ক্যাম্পাস

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ৮ বিদ্যালয়ে পাস করেনি কেউ

নিজস্ব প্রতিবেদক >>

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ৮টি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। গত বছর এ ধরনের বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল মাত্র ১টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শতভাগ ফেল করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে ৭টি।

---------

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের তুলনামূলক পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে শূন্য পাসের হার অর্থাৎ কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি—এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৮টি। অন্যদিকে, ১০০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যাও কমেছে। ২০২৫ সালে শতভাগ পাস করা বিদ্যালয় ছিল ৩৩টি, এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ২১টিতে।

শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া বিদ্যালয়গুলো হলো, ফটিকছড়ি নারায়ণহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় — শিক্ষার্থী ৩ জন, বরকল আন্দর মানিক (মাইচ চারি) জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয় — শিক্ষার্থী ১০ জন, লংগদু মহালছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় — শিক্ষার্থী ১৫ জন, সন্দীপ উরির চর জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয় — শিক্ষার্থী ১০ জন, খাগড়াছড়ি ভাইবোনছড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় — শিক্ষার্থী ১৭ জন, দীঘিনালা জারুলছড়ি হেডম্যান পাড়া উচ্চ বিদ্যালয় — শিক্ষার্থী ১৯ জন, দীঘিনালা তারাবানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় — শিক্ষার্থী ৫ জন, বাঘাইছড়ি শিজিয়াক দাজার বাজার জুনিয়র স্কুল — শিক্ষার্থী ৫ জন।

এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে কমে হয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশীয় পয়েন্ট।

ফলাফলের পরিসংখ্যান বলছে, শুধু শূন্য পাসের বিদ্যালয়ই নয়, কম পাসের হার থাকা বিদ্যালয়ের সংখ্যাও এবার বেড়েছে। ১০ শতাংশের কম পাসের হার রয়েছে এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২০২৫ সালের ১টি থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে হয়েছে ১০টি। আর ১০ থেকে ২০ শতাংশ পাসের হার থাকা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬টি থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৮টি।

অন্যদিকে, ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পাসের হার থাকা বিদ্যালয়ের সংখ্যাও ২০২৫ সালের ১৫৩টি থেকে বেড়ে এবার দাঁড়িয়েছে ৪৩৮টিতে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পাঁচ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণেও পাসের হারে ধারাবাহিক পতনের চিত্র পাওয়া যায়। ২০২২ সালে পাসের হার ছিল ৮৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ, ২০২৫ সালে ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে তা নেমে এসেছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে।

ফলে এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে শুধু সামগ্রিক পাসের হারই নয়, বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলেও বড় ধরনের অবনতি দেখা গেছে।

এবিষয়ে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হলেন অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, পাশের হার এবং জিপিএ দুই দিক থেকেই হার কমেছে এবার। সে সাথে ৮টি বিদ্যালয়ের পাশের হার হয়েছে ০%। যার বেশীরভাগই পার্বত্য চট্টগ্রামে।