সুপ্রভাত ডেস্ক »
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীতে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে একটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে কনিকা দাশ (১৯) নামের এক নববধূ নিখোঁজ হয়েছেন। তবে স্থানীয় চার তরুণের অসীম সাহসিকতায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যসহ নৌকার চালককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার দেওয়ানজীঘাট ও কোদালা ঘাট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কোদালা জেলেপাড়া থেকে চন্দ্রঘোনা মিনারপাড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রী নিয়ে রওনা হয়েছিল একটি নৌকা। নৌকাটি নদীর মাঝপথে পৌঁছালে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের তীব্র তাণ্ডবে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কর্ণফুলী নদীতে ডুবে যায় এবং আরোহীরা নদীতে তলিয়ে যেতে থাকেন।
নৌকাটি যখন ডুবে যাচ্ছিল, তখন কোদালা ঘাটে অবস্থান করছিল ১৫ বছর বয়সী কিশোর মো. রবি উল্ল্যাহ। ঘটনাটি চোখে পড়ামাত্রই সে তার বড় ভাই অলি উল্ল্যাহ, বন্ধু শিমুল ও আব্দুল্লাহকে ডেকে আনে। এরপর তারা সময় নষ্ট না করে বাবা মোহাম্মদ বাবুলের ইঞ্জিনচালিত বোটটি নিয়ে দ্রুত নদীতে উদ্ধার অভিযানে নেমে পড়ে। তীব্র স্রোত ও ঝড়ের মাঝেও মাত্র ১০ মিনিটের চেষ্টায় নদীতে ডুবে যাওয়া পাঁচজন ও নৌকার চালককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয় এই চার তরুণ।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন– রাজ ঘোষ (২), অনিশ ঘোষ (৬), পলি দাশ (২৫), রুপন ঘোষ এবং নৌকার চালক। উদ্ধারের পরপরই তাদের দ্রুত চন্দ্রঘোনা মিশন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, দুই বছর বয়সী শিশু রাজ ঘোষের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর থেকে কনিকা দাশ নামের ওই নববধূ নিখোঁজ রয়েছেন। বিকেল পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল নদীতে ব্যাপক তল্লাশি চালালেও তার কোনো সন্ধান মেলাতে পারেনি।
অন্যদের জীবন বাঁচাতে পারলেও নববধূকে না পাওয়ার আক্ষেপ ঝরে পড়ল উদ্ধারকারী কিশোর রবি উল্ল্যাহর কণ্ঠে। সে বলে, ‘সবাইকে বাঁচাতে পেরে ভালো লাগছে। তবে নববধূকে উদ্ধার করতে পারলে আরও বেশি ভালো লাগত।’



















































