এ মুহূর্তের সংবাদ

কাতালগঞ্জে বাণিজ্যিক স্থাপনার বিরুদ্ধে তড়িৎ ব্যবস্থা প্রশংসনীয় কাজ

সমাজে কিছু মানুষ আছেন যারা ক্ষতিকর কিছু করার জন্য ওঁৎ পেতে থাকেন। যেমন কাতালগঞ্জ রাস্তার পাশে খোলা স্থানটি দখল করে বাণিজ্যিক স্থাপনা করার উদ্যোগ বারবারই নেওয়া হচ্ছে। সরকার বদল হয়, মেয়র বদল হয় কিন্তু এই অপচেষ্টা রহিত হয় না কোনোভাবে। এরমধ্যে আবার একটি গোষ্ঠী তৎপর হয়ে সেখানে গড়ে তুলছিল বাণিজ্যিক স্থাপনা। তবে আশার কথা হলো, চট্টগ্রামের মেয়র এই তৎপরতা বন্ধ করে দিয়েছেন। পরিদর্শনে গিয়ে তিনি কাতালগঞ্জে বাণিজ্যিক স্থাপনা বন্ধ ও পার্ক নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন।সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেনের এই সাহসী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত কেবল এক টুকরো ভূমি রক্ষার লড়াই নয়, বরং এটি নগরের ভবিষ্যৎ রূপরেখা পরিবর্তনের একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত।
চট্টগ্রামের মতো জনাকীর্ণ শহরে যেখানে খোলা জায়গা বা পার্কের অভাব প্রকট, সেখানে রাস্তার পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের নামে বাণিজ্যিক স্থাপনা তৈরির বিষয়টি ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং হতাশাজনক। অতীতে আমরা দেখেছি, কীভাবে নগরের বিভিন্ন স্থানে জনস্বার্থের জায়গাগুলো দখল বা বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা হয়েছে। কাতালগঞ্জের ঘটনাটি সেই ধারারই একটি অংশ ছিল। তবে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে যেভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ত্বরিত কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন, তা নগরবাসীর মধ্যে এক নতুন প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে।
সে সঙ্গে যারা এই স্থাপনা তৈরির পেছনে মদদ দিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাটি অত্যন্ত প্রশংসার দাবি রাখে।
একটি শহরে উন্নয়ন হতে হবে ভারসাম্যপূর্ণ। গাছ কেটে, মানুষের খেলার জায়গা দখল করে বাণিজ্যিক দোকানপাট নির্মাণের কোনো নৈতিক বা আইনি ভিত্তি থাকতে পারে না। মেয়র যখন বলেন, ‘এখানে বাচ্চারা এবং লোকজন রমনা পার্কের মতো বসবে, বিশ্রাম নেবে’, তখন তিনি একটি সুস্থ ও মানবিক শহরের ছবিই আমাদের সামনে তুলে ধরেন।
সবুজায়ন ও পরিবেশ রক্ষা বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। চট্টগ্রাম পাহাড় আর প্রকৃতির ঘনিষ্ঠতায় গড়ে উঠলেও অপরিকল্পিত নগরায়নের চাপে তা এখন অনেকটা কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। এমতাবস্থায়, একটি গ্রিন পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মেয়রের এই প্রতিশ্রুতি—‘এখানে গাছপালা সব ঠিক থাকবে, কোনো ধরনের গাছ কাটা যাবে না’। শহরাঞ্চলে গাছ বাঁচিয়ে রাখা মানেই হচ্ছে ফুসফুস বাঁচিয়ে রাখা।
তবে এই উদ্যোগ যেন কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় সীমাবদ্ধ না থাকে। কোনো প্রকল্প বা স্থাপনা নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতি বা দুর্নীতির সুযোগ যেন না থাকে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। মেয়রের নজরে আসার আগ পর্যন্ত এই নির্মাণ কাজ কীভাবে এগিয়েছে, তা বড় প্রশ্ন। প্রকল্প প্রণয়ন থেকে বাস্তবায়ন—প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু কাতালগঞ্জ নয়, পুরো চট্টগ্রাম শহরে যেখানেই অবৈধ স্থাপনা বা জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড চলছে, সেখানে মেয়রের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর হওয়া প্রয়োজন।
ডা. শাহাদাত হোসেনের এই উদ্যোগ নগরবাসীর হৃদয়ে আশার সঞ্চার করেছে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, একজন মেয়র চাইলে এবং দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে নগরের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষা করা সম্ভব। আমরা আশা করি, কাতালগঞ্জের এই প্রস্তাবিত পার্কটি অচিরেই একটি মনোরম ও সবুজায়িত স্থানে পরিণত হবে, যা নগরবাসীর অবসরের সঙ্গী হয়ে উঠবে। সঠিক পরিকল্পনায় সবুজে ঘেরা একটি সুন্দর চট্টগ্রাম গড়ার এই যাত্রা অব্যাহত থাকুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।