চরম দুঃখজনক হলেও বলতে হচ্ছে, স্বাধীনতার অর্ধশত বছরেরও অধিক পর একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, আধুনিক ও যুগোপযোগী নগর পরিকল্পনা করা হয়ে উঠল না। সরকার বদল হয়, অনিয়ম বদলায় না।
চট্টগ্রাম নগরের অন্যতম ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকা মেহেদীবাগে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অনুমোদন ছাড়াই একটি ১০ তলা আবাসিক-বাণিজ্যিক ভবনে ‘এরিস্টো কেয়ার’ নামে একটি হাসপাতাল চালুর চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। সিডিএ, ফায়ার সার্ভিস এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের মতো অপরিহার্য সংস্থাগুলোর ছাড়পত্র ছাড়া এবং অনুমোদিত নকশা ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মিত এই চিকিৎসাকেন্দ্রটি চট্টগ্রাম শহরের সার্বিক নগর ব্যবস্থাপনা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অকার্যকারিতাকেই চরমভাবে উন্মোচিত করেছে।
সুপ্রভাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
নকশা অনুযায়ী ভবনে ২০টি পিলার স্থাপনের কথা থাকলেও করা হয়েছে ১৭টি, অন্যদিকে একটির জায়গায় বসানো হয়েছে তিনটি লিফট। এই ধরনের চরম কাঠামোগত পরিবর্তন ভবনটিকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম একটি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হওয়ায়, এ ধরনের অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে হাজার হাজার রোগীর যাতায়াত যেকোনো মুহূর্তে এক ভয়াবহ প্রাণঘাতী বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। উপরন্তু, পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না রেখে মূল সড়কের পাশে হাসপাতাল পরিচালনা করা হলে মেহেদীবাগের মতো ব্যস্ত এলাকায় যানজট পরিস্থিতি রূপ নেবে স্থায়ী মানবিক দুর্ভোগে।
এখানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও সিডিএ’র ভূমিকা। আইন অমান্য করে বহুতল ভবন নির্মাণ ও নকশা পরিবর্তনের বিষয়টি সিডিএ কর্তৃপক্ষের অজানা ছিল না। সংস্থাটি একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে, এমনকি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কাজ বন্ধের নির্দেশও দিয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের এসব স্থগিতাদেশ ও নোটিশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ করা হয়েছে এবং উদ্বোধনের দিনক্ষণও ঠিক করা হয়েছে। নোটিশ জারি আর ‘জিরো টলারেন্স’-এর ফাঁকা বুলি আওড়ানোর মধ্যেই যদি সিডিএর দায়িত্ব সীমাবদ্ধ থাকে, তবে বাস্তবে তার কার্যকারিতা শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। একের পর এক নোটিশের পরও কীভাবে বেআইনি কাজটি সম্পন্ন হলো, তা সিডিএ’র তদারকি ও সদিচ্ছা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তোলে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভূমিকাও এক্ষেত্রে প্রশ্নাতীত নয়। ভবনের অনুমোদন সিডিএ-র একতিয়ারভুক্ত হলেও, চরম প্রশাসনিক অনিয়ম ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জেনেও বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে অনুমোদনের সুপারিশ পাঠানো দায়সারা গোছের মানসিকতারই প্রতিফলন।
মেহেদীবাগের এই ঘটনাটি শহরের জন্য এক স্পষ্ট সতর্কবার্তা। নগরের প্রতিটি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সিডিএসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে ঠুঁটো জগন্নাথের ভূমিকা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নিছক নোটিশ দেওয়া বা কারণ দর্শানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, অবৈধ এই ভবনে বাণিজ্যিক কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা এবং নকশা বহির্ভূত নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
চট্টগ্রাম নগরের অন্যতম ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকা মেহেদীবাগে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অনুমোদন ছাড়াই একটি ১০ তলা আবাসিক-বাণিজ্যিক ভবনে ‘এরিস্টো কেয়ার’ নামে একটি হাসপাতাল চালুর চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। সিডিএ, ফায়ার সার্ভিস এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের মতো অপরিহার্য সংস্থাগুলোর ছাড়পত্র ছাড়া এবং অনুমোদিত নকশা ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মিত এই চিকিৎসাকেন্দ্রটি চট্টগ্রাম শহরের সার্বিক নগর ব্যবস্থাপনা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অকার্যকারিতাকেই চরমভাবে উন্মোচিত করেছে।
সুপ্রভাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
নকশা অনুযায়ী ভবনে ২০টি পিলার স্থাপনের কথা থাকলেও করা হয়েছে ১৭টি, অন্যদিকে একটির জায়গায় বসানো হয়েছে তিনটি লিফট। এই ধরনের চরম কাঠামোগত পরিবর্তন ভবনটিকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম একটি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হওয়ায়, এ ধরনের অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে হাজার হাজার রোগীর যাতায়াত যেকোনো মুহূর্তে এক ভয়াবহ প্রাণঘাতী বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। উপরন্তু, পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না রেখে মূল সড়কের পাশে হাসপাতাল পরিচালনা করা হলে মেহেদীবাগের মতো ব্যস্ত এলাকায় যানজট পরিস্থিতি রূপ নেবে স্থায়ী মানবিক দুর্ভোগে।
এখানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও সিডিএ’র ভূমিকা। আইন অমান্য করে বহুতল ভবন নির্মাণ ও নকশা পরিবর্তনের বিষয়টি সিডিএ কর্তৃপক্ষের অজানা ছিল না। সংস্থাটি একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে, এমনকি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কাজ বন্ধের নির্দেশও দিয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের এসব স্থগিতাদেশ ও নোটিশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ করা হয়েছে এবং উদ্বোধনের দিনক্ষণও ঠিক করা হয়েছে। নোটিশ জারি আর ‘জিরো টলারেন্স’-এর ফাঁকা বুলি আওড়ানোর মধ্যেই যদি সিডিএর দায়িত্ব সীমাবদ্ধ থাকে, তবে বাস্তবে তার কার্যকারিতা শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। একের পর এক নোটিশের পরও কীভাবে বেআইনি কাজটি সম্পন্ন হলো, তা সিডিএ’র তদারকি ও সদিচ্ছা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তোলে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভূমিকাও এক্ষেত্রে প্রশ্নাতীত নয়। ভবনের অনুমোদন সিডিএ-র একতিয়ারভুক্ত হলেও, চরম প্রশাসনিক অনিয়ম ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জেনেও বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে অনুমোদনের সুপারিশ পাঠানো দায়সারা গোছের মানসিকতারই প্রতিফলন।
মেহেদীবাগের এই ঘটনাটি শহরের জন্য এক স্পষ্ট সতর্কবার্তা। নগরের প্রতিটি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সিডিএসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে ঠুঁটো জগন্নাথের ভূমিকা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নিছক নোটিশ দেওয়া বা কারণ দর্শানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, অবৈধ এই ভবনে বাণিজ্যিক কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা এবং নকশা বহির্ভূত নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
















































