ক্যাম্পাস

চট্টগ্রামে এসএসসিতে কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫ 

নিজস্ব প্রতিবেদক >>

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশীয় পয়েন্ট। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ২ হাজার ৪৪৫ জন।

---------

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত পাঁচ বছরের তুলনামূলক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ। এর আগে ২০২৪ সালে ৮২ দশমিক ৮০, ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ২৯ এবং ২০২২ সালে ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। অর্থাৎ পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই পাসের হার সবচেয়ে কম।

২০২৬ সালে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধিত ছিল। এর মধ্যে উপস্থিত ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। অনুপস্থিত ছিল ৪৬৩ জন। পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন। বহিষ্কার করা হয়েছে ১০ জনকে।

গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৪১ হাজার ৩৩ জন। উপস্থিত ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ৩৮৮ জন এবং অনুপস্থিত ছিল ৬৪৫ জন। ওই বছর পাস করেছিল প্রায় ১ লাখ ১ হাজার শিক্ষার্থী।

ছেলে-মেয়ের ফলেও বড় পতন

২০২৬ সালে ছাত্রীদের পাসের হার ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ৭২ দশমিক ১৯ শতাংশের তুলনায় ১২ দশমিক ১৬ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।

অন্যদিকে, ছাত্রদের পাসের হার এবার ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৭১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। অর্থাৎ ছাত্রদের পাসের হার কমেছে ১৩ দশমিক ১৭ শতাংশীয় পয়েন্ট।

জিপিএ-৫ কমেছে

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৯ হাজার ৩৯৮ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন। ফলে এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী কমেছে ২ হাজার ৪৪৫ জন।

২০২৬ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্রীর সংখ্যা ৫ হাজার ২৭৫ এবং ছাত্রের সংখ্যা ৪ হাজার ১২৩—বোর্ডের মূল পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ৯ হাজার ৩৯৮ জন।

 

বিভাগ ভিত্তিক পাশের হার কমেছে 

বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও পাসের হার কমেছে। ২০২৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এবার তা কমে হয়েছে ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ।

মানবিক বিভাগে পাসের হার ২০২৫ সালের ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ থেকে কমে এবার হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে গত বছর পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এবার তা কমে হয়েছে ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ।

চট্টগ্রাম মহানগরেও কমেছে পাসের হার

চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ। এবার তা কমে হয়েছে ৭৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে কমে ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশে নেমেছে। মহানগরসহ চট্টগ্রাম জেলার সামগ্রিক পাসের হারও ৭৪ দশমিক ৯০ শতাংশ থেকে কমে ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশ হয়েছে।

জেলাভিত্তিক ফলাফলে ২০২৬ সালে কক্সবাজারে পাসের হার ৫৭ দশমিক ০৯ শতাংশ, রাঙামাটিতে ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ, খাগড়াছড়িতে ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও কমেছে

২০২৫ সালে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৩৩টি। এবার তা কমে হয়েছে ২১টি। বিপরীতে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি—এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১টি থেকে বেড়ে ৮টিতে দাঁড়িয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৫ সালে পাসের হার ১০ শতাংশের মধ্যে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল ১টি, এবার হয়েছে ১০টি। ১০ থেকে ২০ শতাংশ পাসের হার থাকা প্রতিষ্ঠান ৬টি থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৮টি। ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পাসের হার থাকা প্রতিষ্ঠান ১৫৩টি থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৩৮টি।

অন্যদিকে, ৫০ শতাংশের বেশি পাসের হার থাকা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০২৫ সালের ৯৭০টি থেকে কমে এবার ৭১৪টিতে দাঁড়িয়েছে।

বোর্ডের পাঁচ বছরের তুলনামূলক পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালে ৮৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ, ২০২৫ সালে ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কমেছে ২৮ দশমিক ০২ শতাংশীয় পয়েন্ট।