টিসিবির পণ্য যাচ্ছে কোথায়?

রুমন ভট্টাচার্য <<

বুধবার বেলা ১২টা। নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের চকবাজার এলাকার ইসলামিয়া স্টোরের পাশে নিজাম মার্কেটের সামনে এসে দাঁড়ালো ট্রেডিং করপোরেশন বাংলাদেশ টিসিবির ব্যানার সম্বলিত একটি ট্রাক।
দাঁড়ানোর কিছুক্ষণ পর গাড়ি থেকে ড্রাইভার নেমে ব্যানার খুলে ফেলে। এরপর গাড়িতে থাকা দুজন শ্রমিক পণ্য নামাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। (ট্রাকের নম্বর চট্টমেট্রো-ড ১১-০৯৫৯।)
মার্কেটটির ভেতরে একটি গোডাউনে ঢুকতে দেখা গেল পেঁয়াজের বস্তা ও তেলের কার্টন। আর ৫০ কেজি ওজনের মসুর ডালের বস্তা গেল বাজারের পাশের একটি মুদির দোকানে এবং নাছির মার্কেটের দ্বিতীয় তলার রাজা ভিডিও’র পাশের একটি গোডাউনে।
গতকাল সরেজমিন চকবাজার এলাকায় এমন দৃশ্য চোখে পড়ল প্রতিবেদকের। গাড়ির সামনে যেতেই তৎপর হয়ে উঠে শ্রমিকসহ অন্যরা। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেউ কিছু বলতে চায়নি। তারা সকলে মালামাল নামাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
টিসিবির নিয়ম অনুযায়ী গোডাউন ও দোকানে এসব পণ্য বিক্রির সুযোগ নেই। ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে নির্ধারিত স্পটে পণ্য বিক্রি করতে হয়। কিন্তু চকবাজারে এই অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছে। যেন দেখার কেউ নেই। তবে চকবাজার নয়, প্রায়ই স্থানে একই অবস্থা। বিভিন্ন স্থানে টিসিবির ট্রাকে শুধু পেঁয়াজ মিলছে। আর অন্য কোনো পণ্য দেওয়া হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে ১০ কেজি পেঁয়াজ কিনলে ২ লিটার তেল দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, চকবাজারে টিসিবির ট্রাকের দেখা মেলে কালেভদ্রে। কখন আসে কখন যায় কেউ জানে না। ডিলার পণ্যগুলো সব বাইরে বিক্রি করে দিয়ে চলে যায়। ফলে সাধারণ মানুষেরা টিসিবির পণ্য পায় না। এলাকাবাসী এসব অনিয়মনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পেঁয়াজ ও তেল যার গোডাউনে ঢুকেছে তার নাম বিশ্বজিত দেব (ভানু)। এলাকায় তাকে সবাই ভানু নামে চেনে। এর আগেও টিসিবির পেঁয়াজ ও তেল ঢুকেছে তার গোডাউনে। তিনি পরে চকবাজার কাঁচাবাজারের সামনে ট্রাকে করে পেঁয়াজগুলো ন্যায্যমূল্যের ব্যানার লাগিয়ে বিক্রি করে। তেল বিক্রি করে এলাকার বিভিন্ন মুদি দোকানে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ আঞ্চলিক কার্যালয় চট্টগ্রাম এর উপ-ঊর্ধ্বতন কার্যনির্বাহী (অফিস প্রধান) জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, নগরে বিভিন্ন ওয়ার্ডে আমাদের পণ্য বিক্রির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে গোডাউন কিংবা দোকানে এসব পণ্য বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে নির্ধারিত জায়গায় অবশ্যই পণ্য বিক্রি করতে হবে। যেসব ডিলার আমাদের শর্ত ও নিয়ম মানবে না তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’