নিজস্ব প্রতিবেদক >>
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের বিভাগীয় সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্যাংকের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, কৃষিঋণ বিতরণ বৃদ্ধি, গ্রাহকসেবার মান উন্নয়ন এবং কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
শনিবার (২৯ আগস্ট) নগরের ষোলশহরস্থ এলজিইডি ভবনের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল আমিন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক চট্টগ্রাম বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (দায়িত্বে) মো. কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আঃ রহিম, মোহা. খালেদুজ্জামান, পরিকল্পনা ও পরিচালন মহাবিভাগের মহাব্যবস্থাপক আশরাফুজ্জামান খান এবং আইসিটি মহাবিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দীন রাজীব। এছাড়াও ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা সম্মেলনে অংশ নেন।
সম্মেলনে ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রমের অগ্রগতি, কৃষিঋণ বিতরণ, খেলাপি ঋণ আদায়, গ্রাহকসেবা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ নূরুল আমিন বলেন, “জীবনে সফল হতে হলে একজন মানুষকে সবসময় শেখার মানসিকতা ধরে রাখতে হবে। শিক্ষা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। শেখার মাধ্যমে শুরু হয় অনুশীলন, অনুশীলনের মাধ্যমে তৈরি হয় দক্ষতা এবং ধারাবাহিক চর্চার মাধ্যমে অর্জিত হয় বিশেষায়িত জ্ঞান।”
তিনি বলেন, “কেউ একদিনে সফল বা নেতা হয়ে ওঠে না। নিয়মিত পরিশ্রম, অভিজ্ঞতা, নিজের কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং উন্নতির মানসিকতাই একজন মানুষকে দক্ষ পেশাজীবী ও যোগ্য নেতৃত্বের পর্যায়ে নিয়ে যায়। প্রকৃত নেতৃত্ব মানে শুধু একটি পদ বা পরিচয় নয়; বরং দায়িত্বশীলতা, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নিজের কাজের মাধ্যমে উদাহরণ তৈরি করা।”
তিনি আরও বলেন, “জীবনে শুধু গতিশীল থাকলেই হবে না, সেই গতির সঠিক দিকনির্দেশনা থাকতে হবে। স্পষ্ট লক্ষ্য, পরিকল্পনা ও গন্তব্য থাকলে মানুষ কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে পারে। একটি লক্ষ্য অর্জনের পর নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত করার চেষ্টা করতে হবে।”
প্রধান অতিথি সেবার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “একজন প্রকৃত পেশাজীবীর সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো তার সেবার মান। সেবা হতে হবে সঠিক, দ্রুত ও নিরাপদ। মানুষের প্রয়োজন বুঝে সময়মতো কার্যকর সেবা প্রদান করলে তৈরি হয় আস্থা ও বিশ্বাস।”
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কৃষকদের কাছে সহজে ঋণ পৌঁছে দেওয়া, আধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছ ঋণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যাংকের সেবাকে আরও জনবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, দক্ষতা, সততা, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীলতার সমন্বয়ে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক দেশের কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।




















































