নিজস্ব প্রতিবেদক »
নগরের মেহেদীবাগে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই উদ্বোধন হচ্ছে একটি ১০ তলা হাসপাতাল ভবন। এতে ভবনের কাঠমোগত ত্রুটির কারণে যে কোনো সময়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরের ব্যস্ততম মেহেদীবাগ এলাকার মূলসড়ক লাগোয়া ১০ তলা আবাসিক কাম বাণিজ্যিক ভবনটির অবস্থান। এর পেছনে রয়েছে সিডিএ’র অফিসার্স কোয়াটার।
জানা যায়, নির্মাণের সময় হাসপাতাল হিসেবে ভবনটির অনুমোদন নেওয়া হয়নি সিডিএ’র কাছ থেকে। হাসপাতাল হিসেবে শুধু অনুমোদন নেই তা নয়, ভবন নির্মাণে ফায়ার সার্ভিসেরও কোন এনওসি নেই। নেই পরিবেশের ছাড়পত্রও। এছাড়া হাসপাতালের নিচে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থাও রাখা হয়নি। ফলে সড়কে যানজটের আশঙ্কাও রয়েছে। এসব অব্যবস্থাপনার মধ্যেই এখানে গড়ে তোলা হচ্ছে ‘এরিস্টো কেয়ার’ নামে একটি হাসপাতাল। সবকাজ একেবারেই শেষ পর্যায়ে। শুধু উদ্বোধন করাটা বাকি রয়েছে। সেটাও কয়েকদিনের মধ্যে সেরে ফেলা হবে বলে জানা গেছে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে।
সিডিএ থেকে পাওয়া তথ্য মতে, আবাসিক কাম বাণিজ্যিক ভবনটি নির্মাণে ২০২২ সালের ২১ আগষ্ট সিডিএ অনুমোদন দেয়। জমির মালিক মঞ্জুরুল ইসলাম গং এর সাথে ২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর হাসপাতাল করার জন্য ডা. তৌফিক হোসেন ও ডা. ফজল করিম বাবুল চুক্তিবদ্ধ হন। এই ভবনে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ২০টি পিলার স্থাপনের কথা থাকলেও করা হয়েছে ১৭টি। এতে ভবনটিতে ঝুঁকি বেড়ে যায়। নকশায় অনুমোদন ছিল একটি লিফট। কিন্তু স্থাপন করা হয় তিনটি লিফট। এতে ভবনটিতে মারাত্মক ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এসব অসঙ্গতি দেখে গত ২০২৪ সালের ১৯ আগষ্ট উল্লিখিত ভবনের মালিককে শো’কজ করে সিডিএ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এতে কর্ণপাত করেননি ভবন মালিকরা। এরপর গত বছরের ২৮ জানুয়ারি সিডিএ’র অথরাইজড অফিসার-২, তানজিব হোসেন ভবন মালিকদেরকে আবারও শো’কজ করেন। নগরের মেহেদিবাগ সড়কটি খুবই ব্যস্ততম। এই সড়কের পাশে সিডিএ’র অনুমোদন ছাড়া কোন ধরনের হাসপাতাল/ক্লিনিক/ডায়াগনস্টিক সেন্টার না করতে নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল ওই শো’কজ নোটিশে। এতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়ার আগ পযন্ত সকল প্রকার কাজ বন্ধ রাখার নিদের্শ দিলেও ভবনের কাজ বর্তমানে শেষ করে তা উদ্বোধনের অপেক্ষা রেখেছেন ভবন মালিক ও সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা।
এই বিষয়ে সিডিএ’র অথরাইজড অফিসার-২, প্রকৌশলী তানজিব হোসেন জানান, এই ভবনে হাসপাতাল করার জন্য অনুমোদন দেয়নি সিডিএ। আমরা এখানে মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করেছি। কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছি কয়েকবার নোটিশ দেওয়ার মাধ্যমে। হাসপাতালের মতো ষ্পর্শকাতর স্থাপনা নির্মাণে যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে সিডিএ’র চেয়ারম্যান মহোদয় জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন।
ভবন মালিক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এসব বিষয় জানিনা। ভবনটি ভাড়া দিয়ে ফেলেছি হাসপাতাল করার জন্য।’
এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরিবেশের অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম (মহানগর)-এর সহকারী পরিচালক মুক্তাদির হাসান জানান, ওই ভবনে হাসপাতালের অনুমোদনের বিষয়টি এই মুহূর্তে আমার নলেজে নেই।
নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি আশিক ইমরান এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে মেহেদীবাগ আবাসিক এলাকায় এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার কোনো সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে অনেকেই আবাসিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে পরে হাসপাতাল গড়ে তুলছে। আর অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে ঝুঁকির বিষয়ে বলা যায়, ভবন নির্মাণে নির্দিষ্ট অভিজ্ঞ প্রকৌশলীর পরামর্শ অনুযায়ী যদি স্ট্রাকচারাল ডিজাইন মাফিক ভবনের ফাউন্ডেশন, কলাম, পিলার ইত্যাদি যথাযথভাবে নির্মাণ করা হয় তাহলে সমস্যার কথা নয়। কিন্তু যদি প্রপাার ডিজাইন ফলো না করা হয় সেক্ষেত্রে ঝুঁকি তো থাকবেই ; এমনকি পুরো ভবনও ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকবে।
এই বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের পরিচালক ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, ভবনটি আমরা পরিদর্শন করেছি। ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত অনুমোদনের বিষয়টি সিডিএ’র। আমরা হাসপাতাল ও চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যাপারগুলো পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠিয়েছি।


















































