সাতকানিয়া প্রতিনিধি »
সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অনেক পরিবার হারিয়েছে বসতঘর, তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, ভেঙে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ। এমন পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে শুক্রবার (১৭ জুলাই) চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ও কালিয়াইশ ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী চন্দনাইশ উপজেলার পৌরসভাসহ কয়েকটি এলাকায় ত্রাণ বিতরণ ও ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
পরিদর্শনকালে তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে চাল, ডাল, তেল, শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন। পাশাপাশি দুর্গত মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগ, ক্ষয়ক্ষতি ও জরুরি চাহিদার বিষয়েও খোঁজখবর নেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কোনো মানুষকে একা ফেলে রাখা হবে না। জরুরি ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, মানুষের বসতঘর পুনর্নির্মাণ, জীবিকা পুনরুদ্ধার এবং স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, কৃষি খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হবে। একই সঙ্গে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সরকারি স্থাপনা দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে। তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন মানবিক সংগঠনকে দুর্গতদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি জানান, যেসব পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়া হবে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দীন চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম, বিএনপি নেতা নাজমুল মোস্তাফা আমিন, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বন্যায় সাতকানিয়ার বিস্তীর্ণ জনপদে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমন সময় অর্থমন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন, দুর্গত মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং পুনর্বাসনের আশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
পরিদর্শন শেষে অর্থমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়ে বলেন, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্গঠনে সাতকানিয়ার মানুষের পাশে সরকার সবসময় থাকবে।
















































