নিজস্ব প্রতিবেদক »
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক অর্জন করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছে যশোর জিলা স্কুলের দুই শিক্ষার্থী।
বিশ্বের ১৭টি দেশের ৪৭০টি দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে সেরা দলগুলোর কাতারে জায়গা করে নেয় রাইয়ান সাদিক ও এস এম জাওয়াদ হোসেনের ফিউচার সায়েন্টিস্ট দল।
যশোর জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইয়ান সাদিক এবং এস এম জাওয়াদ হোসেন International Invention Innovation Competition (I3C) ও Innovation World Cup (IWC)-এ অংশ নিয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেন।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, গত ৪ ও ৫ জুন জাকার্তায় দুই দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সৃজনশীল উদ্ভাবনভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে বিশ্বের ১৭টি দেশের ৪৭০টি দল এতে অংশ নেয়। বিচারকদের মূল্যায়নে সেরা ৩০টি দলকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়। সেই তালিকায় স্থান করে নিয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী ফিউচার সায়েন্টিস্ট দল।
শনিবার জাকার্তার ইউনিভার্সিটি নেগরি মিলনায়তনে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস রেক্টর ফর কো-অপারেশন অ্যান্ড বিজনেস ড. অ্যান্ডি হাদিয়ান্টো বিজয়ীদের হাতে পদক ও সনদপত্র তুলে দেন।
এই অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী সক্ষমতার নতুন স্বীকৃতি মিলেছে। অল্প বয়সেই বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় নিজেদের মেধা ও সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়ে রাইয়ান ও জাওয়াদ দেখিয়ে দিয়েছেন, সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও বৈশ্বিক পর্যায়ে সাফল্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে।
রাইয়ান সাদিক বিশিষ্ট শিক্ষক দম্পতি ড. কামরুজ্জামান ও জেসমিন আক্তারের ছোট ছেলে। সন্তানের এই সাফল্যে পরিবার আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে এ অর্জনের পেছনে যাঁরা সহযোগিতা করেছেন, বিশেষ করে শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে পরিবার।
যশোর জিলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদীন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অসংখ্য প্রতিযোগীর মধ্যে আমাদের শিক্ষার্থীরা দুটি বিভাগেই স্বর্ণপদক অর্জন করে দেশের জন্য বিরল সম্মান বয়ে এনেছে। এটি বিদ্যালয়ের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি সমগ্র দেশের জন্যও আনন্দের।
তিনি বলেন, এ অর্জন বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে আরও উৎসাহিত করবে।
রাইয়ানের বড় ভাই ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ৬৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাফিস সাদিক বলেন, ছোটবেলা থেকেই রাইয়ানের বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল। তার এই সাফল্যে আমরা অত্যন্ত গর্বিত।


















































