বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২৬
ফিচার শিল্প-সাহিত্য

পাবলো নেরুদা : সংগ্রামী মানুষ-রাজনীতির কবি

রতন কুমার তুরী »

স্প্যানিশ ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি পাবলো নেরুদা। লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বেশি পঠিত কবিদের মধ্যে অন্যতম এবং শ্রেষ্ট। রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, বিপ্লবী, প্রেমিক, নোবেলজয়ী এমন অসংখ্য অভিধা তাঁর নামের সঙ্গে একাকার হয়ে যায়। তিনি ১৯০৪ সালের ১২ জুলাই চিলির পারলাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
কবি হিসেবে নেরুদা যেমন বিশ্বব্যাপী তুমুল আলোচিত, তেমনি তাঁর রাজনৈতিক জীবন আজও আলোচনার খোরাক জোগায়। ১৯৭০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চিলির কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে তাঁকে মনোনীত করা হয়েছিল। পরে স্যোশালিস্ট পার্টির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে চিলির গণ ঐক্য ব্লকের পক্ষে নেরুদার দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা কমরেড সালভাদোর আলেন্দেকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়। আলেন্দে বিজয়ী হন। কিন্তু ১৯৭৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এক সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আলেন্দে ক্ষমতাচ্যুত হন। তারপর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এসব ঘটনা পাবলো নেরুদাকে প্রচণ্ডভাবে নাড়া দিয়ে যায়। বন্ধু আলেন্দের মৃত্যুর মাত্র ১২ দিন পর ১৯৭৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পাবলো নেরুদা সান্তিয়াগোতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুও পরবর্তীকালে বিতর্কের জন্ম দেয়। সরকারিভাবে দাবি করা হয়েছিল, তিনি ক্যানসারের কারণে মারা গেছেন। কিন্তু পরে অভিযোগ ওঠে যে তাঁকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হতে পারে। জীবনদর্শন হিসেবে মার্ক্সবাদকে গ্রহণ করার পর থেকেই পাবলো নেরুদার কবিতা পায় প্রচণ্ড গতি, ভরাট নদীর মতো কানায় কানায় ভরে ওঠে আর তা আছড়ে পড়ে শতাব্দীর পোড় খাওয়া মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে।
১৯১৭ সালে স্থানীয় একটি পত্রিকায় পাবলো নেরুদার কবিতা প্রথম প্রকাশিত হয়। পিতার মৃত্যুর পর তিনি সান্তিয়াগোতে চলে আসেন। সাধারণভাবে সাংবাদিকতা শুরু করলেও মূলত কাব্য সৃষ্টিতেই তিনি মনোনিবেশ করেন।
পাবলো নেরুদা ১৯০৪ সালের ১২ জুলাই পারলালে এক রেলশ্রমিকের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। আসল নাম রিকার্দো এলিয়েসের নেফতালি রেইয়েস বাসোয়ালতো। নিকটবর্তী টেমুকো শহরেই তিনি বেড়ে ওঠেন। ১৯২৩ সালে ১৯ বছর বয়সে প্রকাশিত ‘ক্রেপুসকুলারিও’ (ছায়ার সমাবেশ)-এর লেখক হিসেবেই তিনি পাবলো নেরুদা নামটি প্রথম ব্যবহার করেন (এ সম্পর্কে অন্য একটি মতও রয়েছে। উইলিস বার্নস্টোন সম্পাদিত মডার্ন ইউরোপিয়ান পোয়েট্রি গ্রন্থে কবির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, ১৫ বছর বয়সেই ‘পাবলো নেরুদা’ ছদ্মনামে সেলবা আউস্ত্রাল পত্রিকায় প্রথম কবিতা পাঠান)। উনিশ শতকের চেকোস্লোভাকিয়ার কবি জান নেরুদার (১৮৩৪-১৮৯১) নাম থেকে তিনি ছদ্মনামের পদবিটি গ্রহণ করেন। পাবলো নেরুদা যখন কবিতা লেখা শুরু করেছেন, তখন সমগ্র লাতিন আমেরিকার আধুনিক সাহিত্যে বিরাজ করছে এক গভীর হতাশা। নেরুদার প্রথম কবিতা প্রকাশের বছরকাল পূর্বে স্পেনীয় কবিতার রাজ্যে ‘মডার্নিজমে’র জন্মদাতা রুবেন দারিওর মৃত্যু হয়েছে। নিকারাগুয়ার এই শক্তিশালী কবি ফরাসি সিম্বলিস্টদের রীতিতে কবিতা লিখে প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর অল্প দিনের মধ্যেই মডার্নিজমের কাল শেষ হয়ে যায়।
প্রথম মহাযুদ্ধোত্তরকালে ইউরোপের শিল্পকলার ক্ষেত্রে ফিউচারিজম, দাদাইজম, কিউবিজম, সুররিয়ালিজম প্রভৃতি নানা ধরনের যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছিল, তা লাতিন আমেরিকার কবি-সাহিত্যিকদেরও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। সুররিয়ালিজমের ফ্রি ফর্ম তাঁদের আকৃষ্ট করে বিশেষভাবে। পাবলো নেরুদাও সমাজের অন্ধকার ও উজ্জ্বল দিকগুলো বর্ণনা করতে গিয়ে একটা নিজস্ব ধারায় সুররিয়ালিজমকে গ্রহণ করেন। ১৯২৪ সালে নেরুদার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘কুড়িটি প্রেমের কবিতা ও একটি হতাশার গান’ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কবিকে এনে দেয় জনপ্রিয়তা। স্পেনীয় কবিতার জগতে নেরুদার আবির্ভাব হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো সবাইকে চমৎকৃত করে দেয়।
‘আজ রাতে আমি লিখতে পারি’ কবিতায় লিখেছেন:
আজ রাতে আমি সবচেয়ে বিষণ্ন পঙ্ক্তিমালা লিখতে পারি।
যেমন উদাহরণস্বরূপ লিখতে পারি, ‘রাতটি বিচূর্ণ
এবং নীল নক্ষত্রমালা দূরে কম্পমান।’
রাতের হাওয়া আকাশে ঘুরে ঘুরে গান গায়।
আজ রাতে আমি বিষণ্নতম পঙ্ক্তিমালা রচনা করতে পারি।
আমি ওকে ভালোবাসতাম এবং কখনো সে আমাকেও ভালোবাসত।
পরবর্তীকালে ইউরোপীয় সুররিয়ালিজম, সিম্বলিজম ও রিয়ালিজমের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন নেরুদা তাঁর কবিতায়। মার্ক্সবাদকে জীবনদর্শন হিসেবে গ্রহণ করার পর তিনি কাব্যে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ ও প্রতীকবাদকে মিশ্রিত করেছেন অনায়াসে। ফলে কবিতা হয়ে ওঠে আরও গভীর, আরও বাঙ্ময়।
পাবলো নেরুদা তাঁর পূর্ণতাপ্রাপ্ত নিজস্ব স্টাইল সম্পর্কে আমেরিকার কবি ও প্রাবন্ধিক রবার্ট ব্লাইয়ের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট সচেতন একটি দেশে আমি জন্মেছি। যারা লড়াই করে, তারা জনগণের কাছ থেকে পূর্ণ সমর্থন পায়। প্রকৃতপক্ষে চিলির সব লেখকই বামপন্থার সমর্থক- সেখানে কোনো ব্যতিক্রম নেই বললেই চলে। আমরা জনগণের সমর্থন পাই এবং তারা আমাদের বুঝতে সক্ষম এটা আমরা অনুভব করি, কবি হিসেবে জনতার সঙ্গে আমাদের সত্যিকার যোগাযোগ রয়েছে। আমি আমার কবিতা আবৃত্তি করি দেশের সর্বত্র প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি শহওে বছরের পর বছর, আমি অনুভব করি এটা আমার কর্তব্য। ’
পাবলো নেরুদার কাব্যধারা ক্যাস্টালিয়ান কবিতার সুমহান ঐতিহ্য আর চিলির লোকসাহিত্যের অপূর্ব ভান্ডারে সমৃদ্ধ হয়েছে। ফরাসির দুই মহান কবি শার্ল বোদলেয়ার আর তরুণ বিদ্রোহী কবি আর্তুর র‍্যাঁবোকে আত্মস্থ করেছেন তিনি গভীরভাবে। অন্যদিকে সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের কবি ভøাাদিমির মায়াকভস্কি আর আমেরিকার গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বর ওয়াল্ট হুইটম্যানকে আকণ্ঠ পান করেছেন নেরুদা। নেরুদা লিখেছেন, ‘আমরা সেই তরুণ বয়সে মায়াকভস্কির গলার স্বরে চমকে উঠলাম মিঠি মিঠি শব্দের ভুবনে আওয়াজ বাজতে লাগল যেন পুরোনো বাড়ি ধসিয়ে দেওয়া রাজমিস্ত্রির হাম্বুর।’
বহু সমালোচক নেরুদাকে ‘রাজনৈতিক’ কবিতার লেখক হিসেবে চিত্রিত করে তাঁকে খাটো করতে চেয়েছেন। যেমনটা চেষ্টা করা হয়েছিল মায়াকভস্কির ক্ষেত্রেও। পাবলো নেরুদা স্বয়ং হৃদয়ে স্পেন কাব্যগ্রন্থের একটি কবিতায় ঘোষণা করেছেন, কেন তিনি এ ধরনের কবিতা লেখেন, যা তথাকথিত সমালোচকেরা কবিতার উপকরণ হিসেবে গ্রহণ করতে নারাজ।
তিনি লিখেছেন:
ৃআর একদিন সকালে সবকিছু জ্বলে উঠল দাউ দাউ
একদিন সকালে মাটি ফুঁড়ে
লাফিয়ে উঠল বহ্ন্যুৎসব
গোগ্রাসে গিলল জীবনকে,
আর তার পর থেকে আগুন আর আওন,
তার পর থেকে শুধুই বারুদ,
তার পর থেকে রক্ত আর রক্ত।
পাবলো নেরুদার কবিতায় শুধু চিলি আর স্পেনের বন্দী ও শোষিত মানুষই উপস্থিত হয়নি, সোভিয়েত ইউনিয়নের বীর জনতা এবং প্যারাগুয়ে, বলিভিয়া, ভেনেজুয়েলা, কলম্বিয়া, পেরু, মেক্সিকো আর নিকারাগুয়ার স্বাধীনতাকামী মানুষও উপস্থিত হয়েছে। উপস্থিত হয়েছে ফ্রান্স, গ্রিস, ইতালি, বুলগেরিয়া, রুমানিয়া আর চীনের মুক্তিকামী যোদ্ধারা। ‘বিশ্বের শেষ দরদি পিতা চার্লি চ্যাপলিন’ প্রখ্যাত মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ গায়ক পল রবসন আর মেক্সিকোর সংগ্রামী চিত্রশিল্পী আলফ্রেদো সিক্যুরিয়াসও সমাদৃত হয়েছেন তাঁর কবিতায়।
পাবলো নেরুদার বিশ্ব সম্পর্কে ধ্যানধারণার পরিবর্তনে এবং মানবজাতির মুক্তিসংগ্রামে তাঁর যোগদানকে অবশ্যম্ভাবী করে তোলে স্পেনের গৃহযুদ্ধ। ১৯৩৬ সালে স্পেনের গৃহযুদ্ধের সময় নেরুদা ছিলেন সেখানে। হিটলার-মুসোলিনির সাহায্য-সমর্থনপুষ্ট জেনারেল ফ্রাঙ্কো জনপ্রিয় প্রগতিশীল প্রজাতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। ফ্যাসিবাদকে রুখতে বীর স্পেন তখন লড়ছিল, জ্বলছিল আর রক্ত দিচ্ছিল। সারা বিশ্বের গণতান্ত্রিক আর প্রগতিশীল মানুষ স্পেনের পক্ষে দাঁড়ালেন। আন্তর্জাতিক ব্রিগেডে যোগ দিলেন দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ শিল্পী-সাহিত্যিক আর বিবেকবানেরা। নেরুদা তাঁদের সংস্পর্শে এলেন। মানুষের প্রতি ভালোবাসা আর গভীর প্রত্যয় নিয়ে মাদ্রিদ প্রতিরক্ষার দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত হলো স্পেন ইন দ্য হার্ট, যার ভূমিকায় লেখা ছিল, ‘গণতন্ত্রের সৈনিকেরা এই বইয়ের কাগজ বানিয়েছেন, ছাপার অক্ষরগুলো কম্পোজ করেছেন এবং বইটির মুদ্রণ সমাধান করেছেন।’
এই কাব্যগ্রন্থের ‘শহীদ প্রজাতন্ত্রীদের মায়েদের উদ্দেশে’ কবিতায় উচ্চকণ্ঠে নেরুদা ঘোষণা করেছেন, ‘ছুড়ে ফেলে দাও/ তোমাদের শোকবস্ত্র, সঞ্চিত করো একত্র অশ্রুজল,/ যতক্ষণ না তারা পরিণত হয় অস্ত্রে।’
তারপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দুনিয়াজোড়া প্রগতিশীল মানুষের লড়াই আর দেশে দেশে কমিউনিস্টদের মহান আত্মত্যাগের ফলে বিশ্বের স্বাধীনতা, সভ্যতা আর শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি রক্ষা পেল এক অমোঘ ধ্বংসের হাত থেকে। সে সময় বামপন্থীদের সঠিক নীতি, মানবতাবোধ ও বীরত্বে আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন দেশের বিশ্বের সেরা সাহিত্যিক, শিল্পী ও বিজ্ঞানীরা কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দিলেন। তাঁদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলেন পাবলো পিকাসো, জুলিও কুরি, পল এলুয়ার, থিওডোর ড্রেইসার, পল ল্যাঞ্জেভাঁ প্রমুখ। আর চিলির পাবলো নেরুদাও যোগ দিলেন কমিউনিস্ট পার্টিতে ১৯৪৫ সালে। সে সময়েই সোভিয়েত কথাশিল্পী ইলিয়া এরেনবুর্গের একটি বইয়ের ভূমিকায় তিনি লিখলেন:
‘আজটেক, আর্জেন্টিনা বা কিউবার কোনো যুবককে কাফকা, রিলকে বা লরেন্স নিয়ে চোখের জল ফেলতে দেখলে আমার রাগ হয়।…আজ যে সংগ্রাম না করে সে কাপুরুষ। আগেকার দিনের যেসব জের কায়ক্লেশ এখনো টিকে আছে, তাদের নিয়ে মশগুল থাকা অথবা স্বপ্নের গোলকধাঁধার মধ্যে পথ হাতড়ে বেড়ানো আমাদের দিনের যোগ্য কাজ নয়।…আমাদের সংগ্রামের মধ্যেই আছে শিল্পের উৎস।’
১৯৪৮ সালে নেরুদা পুলিশের গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপন করতে বাধ্য হন। সে সময় তিনি সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে দিন কাটিয়েছেন। সাহায্য গ্রহণ করেছেন। সেসব দিনের কথা ‘পলাতক’ কবিতায় অপূর্ব সজীবতা পেয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘আমার জন্য সব দরজাই উন্মুক্ত হাট হাট খোলা।’ অবশেষে আন্দিজ পর্বতমালার সীমান্ত অতিক্রম করে তিনি আর্জেন্টিনায় চলে আসেন। তারপর তিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন ও পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলো পরিভ্রমণ করেন।
নির্বাসিত দিনগুলোতে নেরুদা কবিতা রচনা করেন অব্যাহত গতিতে এবং অত্যাচারী ভিদেলার বিরুদ্ধে যেকোনো প্রকার সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। সে সময়েই প্রকাশিত হয় নেরুদার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ ‘কান্তো হেনেরাল’, যাতে বিধৃত হয়েছে লাতিন আমেরিকার প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান সময়ের ইতিহাসের কিছু নকশা। আছে মহাদেশের অগ্ন্যুদ্‌গিরণকারী রূপ আর তার খণ্ড খণ্ড ছবি। এই কাব্যগ্রন্থের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি হলো ‘মাচুপিচুর শীর্ষে’ কবিতাটি। পেরুভিয়ান আন্দিজ পর্বতমালার ওপর অবস্থিত, প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তৈরি আমেরিকার সবচেয়ে প্রাচীন এই শহরের অস্তিত্ব মানুষের কাছে অজ্ঞাত ছিল বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশক পর্যন্ত। এই কবিতার মধ্য দিয়ে নেরুদা সমগ্র লাতিন আমেরিকার স্বপ্ন ও আশাকে তুলে ধরেছেন। অনেকের মতে, এই দীর্ঘ ভাষণধর্মী অসাধারণ কবিতাটি এ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা।

-advertise-