এ মুহূর্তের সংবাদ

শিক্ষার্থী বাড়লেও চবি শাটল ট্রেনে ভোগান্তি কমেনি

সুরাহা হয়নি আসন সংকট, বহিরাগত উপদ্রপ, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের

সাবিতুল ইসলাম »

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) প্রতিবছর শিক্ষার্থী বাড়লেও কমেনি শাটল ট্রেনে ভোগান্তি এবং নানামুখী সংকট। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াতের একমাত্র বাহন শাটল ট্রেন।

-advertise-

শাটলবাহী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির প্রধান কারণ শাটল ট্রেনের পুরোনো ইঞ্জিন, বগি ও আসন সংকট, অচল লাইট-ফ্যান, শাটলে বহিরাগত প্রবেশ ও শিক্ষার্থীদের হেনস্থা, বাইরে থেকে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপসহ শিডিউল বিপর্যয়ের ঘটনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ২টি শাটল ট্রেন মাত্র ১০টি করে বগি নিয়ে দিনে ১৮ বার শহর-ক্যাম্পাস-শহর চলাচল করে। ভরসা মাত্র ৭০০টি আসন। প্রতি যাত্রায় আসনের দ্বিগুণেরও বেশি শিক্ষার্থীর যাতায়াত এ দুটো ট্রেনে।

শাটলের নানাবিধ সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২০২২ সেশনের শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘শাটলে প্রতিনিয়ত এসব ঘটনার কারণে আমরা শাটল যাতায়াতে অনিরাপদ বোধ করি। চাকসুর স্মারকলিপিতে শাটলকে একটি নিরাপদ ও আধুনিক যানবাহন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কথা থাকলেও আমরা এমন কিছু দেখতে পাইনি।’

মার্কেটিং বিভাগের ২০২১-২০২২ সেশনের শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাঈম বলেন, ‘আমাদের একমাত্র যাতায়াত ব্যবস্থা শাটল ট্রেন। শাটলে বগি সমস্যা,ইঞ্জিনের সমস্যা এবং শিডিউল বিপর্যয় আমাদের দৈনন্দিন কাজে বাধার সৃষ্টি করে। এছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রশাসনিক লোক নেই। কিছু বগিতে ১-২ জন থাকলেও তা আমা০েদর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে পারে না। কিছুদিন আগের ঘটনায় পাথরটি কপালে না লেগে চোখে লাগলে আরও বেশি কিছুও হতে পারতো।’

গত ৫ মে পাথর নিক্ষেপে আঘাতপ্রাপ্ত অ্যাকাউন্টিং বিভাগের ২০২২-২০২৩ সেশনের শিক্ষার্থী ইসরাত ফাতেমা বলেন, ‘প্রতিনিয়ত ঘটা এসব ঘটনার দায় বহিরাগতদের হোক বা এসবের পেছনে অন্য যেকোনো রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক কারণই থাকুক, আমরা আমাদের নিরাপত্তা চাই। এই দায়িত্ব প্রশাসনের, চাকসুর। দুর্ঘটনা পরবর্তী তাদের সহানুভূতি. ক্ষতিপূরণ এসব আমরা আর দেখতে চাইনা। এসব দুর্ঘটনা যাতে একেবারেই না হয়, তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এটা দেখতে চাই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সম্পুর্ণ নতুন ইঞ্জিন এবং বগি সংযোজন এখন সময়ের দাবি। তবে শিক্ষার্থীদের এ দাবি পূরণ হলেও অপেক্ষা করতে হতে পারে আরো অন্তত ৩ বছর।

বগি সংকট উত্তরণে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও চাকসু প্রতিনিধিবৃন্দ। বৈঠকে শাটল সংস্কার নিয়ে পরিকল্পনা তুলে ধরেন চাকসু প্রতিনিধিবৃন্দ। তুলনামূলক নতুন বগি নিয়ে একটি ট্রেন এবং বর্তমান দুটি শাটল থেকে ব্যবহার উপযোগী বগিগুলো নিয়ে আরেকটি ট্রেন করা হবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁঞা জানান, ‘রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন আমাদের দেয়া চিঠি মন্ত্রণালয় গ্রহণ করলেও নতুন ট্রেন আসতে ৩ বছরের বেশি সময় লাগতে পারে। তবে চাকসুতে থাকা অবস্থায় চিঠি পাশ করানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’

বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞা দৈনিক সুপ্রভাতকে জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করা হয়েছিলো যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এক্সক্লুসিভ ইঞ্জিন এবং বগির জন্য সরকারের কাছে চিঠি প্রেরণ করা হয়। এক্ষেত্রে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সাহায্য করবে, তবে অনুদান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই আনতে হবে।’

এছাড়া তুলনামূলক ভালো ১০ টি নতুন বগি সংযোজন নিয়ে তিনি বলেন, ‘ঈদের আগে বগিগুলো রেডি হয়ে যাবে। তবে ঈদের পরেই বগিগুলো সংযোজন করা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ডেডিকেটেড ইঞ্জিন ও বগি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে সহকারী প্রক্টর ড. মো. কামরুল হোসেন বলেন, ‘এটি পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা। ভিসি স্যার মন্ত্রণালয়ের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তুলনামূলক ভালো নতুন বগিগুলো রেডি। নতুন বগিগুলো সংযোজন করা হবে।’

উপ উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘ট্রেনের বগিগুলো রিপ্লেস করে তুলনামূলক ভালো বগি আনা হবে। এগুলো চলে আসবে।’