এ মুহূর্তের সংবাদ

পোর্ট এফিসিয়েন্টলি চলার জন্য বেসরকারিকরণ করা দরকার

চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক ব্যবসায়, বন্দর ব্যবস্থাপনা, ডিরেগুলেশন, প্রাইভেটাইজেশনসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন ‘সুপ্রভাত’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে।

সুপ্রভাত: আপনি বলেছেন, সরকারের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ২০৩৪ সালের মধ্যে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ হবে। চট্টগ্রাম বন্দরকে একটি আঞ্চলিক ট্রান্সমোডাল লজিস্টিক হাবে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে। এতকিছু সম্ভাবনার বিষয় যে বন্দরকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে সেই বন্দরকে সত্যিকার অর্থে বিজনেস ফ্রেন্ডলি জোন হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আমাদের এ মূহূর্তে কোন কোন দিকে মনোযোগ দেওয়া খুব জরুরি বলে মনে করেন?

---------

মো. আমিরুল হক: ক্যাপসিটি বিল্ডিং করা ছাড়া তো এগুলো করে লাভ নেই। আনলেস ইউ হ্যাভ দি ক্যাপাসিটি- আপনি মাতারবাড়ি করছেন করেন, আপনার বে-টার্মিনাল করতে হবে, আপনার উৎস প্ল্যান তো বানাতে হবে, আপনার ফাইন্যান্স তো থাকতে হবে। আপনাকে টাকা-পয়সা নিয়ে আসতে হবে। আমি বুঝি একটা, আমরা চিটাগাং চেম্বারের বোর্ড বোঝে একটা, আমরা চিটাগংয়ের ব্যবসায়ীরা বুঝি একটা। ইফ দি চিটাগং ডেভেলপ রেস্ট অব দি কান্ট্রি উইল ডেভেলপ (যদি চট্টগ্রামের উন্নয়ন করা হয়, তবে পুরো দেশের উন্নয়ন হবে)।

একটাই কথা, চিটাগং ইজ আ রিজিওনাল হাব। এতদিন আমরা বলতাম, পায়রা, পায়রা। কিন্তু পায়রাতে কোনো লাভ হয়নি। সো ইউ হ্যাভ টু মেক ডেভেলপমেন্ট অফ চিটাগং, ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমি যদি অ্যাপ্লাই করতে হয় তাহলে ইউ হ্যাভ টু হ্যাভ ইট ফ্রম চিটাগং।

মাতারবাড়ি এখানে হবে, চিটাগাং পোর্টের ক্যাপাসিটি বিল্ড করতে হবে, বে-টার্মিনালের ক্যাপাসিটি বিল্ড করতে হবে তবে সামনে এখানে আরো অনেক কিছু হবে।

সুপ্রভাত: চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে সাম্প্রতিক সময়ে জলদস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। বহির্নোঙরে নিরাপত্তাহীনতা অব্যাহত থাকলে বন্দরের আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষুন্ন্ন হওয়ার পাশাপাশি বিদেশি শিপিং অপারেটরদের আস্থা কমে যেতে পারে। এ লক্ষ্যে আপনি সম্প্রতি নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে চিঠি দিয়ে কিছু প্রস্তাবনাও তুলে ধরেছেন। কতটা আগ্রগতি হয়েছে।

মো. আমিরুল হক: এ বিষয়ে নৌ-পরিবহনমন্ত্রীকে জানানোর পর তিনি কমিটি করেছেন। কমিটি করার পর চিটাগং পোর্ট, কোস্টগার্ড সবাই তৎপর হয়েছে এবং লুটের মালগুলো উদ্বার করা গেছে।

সুপ্রভাত: আর একটি আলোচিত বিষয় হচ্ছে – চট্টগ্রাম বন্দরে ট্যারিফ বৃদ্ধি, ব্যবসায়ীমহল এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এ বিষয়ে আপনি কি বলবেন।

মো. আমিরুল হক: কোনো কোনো ট্যারিফ ৪০০ পার্সেন্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। যেমন ধরেন, একটি টাগের ট্যারিফ ধরা হয়েছে ৪০০ পার্সেন্ট, কোনটার আড়াইশো পার্সেন্ট। গেট পাসকে ৪০০ পার্সেন্ট করেছে। আমাদের আন্দোলনের কারণে ট্যারিফ কমিয়েছে। বাকিগুলো কমানোর জন্য প্রত্যেক সময় লেগে আছি আমরা।

সুপ্রভাত: দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে ‘ডিরেগুলেশন’-এর কোনো বিকল্প নেই বলে ভাবা হয়। আপনি কি বলবেন?

মো. আমিরুল হক: চিটাগং চেম্বার জন্ম লগ্ন থেকে ডিরেগুলেশনের কথা বলেছে। আগের যত প্রেসিডেন্ট ছিলেন ওনারাও সবাই ডিরেগুলেশনের কথা বলেছেন। ডিরেগুলেশন হয়েছে, ডিরেগুলেশন হচ্ছে। ইট ইজ আ কনটিনিউয়াস প্রসেস। আমরা যখন একজন শিপিং এজেন্ট হিসেবে এনওসি নিতে যেতাম কাস্টমস বা পোর্টে, এনওসি নিতে আমরা আগে টাকা জমা দিতাম। টাকা জমা দেওয়ার পর পোর্টে যেতাম, কাস্টমসে যেতাম। এখন অনেক কিছুই অনলাইন করা হয়েছে। এখনো কি যেতে হয় না, হয়তো একজনকে যেতে হয়।

সুপ্রভাত: চট্টগ্রাম বন্দর বেসরকারি খাতে পরিচালনার বিষয়ে নানা রকম মতভেদ রয়েছে। প্রচলিত ধারণা, এতে আমাদের কর্তৃত্ব ক্ষুন্ন হতে পারে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ পাবে। আপনি কী মনে করেন?

মো. আমিরুল হক: জন্মের পর থেকে আমার স্বপ্ন বেসরকারিকরণ, এখনো বেসরকারিকরণ এবং সামনের দিনেও বেসরকারিকরণ। চিটাগং চেম্বার কখনো বলেনি এটা সরকারিভাবে চালাও। চিটাগং চেম্বার বিশ্বাস করে প্রত্যেকটা ট্রেড বডি বিশ্বাস করে, পোর্ট এফিসিয়েন্টলি চলার জন্য বেসরকারিকরণ করা দরকার। বিশ্বের কোনো পোর্ট নেই যেখানে বেসরকারিভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে না। প্রশ্নটা হচ্ছে, আপনি যে বেসরকারিকরন করছেন এটাতে নেগোসিয়েশন স্ক্রিপটা কী, আপনি বেনিফিটেড কীভাবে হচ্ছেন এটা হচ্ছে বড় কথা। বেসরকারিকরণ ছাড়া পোর্ট শুড নট বি রান বাই অ্যানি নন-প্রফেশনাল।

সুপ্রভাত: আমাদের বে টার্মিনালের ভবিষ্যত কী, কারণ দীর্ঘ প্রায় এক যুগের বেশি সময় (২০১২-২৬) পেরুলেও এখানে এখনো অব্দি দৃশ্যত কিছুই হয়নি। এ নিয়ে আপনার মন্তব্য জানতে চাচ্ছিলাম।

মো. আমিরুল হক: সম্প্রতি বে-টার্মিনাল বিষয়ক তিনটি মিটিংয়ে অ্যাটেন্ড করেছি আমি। বে-টার্মিনাল করার দায়িত্ব চেম্বারের না। কিন্তু পোর্টের ডেভেলপমেন্টের সাথে পার্টনার হওয়া, ওদেরকে প্রপোজ করা, পার্সু করা আমাদের দায়িত্ব। উই উইল ডু ইট ইনশাল্লাহ।

সুপ্রভাত: আমরা বন্দরে কনটেইনার জটের কথা জানি। এ সমস্যাটির কার্যকর সমাধানের উপায় কী হতে পারে বলে মনে করেন।

মো. আমিরুল হক: কনটেইনার জট এখন নেই। ভেতরে ১০, ০০০ কনটেইনার আছে অকশনের জন্য, ওটা বের করলে আর জট থাকবে না। এটা একটা অস্থায়ী সমস্যা।

সুপ্রভাত: আমাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান ঢাকায় সরিয়ে নেওয়ার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। অর্থাৎ সবকিছু ঢাকামুখী বা কেন্দ্রমুখী হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিকেন্দ্রিকরণের ব্যাপারে ব্যবসায়ী মহলের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে চট্টগ্রাম চেম্বারের ভূমিকা কী?

মো. আমিরুল হক: আপনার টার্মিনাল চলে এখানে, রিফাইনারি চলে এখানে, কেউ যদি বিপিসির হেডকোয়ার্টার এখান থাকে নিয়ে যেতে চান তাহলে তো বলতে হবে আপনি বোকার স্বর্গে বসবাস করেন। আমরা সব সময় চাই, চিটাগং ইজ দ্যা রিজিওনাল হাব ফর দ্যা গ্রেটার ইকোনোমি অফ দিস রিজিওন, অ্যান্ড উই উইল এনফোর্স অল ওভার এন্ডেভারস টু মেক ইট হ্যাভ।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ: কামরুল হাসান বাদল ও নিজাম সিদ্দিকী