দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য

0
225

নিজস্ব প্রতিনিধি, মহালছড়ি :
নেই কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আর আধুনিক যন্ত্রপাতি। যা আছে একমাত্র কাঠ, হাতুড়ি আর বাটালি। এগুলো দিয়েই কাঠের ওপর ফুটিয়ে তোলেন মানুষ, জীবজন্তুসহ বিভিন্ন প্রকৃতির জীবন্ত ছবি। কাঠ দিয়ে মানুষ ও জীবজন্তুর প্রতিকৃতির কারুশিল্পী হলেন, খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মুবাছড়ি ইউনিয়নের মধ্য আদম খামারপাড়া গ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সুপ্রিয় চাকমা। কাঠ দিয়ে তৈরিকৃত প্রতিকৃতি খোদাইয়ের নৈপুণ্যতা দেখলে অনেকের মন ভরে যায়।
সুপ্রিয় চাকমা’র বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানেই চটের বস্তার উপড় বসে কাঠের ওপর বনরুই নামের এক বন্য প্রাণির ছবি খোদাই করছেন। এ সময় কাঠের উপড় খোদাই করে তৈরি করা অনেকগুলো প্রতিকৃতি দেখালেন। এরমধ্যে জাতীয় ফুল শাপলার ওপর বাংলাদেশের মানচিত্র, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর নির্বাচনী প্রতিক নৌকা, বুদ্ধমূর্তি, মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা’র ভাস্কর্যসহ বিভিন্ন জীবজন্তুর প্রতিকৃতি রয়েছে।
কাজ করতে করতে সুপ্রিয় চাকমার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ছোটকাল থেকে ছবি আঁকার প্রতি তাঁর বেশ ঝোঁক ছিল। অভাবের কারণে লেখাপড়াও করতে পারেননি তিনি। তারপরও ছবি আঁকার হাল ছাড়েননি। লেখাপড়া করতে না পারলেও নিজেই কাপড় বুনতেন এবং কাপড়ের উপর বিভিন্ন ছবি আঁকতেন। মাঠে গরু চরাতে গেলে হাতপাখা তৈরি করে হাতপাখার উপর বিভিন্ন ছবি আঁকতেন। এমন এক সময়ে স্থানীয় এক বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ শ্রীমৎ প্রজ্ঞারত্ন ভিক্ষু নামের এক ভান্তে কাঠ দিয়ে একটি হাঁসের প্রতিকৃতি তৈরি করতে দিয়ে সাহস যোগান। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন পশু-পাখির প্রতিকৃতি তৈরির কাজ শুরু করেন। সংসার জীবন শুরু করার পর পারিবারিক চাহিদা মেটাতে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কৃষিকাজ করতেন। বর্তমানে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক সন্তানের জনক তিনি। কৃষিকাজের পাশাপাশি ভাস্কর্য তৈরির কাজ করেন। একেকটি ভাস্কর্য, ছবি আকারভেদে তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে। কৃষিকাজের পাশাপাশি কাঠের ভাস্কর্য তৈরি করে কোন রকম সংসার চলছে বলে জানান সুপ্রিয় চাকমা। যদি আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকত, তাহলে ভাস্কর্য তৈরির কাজ আরো অনেক সুবিধা হতো বলে জানান তিনি।
সুপ্রিয় চাকমা’র ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান বাপ্পী খীসা বলেন, সুপ্রিয় চাকমার প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিক্ষা না থাকা আর বর্তমানে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও কাঠ দিয়ে বিভিন্ন ভাস্কর্য তৈরিতে প্রতিভার যে নৈপুণ্যতা দেখাচ্ছেন তা সত্যিই অতুলনীয়। আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলে সুপ্রিয় চাকমা আরো প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারতেন বলে মনে করেন তিনি।