এ মুহূর্তের সংবাদ

পরিবহন খাতের আমূল সংস্কার দরকার

সড়কে মৃত্যু

প্রতি মাসেই আমাদের সামনে সড়কের লাশের মিছিলের এক ভয়াবহ পরিসংখ্যান হাজির হয়। সর্বশেষ এপ্রিল মাসের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সড়কে ঝরেছে ৫১০টি তাজা প্রাণ। নিহতদের এই তালিকায় ৯৯ জন চালক থেকে শুরু করে ৪৭ জন শিশু—কেউই বাদ পড়েনি। এই সংখ্যাগুলো কেবল পরিসংখ্যান নয়; বরং ৫১০টি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ এবং রাষ্ট্রের চরম অব্যবস্থাপনার এক নিদারুণ দলিল। বছরের পর বছর ধরে সড়কের এই বিশৃঙ্খলা ও মৃত্যুমিছিল চললেও, পরিবহন খাতের মৌলিক সংস্কার এখনো কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।
এপ্রিলের পরিসংখ্যানে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, সড়ক এখন আর কারো জন্যই নিরাপদ নয়। ৮২ জন পথচারী এবং ৫৬ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু ইঙ্গিত দেয় যে, আমাদের সড়কগুলো পথচারীবান্ধব নয়। বিশেষ করে শিশুদের প্রাণহানি আমাদের সামগ্রিক সড়ক নিরাপত্তার দৈন্যদশা ফুটিয়ে তোলে। ২৫ জন পরিবহন শ্রমিকের মৃত্যু প্রমাণ করে যে, এই খাতের অব্যবস্থাপনা খোদ শ্রমিকদের জীবনের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিবহন খাতের এই নৈরাজ্যের পেছনে বেশ কিছু চিহ্নিত কারণ রয়েছে যেমন, হাজার হাজার লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি অবাধে সড়কে চলাচল করা। সঠিক প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স ছাড়াই একটি বড় অংশ চালকের আসনে বসা। বাঁক ও ত্রুটিপূর্ণ নকশা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি। সড়ক পরিবহন আইন থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগ ও দুর্নীতির কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়া ইত্যাদি ।সড়ককে নিরাপদ করতে হলে কেবল সচেতনতা বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কাঠামোগত পরিবর্তন। পরিবহন খাতের রুট পারমিট থেকে শুরু করে মালিকানা পদ্ধতি পর্যন্ত সবকিছু সংস্কারের আওতায় আনতে হবে। ‘কোম্পানি ভিত্তিক’ বাস চলাচল ব্যবস্থা চালু করা গেলে চালকদের মধ্যে পাল্লাপাল্লি করার প্রবণতা কমবে। এছাড়া, মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
একটি সভ্য দেশে প্রতিদিন এভাবে সড়কে প্রাণ যাবে, তা মেনে নেওয়া যায় না। ৫১০টি মৃত্যু আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, বিদ্যমান ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ব্যর্থ। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। সরকারকে কঠোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে পরিবহন খাত সংস্কারে নামতে হবে।