সুপ্রভাত ডেস্ক »
নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৯টায় সমিতির মিলনায়তনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এর পরপরই ভোট কেন্দ্র ও আশেপাশের এলাকায় ভোট বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবীরা।
তারা কমিশনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ভোটের আগের দিন অর্থাৎ বুধবার নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কোনো আইনজীবীকে মনোনয়ন ফরম তুলতে দেওয়া হয়নি। ফলে শুরু থেকে তারা নির্বাচনের বিরোধিতা করে আসছে। এছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে অনেকের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ কম দেখা গেছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ৯টি পদে একজন করে প্রার্থী থাকায় এসব পদে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। বাকি ১২টি পদে ভোট হচ্ছে। এসব পদে মোট ২৪ জন প্রার্থী থাকলেও বুধবার সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের ১২ প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। ফলে কার্যত বিএনপিপন্থি প্রার্থীরাই মাঠে রয়েছেন।
কয়েকজন বিএনপিপন্থি আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকলে ভোট নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ কমে যায়। অনেকেই মনে করছেন, ফলাফল অনেকটাই আগেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। এ কারণে কাউকে ভোট দিতে যেতে হচ্ছে না।
এর আগে নির্বাচন ঘিরে বুধবার আদালতপাড়ায় টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ নির্বাচন বাতিল চেয়ে আদালতে আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। পরে পরিষদটির প্রধান সমন্বয়ক শামসুল আলম নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে সমিতির বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটিতে থাকা তাদের ৭ নেতা পদত্যাগ করেন।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরাও নির্বাচন বাতিলের দাবিতে বুধবার আদালতপাড়ায় কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশ করেন। সাধারণ আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে অনুষ্ঠিত ওই কর্মসূচি থেকে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন ও পুনঃতফসিল ঘোষণার দাবি জানানো হয়।
এসব ঘটনার মধ্যেও নির্বাচন কমিশন পূর্বঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট রৌশন আরা বেগম আগেই জানিয়েছিলেন, নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়েই ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান আলী চৌধুরীও ঢাকাপোস্টকে বলেন, মাত্র ১২ ঘণ্টা আগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিলেও নির্বাচন থামানোর সুযোগ নেই। নির্ধারিত সময়েই বর্জন করা উচিত ছিল। তাছাড়া ব্যালট থেকে শুরু করে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ায় নির্ধারিত সময়েই ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। আমি নিজেই ভোট দিয়ে পেশাগত কাজে আদালতে চলে আসছি। আমার সঙ্গে অনেকেই ভোট দিয়েছি। আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের কাউকে কাউকেও আমি ভোট দিতে দেখেছি।
জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের নেতা অ্যাডভোকেট শামসুল আলম বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকাপোস্টকে বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন পরিস্থিতিতে এ নির্বাচন অর্থহীন হয়ে পড়েছে। আমরা ইতোমধ্যে ভোট বর্জনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছি। ১২টার দিকে আবার করব। এছাড়া নির্বাচন বাতিলের দাবিতে নিম্ন আদালতে করা আবেদন খারিজ করা হয়েছে। এই আদেশের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।























































