এ মুহূর্তের সংবাদ

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে বিয়ের আশ্বাসে ‘ধর্ষণ’

অভিযুক্ত ইমতিয়াজ আলম গ্রেপ্তার

অভিযুক্ত ইমতিয়াজ আলম

সুপ্রভাত ডেস্ক »

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়। এরপর ধীরে ধীরে প্রেম, বিয়ের স্বপ্ন আর ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি। সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই রাজধানীর এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে একাধিকবার ধর্ষণ, গোপনে অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ এবং পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের এক যুবকের বিরুদ্ধে।

সবশেষ বিয়ের আশ্বাসে তরুণীকে ঢাকা থেকে ৭ লাখ টাকা নিয়ে চট্টগ্রামে আসতে বলা হয়। এরপর নগরের স্টেশন এলাকায় নিয়ে তার কাছ থেকে টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত যুবক। যদিও পরবর্তী সময়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী পরিবার ও তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো ঘটনাটি ছিল দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত প্রতারণা। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৯ মে) চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানায় মামলা করা হয়েছে। ওইদিন মামলার একমাত্র আসামি ইমতিয়াজ আলমকে (২৬) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২২ বছর বয়সী ভুক্তভোগী তরুণী রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ফেসবুকে তার পরিচয় হয় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাসিন্দা ইমতিয়াজ আলমের সঙ্গে। ইমতিয়াজ চট্টগ্রামে একজন ক্রিকেটারের গাড়িচালক হিসেবে কাজ করেন। প্রথমে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠলেও পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন তিনি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জানুয়ারি ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার জসিমউদ্দিন এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে তরুণীকে দেখা করতে ডাকেন ইমতিয়াজ। সেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এরপর ৩১ মার্চ ঢাকার রাজলক্ষ্মী এলাকায় আবারও একটি হোটেলে ডেকে নিয়ে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ, ১৭ এপ্রিল একই এলাকার হোটেল সেভেন ভিউয়ের ৫০৭ নম্বর কক্ষে বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে আবারও একই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করে রাখেন অভিযুক্ত। পরে সেসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তরুণীকে নিয়মিত চাপ দিতে থাকেন। শুধু তাই নয়, ভিডিও আত্মীয়-স্বজনদের কাছেও পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

একপর্যায়ে ব্ল্যাকমেইলের মুখে গত ১৪ মে তরুণী ঢাকার বাসা থেকে তার বড় বোনের আলমারিতে থাকা ৭ লাখ টাকা নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তার ধারণা ছিল, টাকা দিলে এবং বিয়ে হয়ে গেলে হয়ত নির্যাতন ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাবেন। কিন্তু চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে পৌঁছানোর পর অভিযুক্ত তাকে কোতোয়ালী থানার স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে তার কাছ থেকে কৌশলে ৭ লাখ টাকা, প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের ৬ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন এবং প্রায় ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভুক্তভোগীর বড় বোন বলেন, আমাদের কোনো ভাই নেই। আমরা দুই বোন। সে আমার ছোট। এত বড় বিপদের মধ্যে ছিল, কিন্তু কিছুই বুঝতে দেয়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান পরিচয় দিয়ে ফেসবুকে সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে আমরা জানতে পারি, সে বিবাহিত এবং পরিকল্পিতভাবে আমার বোনকে ব্যবহার করেছে।

তিনি বলেন, ‌‌‘পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার মোবাইল ফোন দেখে আমরা শিউরে উঠেছি। আমার বোনের অসংখ্য আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সেখানে পাওয়া গেছে। শুধু ভিডিও ধারণই নয়, একটি নারীর নামে ভুয়া আইডি খুলে টাকার বিনিময়ে এসব ভিডিও কয়েকজনকে দেখানো হয়েছে বলেও আমরা জেনেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‌‘এই ভিডিও দিয়েই আমার বোনকে ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণ করত সে। আমি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে জড়িত হওয়ায় বাসায় অনেক সময় নগদ টাকা থাকে। বিয়ের কথা বলে আমার বোনকে টাকা নিয়ে চট্টগ্রামে ডেকে আনা হয়। এখন সে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।’

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আল আমিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।