কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন বিশাল পাহাড় কেটে মাটি লুটের যে চিত্র সুপ্রভাতের সংবাদদাতার মাধ্যমে সামনে এসেছে, তা কেবল পরিবেশবিধ্বংসী নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর চরম ধৃষ্টতা। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে লক্ষাধিক ঘনফুট মাটি লুট করে পাহাড়টিকে সমতল ভূমিতে পরিণত করার ঘটনাটি আমাদের শাসনব্যবস্থার স্থানীয় পর্যায়ের দুর্বলতাকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, পাহাড় কেটে সমতল করা সেই জায়গা এখন প্লট আকারে বিক্রি করা হচ্ছে এবং সেখানে নতুন করে অবৈধ বসতি গড়ে উঠছে।
অভিযোগ উঠেছে, হারবাং মৌজার বিএস ১৬৫১৩ দাগের খাস খতিয়ানভুক্ত এই পাহাড়টি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে একদল ভূমিদস্যু সাবাড় করে ফেলেছে। দিবারাত্রি শক্তিশালী এস্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কাটার এই মহোৎসব চললেও প্রশাসনের না জানবার কথা নয়। পাহাড় কেটে কেবল মাটি বিক্রি করেই ক্ষান্ত হয়নি এই চক্রটি, বরং সেই সমতল করা জমিতে এখন চলছে আবাসন বাণিজ্য। সরকারি জমি দখল করে ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি করা ফৌজদারি অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও দখলবাজরা বুক ফুলিয়ে এই কাজ করে যাচ্ছে।
বর্তমানে বর্ষা মৌসুম চলছে। পাহাড়ের এক অংশ কেটে সমতল করায় অবশিষ্ট ঢালু অংশগুলো চরম ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। এর ফলে আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসরত ভূমিহীন পরিবারগুলোর ওপর যেকোনো মুহূর্তে পাহাড় ধসের খড়গ নেমে আসতে পারে। সরকারের দেওয়া আশ্রয়ে নিরাপদ জীবনের আশায় থাকা এই মানুষগুলো এখন এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির মুখোমুখি। সামান্য বৃষ্টিপাতেও এখানে বড় ধরনের ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে, যা প্রাণহানির কারণ হতে পারে।
এই পুরো ঘটনায় সবচেয়ে হতাশাজনক দিক হলো সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নির্বিকার ভূমিকা। একদিকে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন এবং অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর—উভয় পক্ষই যেন নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে। পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে দেশে কঠোর আইন থাকলেও হারবাং এলাকায় তার কোনো প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। যখন একটি পাহাড়ের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়, তখন পরিবেশগত ভারসাম্য এমনভাবে নষ্ট হয় যা আর পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের এই ‘নীরবতা’ জনমনে প্রশ্ন তুলছে—তারা কি তবে দস্যুদের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে?
পাহাড় কাটা এবং সরকারি জমি দখলের এই মরণখেলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। আমরা মনে করি: অবিলম্বে হারবাং ব্রিকফিল্ড এলাকার ওই অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে এবং যারা প্লট কিনে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। যে সিন্ডিকেটটি এই পাহাড় নিধনের নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আসন্ন পাহাড় ধস থেকে ওই এলাকার বাসিন্দাদের বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ বা প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণের ব্যবস্থা করতে হবে এবং প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সাময়িকভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। পাহাড় কাটা রোধে ব্যর্থ স্থানীয় ভূমি অফিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
প্রকৃতি ও মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারও নেই। চকরিয়ার এই ঘটনায় প্রশাসন যদি এখনই কঠোর না হয়, তবে ভবিষ্যতে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয়ের দায়ভার তাদেরই নিতে হবে। আমরা আশা করি, জেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে হারবাংয়ের এই রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
অভিযোগ উঠেছে, হারবাং মৌজার বিএস ১৬৫১৩ দাগের খাস খতিয়ানভুক্ত এই পাহাড়টি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে একদল ভূমিদস্যু সাবাড় করে ফেলেছে। দিবারাত্রি শক্তিশালী এস্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কাটার এই মহোৎসব চললেও প্রশাসনের না জানবার কথা নয়। পাহাড় কেটে কেবল মাটি বিক্রি করেই ক্ষান্ত হয়নি এই চক্রটি, বরং সেই সমতল করা জমিতে এখন চলছে আবাসন বাণিজ্য। সরকারি জমি দখল করে ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি করা ফৌজদারি অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও দখলবাজরা বুক ফুলিয়ে এই কাজ করে যাচ্ছে।
বর্তমানে বর্ষা মৌসুম চলছে। পাহাড়ের এক অংশ কেটে সমতল করায় অবশিষ্ট ঢালু অংশগুলো চরম ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। এর ফলে আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসরত ভূমিহীন পরিবারগুলোর ওপর যেকোনো মুহূর্তে পাহাড় ধসের খড়গ নেমে আসতে পারে। সরকারের দেওয়া আশ্রয়ে নিরাপদ জীবনের আশায় থাকা এই মানুষগুলো এখন এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির মুখোমুখি। সামান্য বৃষ্টিপাতেও এখানে বড় ধরনের ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে, যা প্রাণহানির কারণ হতে পারে।
এই পুরো ঘটনায় সবচেয়ে হতাশাজনক দিক হলো সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নির্বিকার ভূমিকা। একদিকে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন এবং অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর—উভয় পক্ষই যেন নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে। পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে দেশে কঠোর আইন থাকলেও হারবাং এলাকায় তার কোনো প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। যখন একটি পাহাড়ের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়, তখন পরিবেশগত ভারসাম্য এমনভাবে নষ্ট হয় যা আর পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের এই ‘নীরবতা’ জনমনে প্রশ্ন তুলছে—তারা কি তবে দস্যুদের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে?
পাহাড় কাটা এবং সরকারি জমি দখলের এই মরণখেলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। আমরা মনে করি: অবিলম্বে হারবাং ব্রিকফিল্ড এলাকার ওই অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে এবং যারা প্লট কিনে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। যে সিন্ডিকেটটি এই পাহাড় নিধনের নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আসন্ন পাহাড় ধস থেকে ওই এলাকার বাসিন্দাদের বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ বা প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণের ব্যবস্থা করতে হবে এবং প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সাময়িকভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। পাহাড় কাটা রোধে ব্যর্থ স্থানীয় ভূমি অফিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
প্রকৃতি ও মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারও নেই। চকরিয়ার এই ঘটনায় প্রশাসন যদি এখনই কঠোর না হয়, তবে ভবিষ্যতে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয়ের দায়ভার তাদেরই নিতে হবে। আমরা আশা করি, জেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে হারবাংয়ের এই রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।


















































