নিজস্ব প্রতিনিধি, চন্দনাইশ >>
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তূপ জমে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে একদিকে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে জনস্বাস্থ্যঝুঁকি।
পৌরবাসীর অভিযোগ, পৌর এলাকার ব্যস্ততম সড়ক ও জনবহুল স্থানে দিনের পর দিন ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকলেও তা অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে সকাল ও দুপুরের দিকে দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র হয় যে পথচারীদের নাক চেপে চলাচল করতে হয়। এতে সড়কের পাশের দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতির মুখে পড়ছে।
পথচারীরা বলেন, একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এমন অব্যবস্থাপনা হতাশাজনক। দ্রুত ময়লা অপসারণ, নির্ধারিত স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানান তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা এবং নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও নাজুক হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এসব ময়লা নালা-নর্দমায় জমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও তৈরি করছে।
এ বিষয়ে চন্দনাইশ পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাজিব মজুমদার বলেন, “পৌর এলাকার বিভিন্ন বাজারে বড় ডাস্টবিন এবং প্রতিটি দোকানে ছোট আকারের ডাস্টবিন বিতরণ করা হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত জনবলের সংকট এবং বর্জ্য ফেলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় সময়মতো বর্জ্য অপসারণ করা অনেক সময় সম্ভব হয় না। কয়েকদিন আগে মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি চিঠি এসেছে। চিঠি অনুযায়ী সরকারি খাস জমিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।”
চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রশ্মি চাকমা বলেন, রাস্তার পাশে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন বর্জ্য পড়ে থাকলে দুর্গন্ধের পাশাপাশি মশা-মাছি ও ইঁদুরসহ বিভিন্ন রোগবাহক প্রাণীর বংশবিস্তার ঘটে। এর ফলে ডায়রিয়া, চর্মরোগ, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি আবর্জনা নালা-নর্দমায় জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করলে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ে।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য নির্দিষ্ট স্থানে ও ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিনে ময়লা ফেলতে হবে। পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করে রাখা এবং নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা করা জরুরি। নাগরিকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।




















































