ফিচার এলাটিং বেলাটিং

ছড়া ও কবিতা

মনের দরজা খুললো

লিটন কুমার চৌধুরী

হঠাৎ বাতাস ধুলো করে ওড়াউড়ি
কিশোর তখনো ওড়াচ্ছে তার ঘুড়ি।
অঝোরে মেঘের গুঞ্জন ডাকাডাকি
আতঙ্কে ডাকে ডানা ঝাঁপটিয়ে পাখি।

কিশোর বুঝেছে চলে যেতে হবে ঘরে
না হয় ভিজবে কাল বৈশাখি ঝড়ে
ছুটে যায় দ্রুত আলপথ ধরে বাড়ি
কতো পাখিদের কান্নার আহাজারী।

চৈত্র দুপুরে কাল বৈশাখি ঝড়
ডাল ভেঙে যায়, ভেঙে যায় কতো ঘর।
মাঠঘাট সব নীরবে রয়েছে ঢাকা
ঘরদোরহীন কাক ডেকে যায় কা কা।

দিন কি রাত্রি আলো আজ পথ হারা
কিশোর বন্দি সবকিছু খাপছাড়া।
দুপুর পেরিয়ে হঠাৎ রৌদ্রে ফিকে
মনের দরজা খুললো চতুর্দিকে।

 

 

ছবির মতো দেশ

সোমা মুৎসুদ্দী

ছবির মতো দেশটি আমার
আগলে রাখে বুকে
দখিন হাওয়া যায় বয়ে যায়
অজানা এক সুখে।

নদীর ওপর বয়ে চলে
নৌকা সারি, সারি
নদীর পাড়েই স্বপ্ন সুখের
আমার মাটির বাড়ি।

পুব দিকেতে পাহাড় আছে
পাখপাখালির গান
সবুজ মাঠে মনের সুখে
কৃষক ফলায় ধান।

গানের এদেশ প্রাণের এদেশ
থাকে হৃদয় জুড়ে
প্রজাপতির রঙিন ডানায়
কিশোর এ-মন ওড়ে।

 

 

এমন করে বৈশাখ আসে

সুজন সাজু

মেঘের কোলে চোখ রাঙানি গোমড়া কালো মুখে,
বিজলি বাতি চমকিয়ে যায় কে যেন দেয় ফুঁকে।
এই নামিবে হাওয়া ঝরো
দেয় জাগিয়ে মনে ডরও
কী জানি আজ হয় রে,
কালবৈশাখি হলে শুরু বিরামহীনা বয় রে।

দেয় ভেঙে দেয় গাছ গাছালি নেয় উড়িয়ে ঘর বাড়ি,
চেয়ে থাকি কা- সকল রুদ্রমূর্তি তারই।
অমন রূপে আসে যখন
দুমড়ে মুচড়ে দে যে তখন
উপায়হীনা থাকি,
এর পরেও বৈশাখ এলে স্বপ্ন বুকে আঁকি।

নিয়ে আসে নূতন সাজন রূপ প্রকৃতি রাঙে,
ফুল ফসলে ভরে ওঠে মন সকলের চাঙে।
আশার পাখি পাখনা মেলে
চড়তে থাকে খুশির রেলে
ছোটে অনেক দূরে,
এমন করে যায় এসে যায় বৈশাখ ঘুরে ঘুরে।

 

 

এই বৈশাখে

ওয়াহিদ ওয়াসেক

এইটা পেঁচা, এইটা ইলিশ
এইটা শাদা বক-
এই বৈশাখে জীবনটা হোক
ঝকঝকে ঝকঝক!

এইটা খলই, এইটা কলস
এইটা রঙিন ঘুড়ি;
এই বৈশাখে দুঃখগুলো-
যাক-না উড়িউড়ি!

এইটা বাঁশি, এইটা ঢোলক
এইটা রঙিন ফুল-
এই বৈশাখে সুখ-রা নাচুক
দোদুল দোদুল দুল!

এইটা হাঁড়ি, এইটা কুলো
এইটা মাটির শরা;
এই বৈশাখে দূর হয়ে যাক-
জীর্ণ এবং জরা!

 

 

জব্বর মিয়ার বলি খেলা

বিভাস গুহ

জব্বর মিয়ার বলি খেলাৎ
কঅন কঅন যাইবা আইয়ু
যিয়ান চাইবা ইয়ান পাইবা
খানাপিনাও খাইয়ু।

পঅরইন ঝাঁডা কুলা ঢালা
বইটকুনি দা ছুরি
কিনি লইবা দরদাম গরি
মেলাৎ ঘুরি ঘুরি।

নানান ডইল্যা মাডির জিনিস
মননান লই যায় কাড়ি
ফিইরতু ন চায় জিনিস এগিন
কেউ ন কিনি বাড়ি।

খাট বিছানা সোফা পালং
চাডা মাদুর পাডি
ঘুরি ঘুরি চাইতি চাইতি
দিন রাইত যাইবু কাডি।

নকশা গইরজ্যায়া বিছইন পাইবা
পাইবা বাঁশর বাঁশি
একতারা দোতরাও পাইবা
লইবা হাসি হাসি।

ঘর সাজানর বউত জিনিস
বেচাকেনা অইবু
দামেদরে যাত্তে কাডে
হেতে কিনি লইবু।

জব্বর মিয়ার বলি খেলার
দেশত আছে নাম
ইতিহাসর অংশ অইয়ে
বেয়াগরে কইলাম।

 

 

বাংলা আমার বোধ

আ. ফ. ম. মোদাচ্ছের আলী

তপ্ত রোদের মত্ত হাওয়ায়
বৈশাখ এলো ঐ
আনন্দে আজ মুখর সবাই
হালখাতা খই দই।
কৃষ্টি আমার বাঙালিয়ানা
মেঘের কোলে রোদ
আমি তুমি আপনি বলি
বাংলা আমার বোধ।

 

মন ছোঁয়া নীল

আনোয়ারুল হক নূরী

একটি মেঘের মনছোঁয়া নীল আমায় রাখে ঘিরে।
এক গোধুলির রং মিছিলে আমিও গেলাম ফিরে।
হয়ত নিবিড় এক মেঠোপথ ডাকছে যেন আমায়?
নীল মাখানো মেঘের পরী মায়ার কৌটা নামায়।
হঠাৎ শুনি আজান ধ্বনি বাড়ি ফেরার ডাক।
মন্দিরেও উঠলো বেজে মোহন সুরে শাঁখ।
আমি দেখি আনমনা এক বুড়ো কিশোর বসে।
মিছেমিছি বেড়াই শুধু স্মৃতির ডেরায় চষে।