বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬
এ মুহূর্তের সংবাদ

নগরের চেনা ও অচেনা গল্প নিয়ে ‘সিলন আমার শহর’

সিলন আমার শহর’ ক্যাম্পেইনে চট্টগ্রামের ৫ গুণীজনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক »

চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, খাবার ও মানুষের আবেগকে তুলে ধরতে ‘সিলন আমার শহর’ ক্যাম্পেইনের যাত্রা শুরু হয়েছে।

---------

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় নগরের নেভী কনভেনশন সেন্টারে এ ক্যাম্পেইনের প্রথম পর্ব শুরু হয়। এতে ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয় বন্দরনগরীর চেনা ও অচেনা নানা গল্প।

বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরের নিজস্ব গল্প, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে মানুষের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে সিলন টি’র উদ্যোগে শুরু হওয়া এ ক্যাম্পেইনের প্রথম শহর হিসেবে বেছে নেওয়া হয় চট্টগ্রামকে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য শহরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিও এ আয়োজনের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস, পাহাড়, সমুদ্র, নদী, বাণিজ্য, সংস্কৃতি, আঞ্চলিক খাবার ও মানুষের জীবনযাত্রার বৈচিত্র্যকে এক ছাদের নিচে তুলে ধরা হয় এ আয়োজনে। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান, বলিখেলা, সী বিচ, সিআরবি, নেভালের পেয়াজু, রেলওয়ে স্টেশনসহ নগরীর পরিচিত স্থান, খাবার ও সংস্কৃতির প্রতীকী উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয় চট্টগ্রামের গল্পে।

আয়োজকরা জানান, চট্টগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মানুষের স্মৃতিগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়। এর অংশ হিসেবে বিশেষ আয়োজন, গ্রাহকদের জন্য আকর্ষণীয় প্যাকেজ, উপহার এবং বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে চট্টগ্রামের গল্প তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিজিটাল কনটেন্ট প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করার উদ্যোগও রয়েছে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ‘সিলন আমার শহর বিশেষ ব্যক্তিত্ব সম্মাননা’। নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদানের মাধ্যমে চট্টগ্রামের পরিচয়, সংস্কৃতি ও সমাজকে সমৃদ্ধ করার স্বীকৃতিস্বরূপ পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্বরা হলেন : একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও সম্পাদক দৈনিক আজাদী এম এ মালেক, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক আবুল মোমেন, স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ জেরিনা হোসেন, নগর পরিকল্পনাবিদ ইঞ্জিনিয়ার দেলোয়ার হোসেন মজুমদার এবং লেখক ও গবেষক হারুন রশিদ।

ক্যাম্পেইন শুরুর বিষয়ে যত কথা

আবুল খায়ের গ্রুপের ম্যানেজার ব্রান্ড ইফতেখারুল আলম বলেন, চা মানে নানান গল্প, নানান আড্ডা, তাই মানুষের এসব গল্প এবং স্মৃতিকে তুলে আনার কনসেপ্ট থেকে আমাদের এই আয়োজন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে চা’য়ের সূচনা হয়েছে এবং পরবর্তীতে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। তাই আমাদের ক্যাম্পেইনের শুরুটা চট্টগ্রাম থেকেই করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আবুল খায়ের গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, “চট্টগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের এই ছোট উদ্যোগ একদিন আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে। চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরতে আমরা কাজ করে যেতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “আবুল খায়ের গ্রুপ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের মানুষের সেবা করছে। পাশাপাশি দেশীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়েও কাজ করছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন, সংস্কৃতি ও ইতিবাচক পরিবর্তনের অংশীদার হতে আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যমকর্মী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ক্যাম্পেইনের বিজয়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার অতিথি উপস্থিত ছিলেন।