শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা জোরদার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষে গাজীপুরে ‘মৌলিক সাংবাদিকতা ও নৈতিক প্রতিবেদন’ বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল কনভেনশন হলে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় গাজীপুরে কর্মরত প্রায় ৮০ জন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার হাতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সহযোগী সদস্যপদের সনদ তুলে দেন। এ সম্মাননা গ্রহণ করে আবেগাপ্লুত জেলা প্রশাসক বলেন, এই স্বীকৃতি আমাকে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে। সাংবাদিক সমাজের এই সম্মান ও ভালোবাসা আমি আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখব।
কর্মশালায় প্রথম পর্বে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। দ্বিতীয় পর্বে মুক্ত আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ।
বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন সবুজ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম। কর্মশালার প্রশিক্ষণ পর্ব পরিচালনা করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া। এছাড়া ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের দেবাশীষ রঞ্জন সরকার সাংবাদিকতার পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা, সততা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, দেশে বর্তমানে এআইর যুগে সত্য মিথ্যা নির্ধারণ করে তথ্য সরবরাহ করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। আগামীতে দেশে অপসাংবাদিকতার রোধকল্পে সাংবাদিকতার যোগ্যতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার। এক্ষেত্রে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্র ও ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা এবং তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা সাংবাদিকতার মূল কাজ। এটি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনগণের অধিকার রক্ষা করে এবং সমাজে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।
এ সময় অন্যান্য বক্তারা বলেন, সৎ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করে এবং সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। কোনো অপশক্তির কাছে গণমাধ্যমকে পরাজিত হতে দেওয়া যাবে না। সত্যনিষ্ঠ, সাহসী ও নৈতিক সাংবাদিকতার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অটুট রাখতে হবে। শিশু ও নারীর অধিকারসংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতা, তথ্য যাচাই এবং ভুক্তভোগীর মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে গণমাধ্যমকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।
কর্মশালায় সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালা, নৈতিক প্রতিবেদন তৈরির কৌশল, তথ্য যাচাই, শিশু সুরক্ষা, শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহবিষয়ক আইন এবং গণমাধ্যমের সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ‘ভালো কাজের ভালো মানুষ’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে গাজীপুরের তিনটি নিঃস্বার্থ সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম নিয়ে নির্মিত তিনটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি) প্রদর্শন করেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এবং ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


















































