কর্ণফুলীর দূষণ ও দখল বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ

0
268

বন্দরে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সচিব

সুপ্রভাত রিপোর্ট
কর্ণফুলী নদীর খালগুলো ভরাট হওয়াসহ দূষণ ও অবৈধ দখল বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নৌপরিবহন সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী।
কর্ণফুলী নদীর দূষণরোধ, নাব্যতাবৃদ্ধি ও অবৈধ দখলরোধকল্পে নদী সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের অংশগ্রহণে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভা গতকাল রোববার বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ তাদের স্ব স্ব সংস্থার কর্ণফুলী নদী সংশ্লিষ্ট প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি এবং বাস্তবায়নের সুফল সম্পর্কে অবহিত করেন। কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা মূল চ্যানেলে বৃদ্ধি পেলেও খালসমূহ ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং দূষণ ও অবৈধ দখল বৃদ্ধি পাওয়ায় সভাপতি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি প্রতিটি সংস্থাকে তাদের প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নদীর দূষণরোধ এবং অবৈধ দখল প্রতিরোধেসমন্বিতভাবে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কর্ণফুলী নদীর দূষণরোধ, নাব্যতাবৃদ্ধি ও অবৈধ দখলরোধকল্পে প্রণীত মাস্টারপ্ল্যাান যথাসময়ে বাস্তবায়নে সংস্থাসমূহকে আরো উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ প্রদান করা হয়। কর্ণফুলী নদীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্টেক হোল্ডার হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরকে এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে কর্ণফুলী নদীরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি সভায় আলোচিত হয়।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে কর্ণফুলী নদীর ভূমিকা অতুলনীয়। তাই ভবিষ্যতে এ নদীকে একদিকে দূষণ ও অবৈধদখলের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে, অপরদিকে নাব্যতাবৃদ্ধির মাধ্যমে আরো বৃহৎ পরিসরের জাহাজ গমনাগমনের সুবিধা তৈরি করতে হবে। শহরের নাগরিক বর্জ্য এবং সুয়ারেজের মাধ্যমে যাতে নদীদূষণের মাত্রা বৃদ্ধি না পায়, এ জন্য নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ অন্য প্রতিতরোধমূলক কার্যব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সভায় মতপ্রকাশ করা হয়। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের লাইফ লাইনখ্যাত কর্ণফুলী নদীকে দূষণ ও অপদখলের হাত থেকে রক্ষা করে তার নান্দনিক রূপ ফিরিয়ে এনে দেশের অর্থনীতিতে আরো অধিক অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টির জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান সভার সভাপতি।
সভায় বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এসএম আবুল কালাম আজাদ (জি) এনজিপি, এনডিসি, পিএসসি, বিএন ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তান্দ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের চবক অধিশাখার কর্মকর্তাবৃন্দ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম ওয়াসা, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিআইডব্লিউটিএÑএর প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।