এ মুহূর্তের সংবাদ

চবিতে ‘প্রীতিলতা হল সম্মাননা উৎসব’ অনুষ্ঠিত

সুপ্রভাত ডেস্ক »

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রীতিলতা হল সংসদের আয়োজনে এবং হল প্রশাসনের সহযোগিতায় ‘প্রীতিলতা হল সম্মাননা উৎসব-২০২৬’ এবং বিদায়ী শিক্ষার্থী, কৃতী শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ২০২৬) রাত ৮.৩০টায় প্রীতিলতা হলের টেনিস কোর্টে অনুষ্ঠিত হয়।

-advertise-

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন এবং মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রীতিলতা হলের প্রভোস্ট ও প্রীতিলতা হল সংসদের সভাপতি প্রফেসর ড. কাজী মোহাম্মদ মেজবাউল আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, আজ যারা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে এবং যারা বিদায় নিতে যাচ্ছে, তাদের প্রত্যেককে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের অনেকেই ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের মাধ্যমে আবারও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব বৃদ্ধি করবে। যারা কর্মজীবনে বা উচ্চশিক্ষায় নতুন পথচলা শুরু করবে, তারা যেন সততা, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে— এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

উপাচার্য বলেন, আমাদের লক্ষ্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে নিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী— উভয়কেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমরা একটি উন্নত শিক্ষাবান্ধব, গবেষণাবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সুশৃঙ্খল, শিক্ষাবান্ধব ও গবেষণামুখী পরিবেশ বজায় রাখবে। এর বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উন্নত শিক্ষার পরিবেশ, মানসম্মত পাঠদান এবং উচ্চমানের গবেষণার সব ধরনের সুযোগ নিশ্চিত করবে। তিনি হল সংসদ ও হল প্রশাসনের সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, প্রীতিলতা হল সবসময়ই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী হল। এই হল নেতৃত্ব, মেধা ও সৃজনশীলতায় সমৃদ্ধ শিক্ষার্থী তৈরি করে যাচ্ছে। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মতো তোমরাও—সত্য, ন্যায়, সৌন্দর্য ও মানবিকতার প্রতি সবসময় অবিচল থেকো। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সত্যকে ধারণ করবে, নৈতিকতাকে অনুসরণ করবে এবং দৃঢ় মনোবল নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, তোমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হলেও সামনে শুরু হচ্ছে কর্মজীবনের নতুন অধ্যায়। এখান থেকে অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও অভিজ্ঞতাই তোমাদের ভবিষ্যৎ পথচলার মূল শক্তি হবে। কর্মক্ষেত্রে নিষ্ঠা, সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করবে। নিজের কর্মক্ষেত্রে এমনভাবে অবদান রাখবে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রীতিলতা হলের সুনাম আরও বৃদ্ধি পায়। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভ কামনা জানান।

এর আগে রাত ৮টায় হলের গেস্টরুমে চাকসু আয়োজিত জুলাই স্মৃতি সংরক্ষণে বুক সেলফ ও বই প্রদান উদ্বোধন করেন মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হলের বিদায়ী শিক্ষার্থীদের এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ও খেলাধুলায় কৃতিত্ব রাখায় সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন হলের শিক্ষার্থী সুলতানা তমা। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এসময় মাননীয় উপাচার্য ও অতিথিবৃন্দ হল প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সানাউল্লাহ চৌধুরী, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ.এম. মাসুদুল আজাদ চৌধুরী, এ.এফ রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর মোহাম্মদ আলম চৌধুরী, ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন, পরিবহন দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোরশেদুল ইসলাম, চাকসুর প্রতিনিধিবৃন্দ, হল সংসদের ভিপি, জিএস ও এজিএসসহ অন্যান্যা প্রতিনিধিবৃন্দ, হলের আবাসিক শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ, কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হলের শিক্ষার্থী ডচেংনু চৌধুরী ও মরিয়ম আক্তার।