ফিচার এলাটিং বেলাটিং

টুপুরের স্বপ্নের ওয়ার্ল্ড কাপ

তোমাদের লেখা, তোমাদের আঁকা

ছোট্ট বন্ধু ওয়াসিফা ফুটবল নিয়ে কী সুন্দর এঁকেছে আর লিখেছে পড়ে দেখো

 

২০২২ সালের বিশ্বকাপের সময় টুপুর ছিল খুবই ছোট্ট। বয়স মাত্র সাত বছর। রাতে খেলা দেখার খুব শখ ছিল তার, কিন্তু মা বলতেন, “এত রাত জাগলে সকালে উঠতে পারবে না,” তাই টুপুর লুকিয়ে লুকিয়ে টিভির সামনে বসত। চোখে ঘুম, তবু খেলা না দেখে সে নড়ত না। যখনই খরড়হবষ গবংংর বল পায়ে মাঠে দৌড়াতেন, টুপুরের মনে হতো এ যেন সত্যিকারের জাদু!
এখন টুপুর অনেক বড় হয়েছে। স্কুলে বন্ধুদের সাথে তার সবচেয়ে প্রিয় আলোচনা হলো ফুটবল আর ওয়ার্ল্ডকাপ। ক্লাসে টিফিনের সময় কে কোন দল সাপোর্ট করে, কে সবচেয়ে ভালো খেলোয়াড়- এসব নিয়েই তুমুল তর্ক চলে।
টুপুর অবশ্যই সবসময় আর্জেন্টিনার সমর্থক। তার স্কুলব্যাগে আর্জেন্টিনার স্টিকার, খাতার মলাটে মেসির ছবি, এমনকি তার ব্যাগে তার প্রিয় নীল-সাদা জার্সিটাও আছে। একদিন সন্ধ্যায় টুপুর ছাদে বসে আকাশের তারা দেখছিল। হালকা বাতাস বইছে। দূরের এক বাসা থেকে ভেসে আসছে ফুটবল খেলার ধারাভাষ্য। টুপুর মনে মনে ভাবল, “আহা! যদি একদিন সত্যিই মেসির সঙে দেখা হতো। আমি কত কথা বলতাম!’
সে ভাবতে লাগল বিশ্বকাপের মাঠ কেমন হয়? এত দর্শকের সামনে খেলতে কেমন লাগে? মেসি কি কখনো ভয় পান? ভাবতে ভাবতেই কখন যে সে ঘুমিয়ে পড়েছে, বুঝতেই পারেনি।
পরদিন সকালে হঠাৎ দরজায় “টক টক” শব্দ। টুপুর চোখ মেলে দেখল ঘরে অদ্ভুত নীল-সাদা আলো। সে অবাক হয়ে দরজা খুলতেই দেখল – দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন স্বয়ং খরড়হধষ গবংংর!
গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি, পায়ে ফুটবল, মুখে হাসি। টুপুর তো অবাক হয়ে চিৎকার করে উঠল, “মা। মা! দেখো… কে এসেছে!” কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার পুরো বাড়িটা যেন নিস্তব্ধ। মনে হচ্ছিল সময় থেমে গেছে। মেসি হেসে বললেন, “চলো টুপুর আজ তোমাকে একটা বিশেষ জায়গায় নিয়ে যাব।” এরপর কী আশ্চর্য! দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল একটা চকচকে বাস। পুরো বাসটা আর্জেন্টিনার পতাকা রঙে সাজানো। বাসে উঠতেই টুপুর দেখল চারপাশে বড় বড় পোস্টার, ফুটবল, ট্রফি-আর ঝলমলে আলো।
হঠাৎ বাসটা উড়তে শুরু করল! টুপুর জানালা দিয়ে নিচে তাকিয়ে দেখল-নদী, পাহাড়, শহর সব ছোট হয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা পৌঁছে ঢোল এক বিশাল স্টেডিয়ামে। স্টেডিয়ামে হাজার হাজার দর্শক, সবাই চিৎকার করছে,” মেসি! মেসি!’ টুপুরের বুক ধরফড় করতে লাগল।
মেসি বললেন, “আজ তুমি আমার টিমে খেলবে।
টুপুর তো আনন্দে আত্মহারা। সে দ্রুত জার্সি পরে মাঠে নামল।
খেলা শুরু হলো। টুপুর প্রথমে একটু ভয় পাচ্ছিল। কিন্তু মেসি বললেন, “ভয় পেলে চলবে না। ফুটবল খেলতে হলে আনন্দ নিয়ে খেলতে হয়।” তারপর মেসি তাকে ড্রিবল শেখালেন। বল পায়ে নিয়ে কীভাবে দ্রুত দৌড়াতে হয়, কীভাবে পাস দিতে হয়- সব শেখালেন। একসময় মেসি টুপুরকে বলল, “টুপুর এবার গোল করো।” টুপুর সাহস করে শর্ট নিল। বল সোজা জালে। পুরো স্টেডিয়াম হাততালিতে গর্জে উঠল। আকাশে রঙিন কাগজ উড়তে লাগল। হঠাৎ বিশাল স্ক্রিনে লেখা ভেসে উঠল- “টুপুর-দ্য নিউ স্টার!” টুপুরের আনন্দে চোখ চকচক করে উঠল। খেলা শেষে মেসি তাকে একটা ছোট্ট ফুটবল উপহার দিলেন। তাতে লেখা “স্বপ্ন দেখো, পরিশ্রম করো, কখনো হাল ছেড়ো না।” ঠিক তখনই দূর থেকে ভেসে এলো মায়ের ডাক- “টুপুর! আর কত ঘুমাবি?” চোখ মেলে টুপুর দেখল সে নিজের বিছানাতেই শুয়ে আছে। জানালা দিয়ে সকালের রৌদ ঢুকছে। সে একটু মন খারাপ করে। “তাহলে সবই স্বপ্ন হিল?” কিন্তু হঠাৎ তার চোখ পড়ল টেবিলের ওপর রাথা ফুটবলের দিকে। সেখানে নীল কলমে কে যেন লিখে রেখেছে “ঘবাবৎ ংঃড়ঢ় উৎবধসরহম.” টুপুর মুচকি হেসে বলটা বুকে জড়িয়ে ধরল। সে জানে স্বপ্ন একদিন সত্যি হবেই হবে।

ওয়াসিফা আফরিন

পঞ্চম শ্রেণি

শাখা: কচট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ