সুপ্রভাত ডেস্ক »
আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী বলেছেন, আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এখানে পাঠিয়েছেন এবং দুটো গ্রুপ করে দিয়েছেন। একটা হলো আল্লাহর দল, একটা হলো শয়তানের দল।
শয়তান প্রতি মুহূর্তে ডিস্টার্ব করবে আল্লাহর হিজবুল্লাহকে। এখন হিজবুল্লাহর কোনো কাজ করতে গেলে, হিজবুশ শয়তান সেখানে উপস্থিত থাকে কী করে ওটা তছনছ করে দেওয়া যায়।
ঠিক ইসলামিক ব্যাংকের ক্ষেত্রেও হিজবুশ শয়তান ঢুকে হিজবুল্লাহদেরকে তছনছ করে দিয়েছে। অতীতে ব্যাংকিং খাতে এমন ঘটনা ঘটেছে যেখানে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী নামে-বেনামে ঋণ গ্রহণ করে বিপুল পরিমাণ অর্থের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, যা ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ বন্ধ করতে শক্তিশালী জবাবদিহি ব্যবস্থা, কার্যকর তদারকি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি।
শনিবার আইআইইউসি’র সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত ‘রিপ্রেজেন্টেশন অ্যান্ড ডিসিশন-মেকিং: অ্যা মডেল ফর অ্যাকাউন্টেবল ব্যাংকিং প্র্যাকটিস উইথ পার্টিকুলার রেফারেন্স টু ইসলামিক ব্যাংকিং’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইআইইউসির সমাজবিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন আইআইইউসির ট্রেজারার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইআইইউসির সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সিরাজুল ইসলাম। প্রফেসর মনির আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অর্থনীতি ও ব্যাংকিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. শরিফুল হক।
মূল প্রবন্ধে প্রফেসর ড. আবুল কালাম আজাদ ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে হলে অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সুশাসন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী আরও বলেন, ইসলামে জবাবদিহিতা একটি মৌলিক ধারণা। প্রত্যেক মানুষ তার কাজের জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করবে। এই বিশ্বাসই একজন মুসলিমকে ন্যায় ও সততার পথে পরিচালিত করে। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থাও একই নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত, যেখানে স্বচ্ছতা, নৈতিকতা ও কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত থাকবে। জনগণের অর্থ সুরক্ষা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখতে শক্তিশালী তদারকি, স্বচ্ছ পরিচালনা ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিকল্প নেই। ইসলামী ব্যাংকিংয়ের লক্ষ্য ও আদর্শকে সমুন্নত রাখতে জবাবদিহিতাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
সেমিনারে শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করতে একাডেমিক গবেষণা ও নীতিগত আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।


















































