ফিচার এলাটিং বেলাটিং

স্মৃতিগল্প

আজ বিশ্ব মা দিবস| পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতি রইল ভালোবাসা

নাজমুল হাসান চৌধুরী হেলাল »

আমার জীবনের সবচেয়ে কোমল, উষ্ণ আর নিরাপদ আশ্রয়ের নাম- মা| ছোটবেলার এক বিকেলের কথা আজও স্পষ্ট মনে পড়ে| সেদিন আকাশটা ছিল মেঘলা, হালকা বৃষ্টি পড়ছিল| স্কুল থেকে ভিজে ভিজে বাড়ি ফিরেছিলাম| দরজার সামনে দাঁড়াতেই মা ছুটে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন| তার আঁচলের গন্ধে যেন সব ক্লান্তি, সব অ¯^স্তি মিলিয়ে গেল|
মা দ্রুত আমার ভেজা কাপড় বদলে দিয়ে গরম ভাত আর ডাল এনে বসালেন| আমি খেতে খেতে দেখছিলাম- মা এক হাতে আমার মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন, আরেক হাতে চুল শুকিয়ে দিচ্ছেন| তার চোখে ছিল এক অদ্ভুত মমতা, যেন আমার সামান্য কষ্টও তিনি সহ্য করতে পারেন না|
মায়ের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত যেন হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা অমূল্য রত্ন| ছোটবেলায় যখন কিছুই বুঝতাম না, তখনও মায়ের স্নেহমাখা হাতের স্পর্শ আমাকে নিরাপত্তার এক অদৃশ্য বলয়ে আবৃত রাখত| সকালবেলা ঘুম ভাঙার পর মায়ের মুখটাই ছিল আমার দিনের প্রথম আলো| তাঁর ডাকে, তাঁর হাসিতে, আর তাঁর যত্নে আমার ˆশশব ধীরে ধীরে রঙিন হয়ে উঠেছিল|
জীবনের পথে যত বড় হয়েছি, তত বুঝেছি- আমার ¯^প্নগুলো শুধু আমার নয়, সেগুলোর সঙ্গে মিশে আছে মায়ের নিরলস ত্যাগ আর ভালোবাসা| আমার সামান্য সাফল্যে তাঁর চোখে যে আনন্দের ঝিলিক দেখেছি, তা কোনো অর্জনের চেয়েও বড়| আবার ব্যর্থতার মুহূর্তে তাঁর সান্ত্বনার কথা আমাকে নতুন করে সাহস জুগিয়েছে|
মায়ের সঙ্গে সুখ-দুঃখের কত স্মৃতি যে জড়িয়ে আছে! কখনো অসুস্থ হলে রাত জেগে আমার পাশে বসে থাকা, কখনো পরীক্ষার আগে নিজের সব কাজ ফেলে আমাকে পড়াতে বসা- এসব ছোট ছোট ঘটনাই আজ বড় হয়ে মনে হয়| তাঁর ভালোবাসা ছিল নিঃ¯^ার্থ, নির্ভেজাল|
আজ যখন জীবন একটু একটু করে নিজের মতো করে গড়ে উঠছে, তখন বুঝতে পারি- মায়ের সেই ত্যাগই আমার পথ চলার শক্তি| তাঁর শেখানো মূল্যবোধ, ˆধর্য আর মানবিকতা আমার প্রতিটি সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে|
মা আমার জীবনের প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু, আর সবচেয়ে বড় আশ্রয়| তাঁর সঙ্গে কাটানো স্মৃতিগুলো কখনো পুরোনো হয় না, বরং সময়ের সঙ্গে আরও মূল্যবান হয়ে ওঠে| যত দূরেই যাই, হৃদয়ের এক কোণে মা সবসময় একইভাবে রয়ে যান- অপরিবর্তিত, অমলিন, অনন্ত ভালোবাসার প্রতীক হয়ে|
সেই দিন রাতে বিদ্যুৎ ছিল না| মা কুপির আলো জ্বালিয়ে আমাকে গল্প শোনাচ্ছিলেন| তার কণ্ঠে ছিল শান্তির সুর, আর সেই গল্পের ভেতরেই আমি ধীরে ধীরে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম| ঘুমানোর আগে মনে হয়েছিল- এই পৃথিবীতে যদি কোনো জায়গা সত্যিই নিরাপদ হয়, তা হলো মায়ের বুক|
সময়ের সাথে সাথে বড় হয়েছি, দায়িত্ব বেড়েছে, দূরত্বও কিছুটা ˆতরি হয়েছে| তবুও মায়ের সেই স্নেহ, সেই যত্ন, সেই নির্ভরতার অনুভূতি কখনো বদলায়নি| আজও কোনো কষ্টে পড়লে মনে পড়ে সেই বৃষ্টিভেজা বিকেল, মায়ের উষ্ণ আলিঙ্গন|
মা শুধু একজন মানুষ নন- তিনি আমার শক্তি, আমার সাহস, আমার ¯^প্নের প্রেরণা| তার ত্যাগ আর ভালোবাসার ঋণ কখনো শোধ করার নয়| তাই প্রতিটি দিনই চেষ্টা করি- মাকে ভালো রাখতে, তার মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলতে| কারণ আমার সব সুখের শুরু আর শেষ- আমার মা|
মা দিবসে আমার প্রিয় মাসহ সকল মা-কে জানাই গভীর শ্রদ্ধা, আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা|