সুপ্রভাত ডেস্ক »
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় একটি মেছো বিড়ালকে পিটিয়ে হত্যা করে গাছের সঙ্গে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে বেশ কয়েকজন বহিরাগত ধান কাটার শ্রমিকের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১৫ মে) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বড়দুয়ারা গ্রামের দক্ষিণ বিলে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেছো বিড়ালটিকে প্রায় সময় পশ্চিম বড়দুয়ারা গ্রামের দক্ষিণ বিলের বিভিন্ন জমিতে দেখা যেত। শুক্রবার দুপুরে বেশ কয়েকজন বহিরাগত শ্রমিক জমিতে কেটে রাখা ধান আঁটি বেঁধে নিয়ে যাওয়ার সময় মেছো বিড়ালটিকে দেখতে পান। এরপর তারা সেটিকে ধাওয়া দিয়ে ধরে পিটিয়ে হত্যা করেন এবং পার্শ্ববর্তী একটি পুকুর পাড়ের আম গাছের সঙ্গে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেন। একই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে মেছো বিড়ালটি পচে দুর্গন্ধ ছড়াবে এমন আশঙ্কায় স্থানীয় শিশুরা সেটিকে একটু দূরবর্তী স্থানে ফেলে দেয়।
স্থানীয় মো. শাহেদ নামে এক যুবক বলেন, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের এটি একটি ন্যক্কারজনক উদাহরণ। তাই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এছাড়া মেছো বিড়াল সংরক্ষণে সবাইকে আরও সচেতন হওয়া জরুরি।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মেছো বিড়াল কৃষি অর্থনীতির বন্ধু। শুধু ইঁদুর খায় তা নয়, জলাভূমির অসুস্থ মাছ ও ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ দমন করে ১০ বছরের জীবনে একটি মেছো বিড়াল ৫০ লাখ টাকার ফসল রক্ষা করে। এটি একটি নিরীহ বিপন্ন প্রাণী এবং মেছো বিড়াল হত্যা দণ্ডনীয় অপরাধ।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পদুয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রিয়াদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, বিলুপ্তপ্রায় মেছো বিড়াল সংরক্ষণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০২৫ সাল থেকে বন অধিদপ্তর সরকারিভাবে প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব মেছো বিড়াল দিবস উদযাপন করা আসছে। মেছো বিড়াল একটি শান্ত ও লাজুক প্রকৃতির বন্যপ্রাণী। এটি একসময় দেশের সর্বত্রে পাওয়া যেত, কিন্তু এখন বিলুপ্তির পথে। সাধারণত বাঘের মতো দেখতে হওয়ায় একে ক্ষতিকর মনে করে হত্যা করা হয়, যা রোধ করা লক্ষ্যে এবং একে প্রকৃতির বন্ধু হিসেবে তুলে ধরতে এই দিবসটি পালন করা হয়।


















































