এ মুহূর্তের সংবাদ

ফটিকছড়িতে সম্পত্তির লোভে স্বামীকে হত্যাচেষ্টা

গ্রেপ্তার স্ত্রী-সন্তান

সুপ্রভাত ডেস্ক »

ফটিকছড়ির বক্তপুর ইউনিয়নে প্রবাসফেরত এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তার স্ত্রী ও সন্তানদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত মোহাম্মদ শাহ জাহানের বোন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে।জানা যায়, বৃদ্ধ আবুল হাসেমের ছেলে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ শাহ জাহান দীর্ঘ ৩০ বছর কুয়েতে প্রবাস জীবন কাটিয়ে সম্প্রতি দেশে ফেরেন।

তিনি ২ কন্যা ও ১ পুত্র সন্তানের জনক। প্রবাস জীবনে উপার্জিত অর্থ দিয়ে স্ত্রী কামরুন নাহারের নামে প্রায় ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং দ্বিতল ভবনসহ একাধিক সম্পত্তি গড়ে তোলেন।
এছাড়া তিনি নিয়মিত বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভরণপোষণ করতেন। 

এসব বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। দেশে ফেরার পর ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে ২ লাখ টাকা চাইলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ চরমে পৌঁছায় এবং তারা একই ভবনের পৃথক কক্ষে বসবাস করছিলেন। ঘটনার দিন ২৮ এপ্রিল দিবাগত রাত ৩টার দিকে স্ত্রী কামরুন নাহার জুমুর শাহ জাহানের কক্ষের দরজায় ধাক্কা দেন। ঘুম থেকে উঠে দরজা খুললে তিনি কিছুক্ষণ পাশে শুয়ে থাকেন। পরে মশার কয়েল জ্বালানোর কথা বলে কক্ষ ত্যাগ করেন।

কিছুক্ষণ পর তিনি ছেলে শাহারিয়ার জাহান আতিক ও মেয়ে শাহারিয়া জাহান আরিফাকে সঙ্গে নিয়ে ফিরে এসে শাহ জাহানের হাত-পা চেপে ধরে। এসময় স্ত্রী তার বুকের ওপর উঠে গলা চেপে ধরেন এবং ছেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

একপর্যায়ে তাকে মৃত ভেবে হামলাকারীরা কক্ষ ত্যাগ করে। পরে জ্ঞান ফিরে পেলে শাহ জাহান বাথরুমে গিয়ে স্থানীয় মুরব্বীদের ফোনে খবর দেন। তারা এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নাজিরহাট মেডিক্যালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় তার বোন সুমি আক্তার বাদী হয়ে ভাইয়ের স্ত্রী কামরুন নাহার জুমুর (৪১), ছেলে শাহারিয়ার জাহান আতিক (১৯) ও মেয়ে শাহারিয়া জাহান আরিফাকে (২২) আসামি করে এবং আরো ২-৩ জনকে অজ্ঞাত উল্লেখ করে ফটিকছড়ি থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুমন জানান, সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাহ জাহানকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে আসামিরা ঘটনাটি ডাকাতি বলে চালানোর চেষ্টা করলেও পরে জিজ্ঞাসাবাদে প্রকৃত ঘটনা স্বীকার করে।

ফটিকছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ভিকটিমের বোন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সাথে জড়িত স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার সত্যতা স্বীকার করেছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।