ধাপে যোগ হবে। আর প্রথম থেকে নবম গ্রেডে বাড়তি অংশের ৪০ শতাংশ প্রথম ধাপে, ৩০ শতাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং ৩০ শতাংশ তৃতীয় ধাপে কার্যকর হবে।

যেমন ২০তম গ্রেডে বেসিক ৮,২৫০ থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হচ্ছে। ফলে বাড়তি ১১ হাজার ৭৫০ টাকার অর্ধেক, অর্থাৎ ৫,৮৭৫ টাকা প্রথম ধাপে যোগ হয়ে বেসিক হবে ১৪ হাজার ১২৫ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে আরো ২,৯৩৭.৫০ টাকা যোগ হয়ে হবে ১৭ হাজার ৬২ টাকা ৫০ পয়সা। তৃতীয় ধাপে একই পরিমাণ যোগ হয়ে বেসিক দাঁড়াবে ২০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে প্রথম গ্রেডে ৭৮ হাজার থেকে বেসিক হচ্ছে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা। বাড়তি ৭৮ হাজার টাকার ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ ৩১ হাজার ২০০ টাকা প্রথম ধাপে যোগ হয়ে বেসিক হবে এক লাখ ৯,২০০ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে আরো ২৩ হাজার ৪০০ টাকা যোগ হয়ে হবে এক লাখ ৩২ হাজার ৬০০ টাকা এবং তৃতীয় ধাপে আরো ২৩ হাজার ৪০০ টাকা যোগ হয়ে চূড়ান্ত বেসিক দাঁড়াবে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা। আবার নবম গ্রেডে বর্তমান ২২ হাজার থেকে বেসিক হবে ৪৪ হাজার টাকা। তিন ধাপে এটি পূর্ণতা পাবে—৩০ হাজার ৮০০; ৩৭ হাজার ৪০০ ও ৪৪ হাজার টাকা।