মা জীবনের আলোর শিখা
উৎপলকান্তি বড়ুয়া
সকালবেলা রোদের মাখামাখি
নীরব চেয়ে থাকি
রঙতুলিতে মনের মতো মায়ের ছবি আঁকি|
লাগলে পিয়াস তৃষ্ণা মেটাই জলে,
দেখতে কী ঝলমলে-
পৃষ্ঠা জুড়ে বর্ণমালা মায়ের কথা বলে|
বাতাস ছড়ায় পাতার বুকে সুখ,
কী আনন্দটুক-
কল কল কল ঢেউ নদী জল মায়ের হাসি মুখ|
নদীর কোলে পাল তোলা নাও ভাসে,
খুশির জোয়ার ঘাসে-
মায়ের অতুল পরশ-ছোঁয়ায় দুঃখ সকল নাশে|
আদর স্নেহের পাগল আমি তুমি
সুখেরই ঝুমঝুমি,
মা ছাড়া হায় মন অসহায় ধূ ধূ মরুভূমি|
সবুজ লতা অবুঝ সবুজ বন,
মায়ার আলিঙ্গন-
মা জীবনের আলোর শিখা শ্রেষ্ঠ পরম ধন|
ছেলের প্রতি ভালোবাসা
সোহানুজ্জামান মেহরান
ঠিক দুপরে সন্ধ্যা যেন ঘনিয়ে এলো
আকাশ ছেপে মেঘের মিছিল ভীষণ রকম,
ঘর কাঁপানো তীব্র হাওয়া এলোমেলো
ঝড়তুফান কি সোনার এ ঘর করবে জখম!
বাইরে থাকা কাপড়গুলো তুলল ঘরে
কী রেখে মা কী করবেন? পায় না কিনার!
ছাগল দুটো চেঁচাচ্ছিল মরার ডরে
একলা বাড়ি, বুকে জাগে ব্যথার মিনার|
ঝুম ঝুম ঝুম বৃষ্টি এলো এক পলকে
ঘরে ফেরার সময় যখন ঘনিয়ে যায়,
মায়ের হৃদয় উথলে ওঠে ছেলের শোকে
বারান্দাতে নীরব মনে, দুঃখ বেজায়|
এমন সময় ওই দেখা যায় ছেলেটারে,
বিজলি তখন চমকাচ্ছিল মুহুর্মুহু,
ভেজা শরীর পড়ছে নুয়ে ব্যাগের ভারে
দেখেই মায়ের বুকটা কাঁদে হুহু-হুহু|
শাড়ির আঁচল দিয়ে মা তাঁর মোছে মাথা,
বুকে টেনে কপালে দেয় চুমো এঁকে,
তবেই মায়ের শান্ত হলো চোখের পাতা
ছেলেকে তাঁর পরাণ ভরে দেখেদেখে|
মায়ের হাসি
আ.ফ.ম.মোদাচ্ছের আলী
মা মা বলে ডাকি যখন
হয় জীবনের গান
মা মা বলে ডাকি যখন
বুকে বাজে তান|
মা মা বলে ডাকি যখন
দূর হয়ে যায় ভয়
মা মা বলে ডাকি যখন
বিশ্ব করি জয়|
মা মা বলে ডাকি যখন
সুখ আনন্দে ভাসি
ভুবনজয়ী শান্তি সুবাস
আমার মায়ের হাসি|
পাখির মা
অপু বড়ুয়া
এক যে ছিলো মিষ্টি কথার
দুষ্টু টিয়া পাখি
মায়ের সাখে ছিলো যে তার
দারুণ মাখামাখি|
হঠাৎ যদি মা মা বলে
ডাকলে আমি মাকে
সে-ও শুরু করতো মা মা
কে থামাবে তাকে|
মা-ও তখন বলতো হেসে
দাঁড়া, খানিক দাঁড়া
দুটি পাখির মা হয়েছি
কার ডাকে দিই সাড়া|
আমার প্রথম পৃথিবী
রিনিক মুন
রান্নাঘরের শব্দে যখন সকালটা শুরু হয়,
মায়ের হাতের এক ছোঁয়াতেই কেটে যায় সব ভয়|
ছেঁড়া জামাটায় তালি দিতে দিতে বুনেছেন কত সুখ,
একটু হাসিতে ভরে যেতো ঠিক আমার ছোট্ট মুখ|
এখনো যখন চোখ দুটো বুজি, ভাসে সেই চেনা হাসি,
মা মানে তো এক আকাশ মমতা, যাতে রোজ ফিরে আসি|
টিফিন বক্সে গুছিয়ে দেওয়া ভালোবাসার ঘ্রাণ,
রোদে পুড়ে পুড়ে ফিরলে আঁচলে মুছিয়ে দিতেন প্রাণ|
মা মানে তো শুধু এক নাম নয়, গভীর নির্ভরতা,
বুকের ভেতর জমিয়ে রাখা সে অবুঝ নীরবতা|
অ আ ই ঈ শেখার দিনে হাতটি ধরেছিলেন যিনি,
সারাটা জীবন পার হয়ে গেলেও তাঁর কাছে আজও ঋণী|
ব্যস্ত শহরে ঘড়ি ধরে চলি, যান্ত্রিক হয় মন,
তবু কেন জানি মাকে মনে পড়ে আমার সারাক্ষণ|
ফোনটা এলেই ওপাশ থেকে সেই অতি চেনা সুর,
মুহূর্তে সব ক্লান্তি আমার হয়ে যায় বহুদূর|
খাওয়া হলো কি না, শরীরটা ভালো? একই কথা বারবার,
মায়ের মতো আগলে রাখার সাধ্য আছে কি আর?
মা মানে এক নীরব শাসন, মা মানে এক আশ্রয়,
পৃথিবী যখন বড়ই কঠিন, মায়ের বুকেই জয়|




















































