নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে আর্থিক সমস্যা প্রধান অন্তরায় : সুজন

0
132

সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, নাগরিক দুর্ভোগমুক্ত ও সুযোগ-সুবিধাসম্বলিত বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলাই আমার স্বপ্ন। কিন্তু সে স্বপ্ন পূরণে যে আর্থিক সক্ষমতা দরকার তা নেই। নগরীর বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছি এবং যেগুলো জরুরি ভিত্তিতে নিরসন প্রয়োজন সেজন্য কাজ শুরু করেছি। পরামর্শক কমিটি থেকে যে পরামর্শগুলো পেয়েছি সেগুলো যৌক্তিক কিন্তু বাস্তবায়ন করা কঠিন। তবে আগামীতে চসিকের নির্বাচিত পরিষদ চট্টগ্রামকে যেন বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে পারে সেজন্য কী ধরনের কর্মপরিকল্পনা থাকা দরকার তার একটা ধারণা আমি রেখে যেতে চাই।
তিনি গতকাল রোববার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরামর্শক কমিটির সঙ্গে ভার্চুয়াল সভায় এ কথাগুলো বলেন।
তিনি আরও বলেন, চসিকের সেবামূলক কার্যক্রম চলমান রাখতে সরকারের কাছে বরাদ্দ চেয়েছি। ইতোমধ্যে কিছু থোক বরাদ্দ পেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সরকারি সেবাসংস্থা বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা তাদের ভারী যানবাহন ও কন্টেইনারগুলো চসিকের রাস্তাগুলো ব্যবহার করে। এ রাস্তাগুলোর উপর ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি মালামাল পরিবহনের কারণেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ সড়কগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্দরের মোট আয় থেকে শতকরা ১ অংশ সার্ভিস চার্জ চেয়েছি। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ল্যান্ডিং অবস্থান এ নগরীতে। এ কারণে তাদের কাছ থেকেও সার্ভিস চার্জ চসিক পেতে পারে। ইপিজেডের হোল্ডিং ট্যাক্স না দিলেও সার্ভিস চার্জ অবশ্যই দেয়া দরকার।
তিনি আরো বলেন, আমাদেরকে শিক্ষাখাতে বড় অংকের ভর্তুকি দিতে হয় এবং একইভাবে স্বাস্থ্যখাতেও দিতে হচ্ছে। নগরীতে সরকারি সেবা সংস্থার বড় বড় মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ চলছে। এই কাজের সমন্বয়হীনতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে এবং নাগরিক দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজে সমন্বয় দরকার।
পরামর্শক কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্যসচিব, ব্র্যাকের সিনিয়র অ্যাডভাইজার মো. আবদুল করিম বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ উধ্বর্তন পদে চট্টগ্রামের সন্তানরা দায়িত্ব পালন করছেন। অনেক সাবেক কর্মকর্তাও দায়িত্ব পালন করেছেন। সবাইকে নিয়ে ঢাকায় একটি সভা করা দরকার। এখান থেকে চট্টগ্রামের স্বার্থে অনেক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
চসিক সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সমন্বয়ের জন্য দরকার একজন মুখ্য কা-ারি। এখানে নগর সরকারের কথা উঠেছে। ১৯৮২ সালের সিটি করপোরেশন অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়ন না হলে নগর সরকার বাস্তবায়ন হবে না।
দৈনিক পূর্বকোণের সম্পাদক ডা. রমিজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সিটি করপোরেশনের লোকসংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে এই সংখ্যা ৬০ লাখের বেশি। কিন্তু জনবল বাড়েনি। তহবিলও বাড়েনি। তাই লোকবলের অভাব ও আর্থিক সামর্থ্যরে যথেষ্ট অভাব রয়েছে। সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে অধিকার আদায়ের জন্য চসিকেরও একটি লবিং গ্রুপ থাকা দরকার।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য কমডোর জোবায়ের আহমদ বলেন, কর্ণফুলী বাঁচলে চট্টগ্রাম বাঁচবে, চট্টগ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। তাই আগে কর্ণফুলীকে বাঁচানোর জন্য নিয়মিত ও সঠিকভাবে ড্রেজিং সবচেয়ে বেশি দরকার। এতে স্বাভাবিকভাবে চট্টগ্রামের উন্নয়নের গতি বৃদ্ধি পাবে।
এশিয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএ’র ১ম সহ-সভাপতি এম ছালাম বলেন, চট্টগ্রাম বাঁচলে দেশ বাঁচবে- এটাকে জাতীয় শ্লোগানে পরিণত করতে হবে।
সাবেক আইজিপি মো. নুরুল আলম বলেন, চসিককে বাঁচাতে হলে ঢাকা থেকেই দাবি তুলতে হবে। আমরা ঢাকায় চট্টগ্রাম সমিতির মাধ্যমে চট্টগ্রামের স্বার্থে অনেক দাবি তুলেছিলাম। সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হয়েছে ও হচ্ছে।
শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রফেসর হাসিনা জাকারিয়া বলেন, আমি চাইছি চসিকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বন্ধ হয়ে না যায়। দেশে আর কোন সিটি করপোরেশনের এত ব্যাপক শিক্ষাখাত নেই। যুগের চাহিদা অনুযায়ী চসিকের বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান চালু করা দরকার।
ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক অপারেশান আকরাম খান বলেন, বিশ বছর আগে ক্রিকেটসহ যেকোন জাতীয় দলে চট্টগ্রাম থেকে ৭/৮জন প্রতিনিধিত্ব করতো। বর্তমানে জাতীয় ক্রিকেট দলে তামিম ছাড়া আর কেউ নেই। এর কারণ চট্টগ্রামে ক্রীড়া উপযোগী মাঠগুলো বেদখল হয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের বাড়ির সামনে, আউটার স্টেডিয়ামে ও সার্কিট হাউসের সামনে মাঠে খেলাধুলা করে জাতীয় দলে ঠাঁই করে নিতে পেরেছিলাম। খেলাধুলার স্থান সংর্কীণ হয়ে গেলে নতুন প্রজন্ম বিপথগামী হবে, মাদকাসক্ত হবে।
ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, চট্টগ্রামে একটি ক্রিকেট একাডেমি হওয়া দরকার। তবে তার জন্য বড় পরিসর প্রয়োজন। আমার প্রস্তাব, নগরীর বাইরে বড় এলাকা নিয়ে এই ক্রিকেট একাডেমী গড়ে উঠুক। আমি মনে করি করপোরেশনের শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতের জন্য আলাদা বাজেট থাকা দরকার। চট্টগ্রামে অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তি রয়েছেন। তারা এগিয়ে এলে ফান্ডের সংকট কেটে যাবে।
চসিকের সচিব আবু সাহেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও রাশিয়ার অনারারি কনসাল স্থপতি আশিক ইমরান, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী, আইইবি চট্টগ্রামের সভাপতি প্রবীর কুমার সেন। বিজ্ঞপ্তি