আন্তর্জাতিক

দাবানলের ধোঁয়ায় ঢেকেছে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ!

কানাডার দাবানল | ছবি: সিবিসি

সুপ্রভাত ডেস্ক »

৮৫৮টি দাবানলে পুড়ছে কানাডা, নিয়ন্ত্রণের বাইরে শতাধিক। এরই মধ্যে পুড়ে ছাই ৫৯ লাখ একর এলাকা। ধোঁয়ার পুরু স্তরে ঢেকে গেছে প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রের ১৯টি অঙ্গরাজ্য।

-advertise-

ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন দু’দেশের প্রধান শহরগুলো। দৃষ্টিসীমা এতটাই নেমে গেছে যে, ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালের আয়োজন যে স্টেডিয়ামে, খানিক দূর থেকে দেখা যাচ্ছে না সেটিও।

ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে সারা বিশ্বে, তখন ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে আর্জেন্টিনা-স্পেন ম্যাচের ভেন্যু। কানাডার দাবানলের ধোঁয়া এতটাই গ্রাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রকে যে দৃষ্টিসীমা নেমে গেছে নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। রোববার ৮০ হাজার ফুটবলপ্রেমীর জমায়েত হওয়ার কথা এখানে।

৮০০ এর বেশি দাবানলে পুড়ছে কানাডা। স্থানীয় সময় গতকাল (বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই) মধ্যরাত পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণের বাইরে অন্তত ১১১টি। এরই মধ্যে পুড়ে ছাই হয়েছে ৫৯ লাখ একর এলাকা। আগুনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি মানিটোবা, সাসকাচিউয়ান ও অন্টারিও প্রদেশে। অন্টারিও’র উত্তরে আগুনের কারণে পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ছাড়তে হয়েছে আদিবাসী ফার্স্ট নেশন গোষ্ঠীর অধিবাসীদের। ঘুম ভেঙেই ধূসর ধোঁয়ার ভেতরে নিজেদের দেখতে পান টরোন্টোর বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘শহরে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। ধোঁয়ার স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে আজকে। গতকালও পরিস্থিতি এতটা বিদঘুটে ছিল না।’

অন্য একজন বলেন, ‘আমার মনে হয়, একটি সভ্যতা হিসেবে সম্মিলিতভাবে পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের আরও অনেক কিছু করার আছে। আরও বেশি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। এই ঘটনাগুলো তো ঘটবেই, কিন্তু ইদানিং খুব ঘন ঘন ঘটছে। প্রতি গ্রীষ্মেই জুলাই ও আগস্ট মাসে এমন একটা সময় আসে যখন আমরা ধোঁয়া আর দাবানলে ভীষণ ক্ষতির মুখে পড়ি।’

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্কি কার্নি বলেন, ‘দেশজুড়ে দাবানলে বিপর্যস্ত কানাডার হাজার হাজার মানুষের জীবন। মানিটোবায় বন্যার মতো ছড়াচ্ছে আগুন। কানাডার মানুষের পক্ষ থেকে, এখানে উপস্থিত সবার পক্ষ থেকে, সারা দেশের প্রতিটি মানুষের হয়ে আমি আমাদের সাহসী দমকলকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ধন্যবাদ স্থানীয় এবং আদিবাসী সেই সব মানুষকে যারা আগুন নেভাতে, আমাদের জনগণের নিরাপত্তায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।’

কানাডার দাবানলে সৃষ্ট ধোঁয়া ডেট্রয়েট-টরোন্টো থেকে পৌঁছে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত। ঘন-কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে প্রতিবেশী দেশটির ১৯টি অঙ্গরাজ্য। বাতাসে দূষণ এতটাই তীব্র আর বিস্তৃত যে সতর্কতা জারি করা হয়েছে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। ইলিনয়ের শিকাগো, মিশিগানের গ্র্যান্ড র‌্যাপিডস, পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গ আর ওহাইও’র টোলেডোতে বায়ু মান সবচেয়ে করুণ।

স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, ‘প্রায় কিছুই দেখা যাচ্ছে না। এই এখনও আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে, চোখে পানি এসে যাচ্ছে আর কন্টাক্ট লেন্স শুকিয়ে যাচ্ছে। বাতাসের মান খুবই ভারী, তাই আজ মাস্কও পরেছি। সিগারেট কিনতেও যেতে হচ্ছে না, কিন্তু দিন শেষে মনে হচ্ছে সারা দিন শুধু ধূমপানই করেছি।’

ব্যাপারটা অদ্ভুত, কারণ বাইরে তাকালে মনে হয় কুয়াশা পুরো শহরটাকে ঢেকে ফেলেছে, কিন্তু এটা আসলে ধোঁয়া। বাইরে হাঁটলে গা জ্বলে যায়। একটু জ্বালাও করে। আমাদের দুজনেরই সিওপিডি ও অ্যাজমা থাকায় শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে, তাই শ্বাস নিতে বেশ কষ্ট হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল শহর নিউ ইয়র্কে মাস্ক পরেও ধোঁয়ার বিষাক্ততা থেকে বাঁচতে পারছে না নগরবাসী। ঘন ধোঁয়ায় শহরজুড়ে দৃষ্টিসীমার বাইরে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং, স্ট্যাচু অফ লিবার্টির মতো উঁচু দর্শনীয় স্থাপনাগুলো। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় শহরের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ মেয়রের।

যুক্তরাষ্ট্র নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, ‘নিউ ইয়র্কবাসীরা যেমনটা টের পাচ্ছেন, কানাডার দাবানলের ধোঁয়া আমাদের শহরের ওপর বয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ভয়াবহ দিনটি আজ হতে পারে।’

উত্তরপশ্চিমমুখী বাতাসের কারণে চলতি সপ্তাহজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চল দাবানলের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকবে বলে আভাস আবহাওয়া বিভাগের। সোমবার নাগাদ বাতাসের গতিপথ পাল্টালে ধোঁয়া গ্রাস করতে পারে কুইবেককে।